Bangla Blogs (বাংলা ব্লগ)

Last updated by Venus on 27th January 2012 at 1:30 p.m. CST for Amit Chakradeo

A Message to the Wedding Couples

People in our country find it really difficult to find the right person to make the job done. Especially when it comes to capture the most important moment of their life - the WEDDING CEREMONY. Getting married is the most important event in almost all of our lives. Couples...

Posted on January 24, 2012 07:07 PM· permalink

Anonymous Goes on Megaupload Revenge Spree: DoJ, RIAA, MPAA, and Universal Music All Offline

Anonymous has sure been quiet lately, but today's federal bust of Megaupload riled 'em up good: a retaliatory strike against DoJ.gov (and plenty of other foes) leaving them completely dead. DownForEveryoneOrJustMe.com is reporting the department's site as universally nuked, and an Anonymous-affiliated Twitter account is boasting success. This is almost certainly...

Posted on January 20, 2012 06:23 PM· permalink

hellp me plese---

bolgar vai o bonar ... jorori GAZIPUR SHISHU HOSPITAL ar address dorkar karo jana thakla amake janan plese ... amar 1 dinar baccha . tar pasaber rashta somossa dakha decha . plese doya kora karo jana thaka address ta dan .

Posted on January 10, 2012 06:17 PM· permalink

Death

we all will die some day but some times i wonder why people born and why they leave us. i know this is very stupid question in this materialistic world no one even has the time to think about but i m stupid that's why i m thinking about that....

Posted on January 06, 2012 07:09 PM· permalink

online payment

if anyone wish to buy or pay any amount (where visa is accepted) through internet then plz let me inform. I may help you in this regard. Mail me, zubaeralam@gmail.com

Posted on January 05, 2012 06:29 PM· permalink

techi vai der jonno...pls help me.....!!!!!!!

techi vai ra..... khub bipod a asi... khub i sry english a likha r jonno.... but amar mozila te avro set-up kora r por kono vabe i bangla asche na.... pls pls pls help me....!!!! 2nd issue hosse amar operating system windows 7 cilo...but battery save r jonno aj windows xp install korechi...but kono...

Posted on January 04, 2012 06:35 PM· permalink

dukkho bilash

bechara amar laptop ta temporarily ahoto hobar karone banglay type korte parchina bole khoma cheye nicchi... london e porashuna kora kalin shoptahe 6 din amake 8 no bus e kore bortomane jekhane Shoreditch High Street tube station ta obosthito, tar shamne diye jatayat korte hoto. 2007 theke 2008 obdi otai chilo...

Posted on January 02, 2012 05:59 PM· permalink

red wine recipe (18+)

gotokal gelo christmas, amar hobby gulor ekta red wine banano. to nijer banano red wine khete valoi lage,hotath mone holo experience ta share kora jak. nije oto ta valo vabe dite parbona jene je blog theke ei jinish ta shiksi tar link dilam niche , apotti thake ekhuni berie jan... Click This Link

Posted on December 26, 2011 06:52 PM· permalink

Is DPE website hacked?

Tomorrow the Primary Education Completion Result will be published. I was trying to enter the DPE website from curiosity (http://www.dpe.gov.bd). But it says Page Reported Attacked? Is this really hacked?

Posted on December 25, 2011 06:11 PM· permalink

MBA

can any1 provide me the information about the funding of MBA(NSU,BRAC,AIUB)? Thanx in advance.

Posted on December 18, 2011 07:11 PM· permalink

ILO & WMI going to train people on welding

International Labour Organization & Western Maritime Institute going to train people on welding at Chittagong.The duration of this training is only for two weeks. After two weeks you will get an international certificate on WELDING. Which will really play the great role for going abroad and working their . For...

Posted on December 17, 2011 06:28 PM· permalink

Bondho, monta onek kharap !!

onek study kore ekta exam dilam, khub e kosto korlam, sararat jege kaj problem solve koralm, exam hall a jeye pura e brain stuck hoiya gelu..I feel really bad, monta khub e kharap bondho,,,,!!

Posted on December 14, 2011 06:15 PM· permalink

‘‘এ জার্নি টু বাড়ি’’

নিত্য যে পথে যাই; সেই পথের ভ্রমন কাহিনী লিখতে গেলে আখ্যানখানি সাদা-মাটা হয়ে ধরা পড়াই স্বাভাবিক। এ ভ্রমন কহিনীতে নেই অভিনবত্বের বা আশ্চার্য হবার কোন বিষয়। তবুও লিখতে যখন বসেছি - শুরু করি। আমার ভ্রমন কাহিনীর শিরোনাম- এ জার্নি টু বাড়ী- বাড়ীর দিকে ভ্রমন যাত্রা। আমি থাকি অর্থাৎ বসবাস

Posted on October 11, 2011 05:29 PM· permalink

[ডাউনলোড লিংক] The Oxford Thesaurus: An A-Z Dictionary of Synonyms....না দেখলে পস্তাইবেন কইলাম

PDF(Searchable) | 3.6 MB | 2062 page আমাদের দৈনন্দিন পড়ালেখা কিংবা লেখালেখির কাজে মাঝে মাঝেই কোনো একটা ইংরেজী শব্দের সুন্দর একটা Synonym খুজতে খুজতে অস্থীর হতে হয়না এমন লোক পাওয়া মশকিল। ইংরেজী একটা বহুল ব্যাবহৃত আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায় এর শব্দগুলোর Synonym পেতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। আমি আজকে যে

Posted on October 11, 2011 05:26 PM· permalink

হাদীস পড়ি জীবন গড়িঃ ‎*উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী*

পরম করূণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু। সকল প্রশংসা জগত সমূহের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালার। আন-নওয়াস বিন সাম'আন রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "উত্তম চরিত্র হচ্ছে নেকী, আর গোনাহ্ তাকে বলে যা তোমার মনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে এবং তা

Posted on October 11, 2011 05:13 PM· permalink

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এর মত্যু: এক হৃদয় বিদারক ঘটনা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এর মত্যু: এক হৃদয় বিদারক ঘটনা প্রিয় ভাই ও বোন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। . . আজকের পোস্টটি অতি গুরুত্বের দাবি রাখে। এই পোস্টে যে সকল বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল: ১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিদায়ের পূর্বাভাষ। ২) অসুখের সূচনা। ৩) মৃত্যুর পূর্বে ওছীয়ত। ৪) জীবনের

Posted on October 11, 2011 05:12 PM· permalink

মুসলিমের নাম নিয়ে নাস্তিকতা!!

ইদানিং বিভিন্ন ব্লগ সাইটে দেখা যাচ্ছে কতিপয় ব্যক্তি মুসলিম নাম নিয়ে নাস্তিকতা প্রচার করছেন। যা চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। আবার এরা বিভিন্ন সময় সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য ইসলামকে নিজের ধর্ম বলে থাকেন। কেন ইসলাম তথা মুসলিমদের নামে এ জগন্য মিথ্যাচার? এমনকি এরাই আবার বিয়ে সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামিক

Posted on October 11, 2011 05:10 PM· permalink

ট্রান্সশিপমেন্ট বাংলাদেশের জন্য লাভজনক(?)

ট্রানজিটের পরিবর্তে ট্রানশিপমেন্ট বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ’র (আইসিসিবি) ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ কথা বলা হয়েছে। বুলেটিনে বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত ট্রানজিট পরিকল্পনায় ভারতের ট্রাকসমূহ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে চলাচল করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশী পণ্যবাহী ট্রাকসমূহ ভারতীয় সীমানা পর্যন্ত যেতে পারবে। এটি

Posted on October 11, 2011 05:07 PM· permalink

সময় আমাদের ও আসবে সোবাব্লগ মালিক ভাইয়ারা

ক্ষমতা এমনই বুনো শুয়োর যে সে যদি নপুংশকও হয় তবুও সে তার চারপাশে একটা হেজিমনির ইলিউশান তৈরী করে। আপনাদের জোয়ান মর্দ কালে অনেক ক্ষমতা হইছে। একদিন আমাগো মত আালদের হাতেও এই দুইন্যাডা পড়ব। তখন আপনাদের কাছ থেইকা ক্ষমতার যেই হেজিমনিটা শিখছি এক্কেরে নগাদনগদ উসূল কইরা নিমু। দেখমু কোন কুত্তা কই

Posted on October 11, 2011 05:07 PM· permalink

নতুন আমি

ব্লগ পাড়ায় নতুন আমি। তাই কি লিখব বা কি লেখা উচিত আর অনুচিত কোন ধারনাই নেই। সবার সহযোগিতা চাইছি। আর সেই সাথে সবার জন্য রইল শুভকামনা

Posted on October 11, 2011 05:04 PM· permalink

তারুণ্য, বোঝার অপর নাম!!

Ssc এর গণ্ডি পেরোতে না পেরোতে স্বাধীনতার হাওয়া লাগে আমাদের মনে, প্রাণে। বুঝা যায়, মেগা সিটি বাসে একসাথে বন্ধুরা মিলে কোথাও যাওয়ার সময়, সংকোচবিহীন, দ্বিধাহীন চিত্তে অশ্লীল কৌতুক উগড়ে দিতে, পাশে বসা বাপের বয়সী ভদ্রলোকের ভ্রূকুটি, কি এসে যায় তাতে? আমি এখন স্বাধীন! এই স্যারের এই ব্যাচে ভর্তি হতে হবে, ঐ

Posted on October 11, 2011 04:59 PM· permalink

আসুন দেখি সত্য প্রতিষ্ঠা কত কঠিন

আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী তার কোন এক ওয়াজে তুলে ধরেছিলেন সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠা কত কঠিন! এই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই হয়ত আল্লাহ পাক বেশির ভাগ নবী রাসুলদের দিয়ে বকরি বা ছাগল চড়িয়েছেন। কারন ছাগল হল এমন একটি প্রাণী যাকে আপনি তার বিপদ থেকে বাঁচাতে যত নিরাপদ অবস্থানে আনতে চাইবেন সে

Posted on October 11, 2011 04:56 PM· permalink

“আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্বপুরুষগণ সকলেই ঈমানদার ছিলেন।”

وتقلبك فى السجدين অর্থ: “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিলো সিজদাকারীগণের মাধ্যমে।” (সুরা শুয়ারা : আয়াত শরীফ ২১৯) উক্ত আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, نبى الى نبى حتى اخرجتك نبيا وفى رواية اخرى مازال النبى صلى الله عليه

Posted on October 11, 2011 04:53 PM· permalink

দেশে হচ্ছেটা কি-৩

টেন্ডার নিয়ে দেশে একটা তুলকালাম কান্ড ঘটে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে যেভাবে ছাত্রদেরকে ফেলে দেয়া হলো এটা কোন মতেই কারো কাম্য হতে পারে না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিকট থেকে এই জাতি অনেক কিছুই আশা করে। আমার মনে হয় কোন অবিভাবকই এই কামনা করে না যে তার সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে

Posted on October 11, 2011 04:48 PM· permalink

কবিতা : অদৃশ্য প্রেম

অদৃশ্য প্রেম ভালবেসে ফেলেছি আমি শুধুই শুনে শুনে দেখিনিতো তোমাদের কোন কালে, জানি না কোনদিন দেখা হবে কিনা লেখা কি আছে এই ভালে। নানা-নানীর আঁচলে দাদা দাদীর কোলে শুনেছি বাবা মায়ের মুখে, কত দুখ সয়ে শত ব্যথা ভুলতে আমাদের রাখিতে চির সুখে। গেছ সবাই মরে আজও হৃদয় স্বরে পারিনা যে ভুলিতে কভু, পাও যেন শান্তি পরকালে মুক্তি দোয়া পাঠাই দরবারে প্রভূ। আমার জননীকে

Posted on October 11, 2011 04:40 PM· permalink

স্বপ্নচারীর পারে যাবার প্রতীক্ষা ও...

একটা মানুষ, প্রচণ্ড রহস্য নিয়ে কত অদ্ভুত ভাবে ধরা দেয় সবার কাছে, আমি অবাক হই প্রতিনিয়ত। গভীর ভাবে দেখা যুদ্ধবাজ একজন মানুষ। আসলে আমি জানিনা আমার দেখার চোখ আছে কি'না, সত্যিই কি আমি দেখি? আমি দেখি অপেক্ষাকে একটি রূপে, সে সমস্ত মানব কুলের মাঝে হেটে বেরায়। হেঁটে বেরায় সময়ের প্রশস্ত কাঁধে

Posted on October 11, 2011 04:38 PM· permalink

স্বপ্নের ডানায় ভেসে বেড়াই

আমার এই জীবন যেন স্বপ্নময় । জন্ম নেওয়ার আগে নাকি মা স্বপ্ন দেখেছিলেন সুন্দর ফুটফুটে একটি ছেলে তার ঘর কে আলোকিত করেছে । তারপর পৃথিবী নামক এই স্বপ্নবুনার জগতে আমার আগমন । জন্মের আগেই স্বপ্নে এসেছিলাম আমার গর্বিত মায়ের স্বপ্নভরা দুনয়নে । সেই স্বপ্নের জাল য়ে আমার মানস পটে রইল

Posted on October 11, 2011 04:35 PM· permalink

আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হব

সকল মানুষের কিছু না কিছু দায়িত্ব থাকে। আর সেই দায়িত্ব সম্পর্কে সবাই আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হবে। হাদীশ শরীফে এর ব্যাপক ধারণা পাওয়া যায়। হাদীসের দৃষ্টিতে প্রত্যেক ব্যক্তি দায়িত্বশীল। প্রত্যেকের উপর ফরয হল, দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। যদি আদায় না করে তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে এর জন্য জবাবদিহী করতে হবে।

Posted on October 11, 2011 04:34 PM· permalink

কচি সোনা

আহা কচি কচি পায়ে ছোটাছুটি করত সারাঘরে। কোন যেন বিরাম নেই। সারাদিন কেবল এই ঘর থেকে ঐ ঘরে ছোটাছুটি।ভীষণ অশান্ত ছিল দুষ্টটা। সারাবেলা কেবল একটাই টেনশান,কখন যে কোন জিনিসটা নষ্ট করে ফেলে! আর বাড়ীর প্রতিটা সদস্যও ওর পেছনে ছোটাছুটি করে ক্লান্ত থাকত সারাক্ষণ। কারন সারাঘরে কেবল ঐ একটাই ছোট

Posted on October 11, 2011 04:31 PM· permalink

অন্য অনেকে কর্মীর মত যে প্রশ্ন আমারোঃ আজকে সিলেটের জনসমুদ্রে আমীরে জামায়াত বা সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন না কেন?

এত বড় জনসমাবেশ! ৬০ কিমি লম্বা গাড়িবহর। বুক ভরা আশাছিল আমীরে জামায়াত কিংবা সেক্রেটারী জেনারেল থাকবেন আজকের মিটিং এ। এর উপরে সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকের বাড়ী এই সিলেটেই। কিন্তু তাঁদের কেউই ছিলেন না। কেন ছিলেন না তাও বুঝতে পারছিনা। সরকার কি তাদের গৃহ বন্দি করে রেখেছে? যদি গৃহ বন্দি করেই

Posted on October 11, 2011 04:28 PM· permalink

মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে একধাপ এগিয়ে গেলো চীন

মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চীন। তারা একাই শুরু করেছে মহাকাশে স্টেশন নির্মাণের কাজ। এজন্য গত সপ্তাহে তারা রকেটের মাধ্যমে পাঠিয়েছে স্টেশনের প্রথম মডিউল। আগামী বছর তারা আরও কয়েকবার রকেট উেক্ষপণ করবে মহাশূন্যে। চীনের উত্তরাঞ্চলের গোবি মরুভূমিতে জিউকুয়ান মহাশূন্য কেন্দ্র থেকে নিক্ষিপ্ত হয় রকেট ‘লংমার্চ টু এফ’।

Posted on October 11, 2011 04:25 PM· permalink

বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজকের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফটো আর্কাইভ।

অনেক দিন পর যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো এলো বড় কোন জয়ের দেখা। হোক না তা টি-টোয়েন্টি, তারপরেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই তো এসেছে এই জয়। তার উপর নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে এটাই প্রথম ম্যাচ, সেই জন্যই যে এই জয়ের মহাত্ম্য অনেক বেশী। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথমবারে মতোন প্রথম

Posted on October 11, 2011 04:25 PM· permalink

সউদী রাজপরিবার: কে তাদের প্রকৃত পূর্বপুরুষ?

সউদী রাজপরিবার: কে তাদের প্রকৃত পূর্বপুরুষ? সত্যিই কি সউদী রাজ পরিবার “আনজা বিন ওয়াইল” গোত্রের সদস্য, যা তারা দাবি করে থাকে? তারা কি প্রকৃতপক্ষে ইসলাম ধর্মের অনুসারী? আসলেই কি তারা আরব বংশোদ্ভূত? উপরের প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর সউদী রাজ পরিবারের অনেক দাবির উপর কলঙ্ক আরোপ করবে এবং যুক্তির দ্বারা অনেক মিথ্যা উদ্ধৃতি খণ্ডন করবে। অপরদিকে মুনাফিকরা [...]

Posted by জুলফিকার on October 11, 2011 03:18 PM· permalink

আউটসোরসিং নিয়ে কিছু কথা

ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় । আউটসোরসিং , অনলাইন এ আয় । যে যেভাবে বলি না কেন তাঁর অর্থ দাঁড়ায় একটায় , নতুন একটা আয়ের ক্ষেত্র , নতুন পেশা ইত্যাদি । যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এইটা খুব ই নতুন একটা ধারণা । কেননা এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুধু মাত্র শহরে বসবাস করে এমন মানুষ-জন । দিন [...]

Posted by raseldk on October 11, 2011 03:12 PM· permalink

www.find-around.com

Find Around in USA

Are you living in USA, or a tourist visiting USA? Looking for local hotels, restaurants, or travel agencies around you? Then you may visit the website of www.find-around.com. They have a huge list of restaurants, hotels and travel agencies. Search by your location, and you will get a list of all restaurants, hotels and travel agencies in your city. The search feature is very simple and user-friendly. Just type in the city and state name, or the zip code in the search box and click on search button. The website is smart enough to figure out what city you are searching in.

Following are the basic features of www.find-around.com:

 

  • Huge list of restaurants, hotels and travel agencies in USA.
  • You can filter list by each category. For e.g, Restaurants, Hotels, or Travel Agencies.
  • Easy and smart search options.
  • List of states with top cities.
  • List of hotels, restaurants and travel agencies in each city.
  • Filter by subcategory options in City page. For e.g, see a list of only Italian, Indian, or Thai Restaurants in a city.
  • Get address, telephone and driving direction to a particular point of interest.

 

Posted by Pallab on October 11, 2011 01:49 PM· permalink

কাফেররা দুশ্চরিত্র,নির্লজ্জ্ব,বিকৃত রুচির,বদ চরিত্র,নাপাক,অস্পৃশ্য,যবন,মেল্চ্ছ তার প্রমাণ (খ্রিস্টানরা)(১)

৯ অক্টোবর (রেডিও তেহরান) : দু‘দশকেরও বেশি সময় পর আবার ধর্মযাজক হলেন আত্মস্বীকৃত সমকামী স্কট অ্যান্ডারসন। গতকাল (শনিবার) অ্যান্ডারসনকে আনুষ্ঠানকভাবে ধর্মযাজক হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে স্বাগত জানানো হয়। ১৯৯০ সালে স্কট অ্যান্ডারসন নিজেকে সমকামী বলে পরিচয় দেয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাকরামেন্টো গির্জা থেকে বের করে দেয়া হয়। তবে, বার্তা [...]

Posted by BIR SANANI on October 11, 2011 01:48 PM· permalink

সউদ পরিবারের হাক্বীকত : পড়লে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন!!

প্রিন্সেস (এক সৌদি রাজকুমারীর কাহিনী) বইটা পড়ে জানলাম, ১৯০২ সালে জানুয়ারিতে আবদুল আজিজ ও তার সউদ বাহিনী খুব সহজে রশীদ বংশকে পরাজিত করে। এবং মরু উপজাতিগুলোর আনুগত্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী বছরগুলোতে আবদুল আজীজ তিন শতাধিক বিয়ে করে, যারা পঞ্চাশটি পুএ ও আশিটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এবং এদের বংশধরগনই হল বর্তমান সৌদি আরবের রাজবংশ। [...]

Posted by লাইন অব ফায়ার on October 11, 2011 01:02 PM· permalink

দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ইত্যাদি…

আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। দুপুরবেলা টিভিতে একটি সংবাদ চ্যানেলে এক সেলেব্রিটির বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাইট দিচ্ছিল। অভিনেত্রী লাল পেড়ে শাড়ি এবং প্রচুর সোনার গয়না পরে আলপনা দিচ্ছেন, এবং রাতে বাড়ির পুজোর ভোগের ফিরিস্তি দিচ্ছেন। দেখতে দেখতে ভাই বলল – আজকাল কি সবকিছু নিয়েই প্রবল হইচই হয়…এই দুর্গাপুজো গেল…আগে দুর্গাপুজোর পরে কিরকম মন খারাপ হয়ে থাকত কতদিন, আজকাল কি মন খারাপও করেনা কারোর…?

করেনা কি? করে হয়ত, হয়ত করে না। এমনিতেই তো দশমী ছাড়িয়ে দুই দিন বেশি ধরে ভাসান চলছিল। তাই মা দুগগা যেতে যেতেও থেকে যাচ্ছিলেন। টিভিতে সেই সব ভাসানের ছবি দেখলাম- কোথায় ছৌ নৃত্য করতে করতে শোভাযাত্রা যাচ্ছে, কোথাও বা ঢাকের তালে তালে নাচ, কোথাও আবার সুন্দরী নায়িকারা সিঁদূর খেলায় মাতলেন। দুঃখ- টুঃখ অনেক দূর। শোভাযাত্রার আড়ম্বরে চোখের জল উধাও। দুঃখের থেকে আনন্দের মাত্রাই যেন বেশি। বোধ হয় এই জীবন যুদ্ধে বিপর্যস্ত জেট যুগে কেউই আর বিশেষ আলাদা করে দুঃখিত হতে চায় না। তাই দুর্গাঠাকরুণ কৈলাশে পৌঁছানোর আগেই মাঝ পথ থেকে লক্ষ্মীঠাকরুণকে ফের ডেকে আনার তোড়জোর পুরোদমে। আর সেই কারণেই টিভি স্ক্রিন জুড়ে ফলমূল- নারকেল নাড়ু-কলার পেটো-ধানের ছড়ার সাথে সাথে সুন্দরী সেলিব্রিটিরাও রয়েছেন। যত আনন্দ খালি দুর্গাঠাকরুণের ভাগে, তাই বা হয় কি করে…?

আমাদের মফস্বলী ছোটবেলায় দেখতাম, দুগগাঠাকুরের ফেলে যাওয়া বিরাট বড় মন্ডপ অপেক্ষা করে রয়েছে লক্ষ্মীপুজো হওয়ার জন্য, টিমটিম করে জ্বলছে মাটির প্রদীপ – কলকাতা শহরের বিরাট বিরাট পুজোমন্ডপগুলিতে সেইরকম লক্ষ্মীপুজো হয় কিনা জানিনা। মফস্বলে তো সবাই দুগগা ঠাকুর ভাসান দেয় দশমীর দিনেই। আর এমনিতেই কম আলো। রাস্তাঘাট প্রায় অন্ধকার। তার মধ্যে দুর্গাপুজোর কয়েকদিন জেনারেটরের দৌলতে আলো ঝলমল মন্ডপ। তাই সেই কদিনে মনে হত আলো যেন অনেক অনেক বেশি। মাথা খোলা লরিতে চেপে, ব্যান্ডপার্টির বাজনার তালে তালে চড়া হ্যালোজেনের আলোতে আলোকিত হয়ে মা যখন সপরিবারে ফিরে যেতেন, তখন চারিদিকের অন্ধকার প্রেক্ষাপটে মা দুর্গাকে মনে হত আরো সুন্দর, স্পষ্ট দেখতে পেতাম মায়ের সিঁদুর-সন্দেশ মাখা মুখে কান্নাভেজা হাসি, চোখের কোণে জল। মোড়ের বাঁকে লরি ঘুরলেই সত্যি সত্যি যেন সব আলো নিয়ে চলে যেতেন মা দুর্গা। গলার কাছটা শক্ত শক্ত ঠেকত, বুকের মধ্যে মহা শূণ্যতা। তাই মনে হয় কষ্টটা অনেক বেশি করে লাগত।

বহুবছর বাংলার পুজো না দেখা, বিশেষ করে এই সুপারস্টার-মেগাস্টার পুজোর দুনিয়া সম্পর্কে আন্দাজ না থাকা আমার প্রবাসী ভাইয়ের কাছে সেই স্মৃতির নিরিখে তাই টিভির নিউসচ্যানেলের বাইট তো একটু চোখে লাগবেই…

Posted by মহাশ্বেতা on October 11, 2011 11:43 AM· permalink

গজল “জিৎ”

বাঙালী জাতটা আদতে খুবই নাক উঁচু! (জানি, এক্ষুনি হই হই করে বেশ কয়েকটা প্রতিবাদী পোষ্ট হয়তো পড়তেও পারে- তবে, আম্মো লাচার) ধরুন, একটা বাড়ীতে হয়, গেট টুগেদার, বা অনেক লোক মিলে আড্ডা, এই সব হচ্ছে! অবধারিত ভাবে, একবার না একবার গান, কবিতা, চুটকী, পি.এন. পি.সি. এইসব হবেই হবে।
ধরুন- আমি সোমেনকে ( এটা কিন্তু একটা প্রতীকি নাম) বললাম- একটা গান গাও তো হে! ও হয়তো, সুমনের গান ধরল। শোনার পর, কেউ একজন বলল- রবীন্দ্র সঙ্গীত হোক । বেশ হলো। এবার কেউ বলল- একটা হিন্দী গান হোক! অমনি- সবাই হাঁ হাঁ করে উঠবে।
অনেক তর্ক- বিতর্কের পর, বড়জোর মহম্মদ রফি বা মান্না দের গান হবে! কিন্তু- গজল? নৈব নৈব চ!
কারণ একটাই! এই গজলের কয়েকটা মুশকিল আছে। গলায় সুর না থাকলেও অন্য গান বাঙালী সাহস করে গেয়ে দেবে, কিন্তু গজল? ওরে বাবা! ওই গিটকিরি, তান, লয়- সবার ওপরে উর্দ্দু লব্জ, বাঙালী ঠিক বুঝতেও চায় না বা বলা ভালো বুঝতে চায় না! তার ওপর, ওই যে বললাম! নাক উঁচু! বাংলা ভাষার ধারে কাছে কেউ আছে নাকি?
এই ধারণাটাই ভেঙেছিলেন, সদ্য প্রয়াত জগজিৎ সিং আর গুলজার! গজল, নগমা, গীতের পার্থক্য ভুলিয়ে দিয়ে এরা ,আম বাঙালী তথা ভারতীয় বা বলা ভাল- সারা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরলেন।
শরীর থাকলেই মৃত্যু থাকবে! এটা কোনো আপ্তবাক্য নয়, প্রতিষ্ঠিত সত্য।
প্রত্যেকেই কালের নিয়মে চলে যান! কিছু কিছু লোক থেকে যান হৃদয়ের মণিকোঠায়! এরা না থেকেও আছেন।

শোক তো থাকবেই! ছাড়ুন সেই শোক! আসুন- অল্প আড্ডা মারি, জগজিৎ সিংকে নিয়ে।
জগজিৎ আর দাড়ি- টাড়ি কাটবেন না বা রেওয়াজ করবেন না, আর পাঁচটা লোকের মত বা গায়কের মত, কিন্তু থেকে যাবেন, স্মৃতিচারণে, গানের সি ডিতে।
প্রথাগত গজলের কয়েকটা নিয়ম ছিল। তবলা, সারেঙ্গী আর হারমোনিয়াম। জগজিৎ আনলেন- গীটার। তবলাকে মেলো করে দিলেন/ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারই করলেন না  । এলো বেহালা আর বাঁশী।প্রথমে, প্রচুর সমালোচনা হয়েছিল- কিন্তু সবাই জানে; সবসময়ই “ মৌলবাদী” আর “প্রগতিশীল” দের দল থাকে।

এবারে কিন্তু “প্রগতিশীল” রাই দলে ভারী হলো। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হলো ভারতের প্রথম মাল্টি চ্যানেল রেকর্ডের ( আসলে,ফোর ট্র্যক ডিজিটাল সাউণ্ড) আলবাম- বিয়ণ্ড দ্যা টাইম। বেরোতেই হই হই-চই চই!
সাউণ্ড ইঞ্জিনিয়ার, গুলজার, বাদ্যযন্ত্রী আর জগজিৎ সিং এর সমবেত প্রচেষ্টা। পরপর বেরুতে লাগল আ্যলবাম।
তবে সাফল্য এত সহজে ধরা দেয়নি তাঁর কাছে । মুম্বাইতে প্লে-ব্যাক গেয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করতে আসেন ১৯৬১ তে কিন্তু তেমন সুবিধে না হওয়ায় আবার জলন্ধরেই চলে যান | কিন্তু নতুন উদ্যমে আবার স্বপ্নের মুম্বাইতে ফিরে আসেন ১৯৬৫ এ আরেকবার চেষ্টা করে দেখার জন্যে । HMV থেকে দুটি গজল রেকর্ড হয় । পাগড়ি ও দাড়ি ছেড়ে নতুন রূপ নেন | প্লে-ব্যাক তখন অবধি স্বপ্নই…। জিঙ্গল , ডকুমেন্টারি ইত্যাদি তে সঙ্গীত পরিচালনা করেই রুজিরোজগার চলছিল | চিত্রার সাথেও সেই সময়ে দেখা ও ১৯৭০ এ পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হওয়া । চিত্রা – বাঙালী মেয়ে। চিত্রা দত্ত, সেই সময় চুটিয়ে জিঙ্গল , ডকুমেন্টারিতে গান গাইতেন।

এর পর ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে ।
তাতে সিনেমা জগতের লাভ না হলেও গজল সঙ্গীতের ক্ষয়িষ্ণু ধারা পেলো এক নবজীবন | ১৯৭৫ এ HMV র উত্সাহে তিনি চিত্রার সাথে এক অনন্য আঙ্গিকে তাঁর প্রথম গজলের LP রেকর্ড বের করলেন ‘The Unfogettables’ । প্রত্যেকটি গান অসাধারণ এবং বলাই বাহুল্য গানগুলি তাঁর নিজেরই সুরারোপিত । ব্যবহৃত হলো সারেঙ্গী ও তবলা ছাড়া অন্য বাদ্যযন্ত্র | সে রেকর্ড অসামান্য জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে গেল ।

এর পর আর পেছন ফিরে দেখতে হয়নি | বের হলো প্রথম ডাবল এলবাম ‘Come Alive’ | এর পর আরো দুটি ডাবল এলবাম ‘Live at Wembley’ এবং ‘Live at Royal Albert Hall’, লাইভ কনসার্ট থেকে, ১৯৭৯ ও ১৯৮২ তে| জগজিত-চিত্রা জুটি ততদিনে খ্যাতির তুঙ্গে |
২৮ জুলাই ১৯৯০। বিবেক, মারা গেল পথ দুর্ঘটনায়। জগজিৎ আর চিত্রা সিংএর একমাত্র সন্তান!
তার মাত্র তিন মাস আগে গানগুলো রেকর্ডিং হয়েছিল!
বিবেক বলেছিল:- বাবা, আমি এর রিভিউ ম্যনেজমেন্ট করব।আমার একটা ফোটো যেন থাকে ওই সিডির কভারে।
সেই সিডির কোনো নামকরণ হয় নি তখনও!
পরে- জগজিৎ নাম দিলেন:- সামওয়ান সামহয়্যার! চিত্রার সেই শেষ সিডি- জগজিৎ এর সঙ্গে!
তারপর অনেক ঝড়, পারিবারিক জীবনে! চিত্রা গান ছেড়ে দিলেন!
বর্তমানে তিনি পক্ষাঘাত গ্রস্তা!
মনে- আমাদের সেই গান:-

আপ কো ভুল যায়েঁ হম্, ইতনে তো বেওয়াফা নহীঁ
আপ সে ক্যা গিলা করেঁ আপ সে কুছ গিলা নহী।।

Posted by GHANADA on October 11, 2011 11:06 AM· permalink

পোকা : ঘনাদা কমিকস : পর্ব ১


পোকা : ঘনাদা কমিকস : পর্ব ১

প্রেমেন্দ্র মিত্রের অবিস্মরনিয় চরিত্র ঘনাদার অভিযান, শুভ্র চক্রবর্তীর অসামান্য ছবিতে সম্পূর্ণ রঙ্গীন বাংলা কমিকস

Posted by Sumit Roy (noreply@blogger.com) on October 11, 2011 07:47 AM· permalink

পোকা : ঘনাদা কমিকস : পর্ব ২

পোকা : ঘনাদা কমিকস : পর্ব ২

প্রেমেন্দ্র মিত্রের অবিস্মরনিয় চরিত্র ঘনাদার অভিযান, শুভ্র চক্রবর্তীর অসামান্য ছবিতে সম্পূর্ণ রঙ্গীন বাংলা কমিকস

Posted by Sumit Roy (noreply@blogger.com) on October 11, 2011 07:47 AM· permalink

উভচর মানব : দ্বিতীয় পর্ব

বিখ্যাত রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান লেখক আলেকজান্ডার বেলায়েভের গল্প অবলম্বনে অনিল কর্মকারের চিত্রনাট্য অনুযায়ী গৌতম কর্মকারের চিত্ররূপে দুর্দান্ত বাংলা কমিকস

দুই পর্বের শেষ পর্ব

Posted by Sumit Roy (noreply@blogger.com) on October 11, 2011 07:46 AM· permalink

উভচর মানব : প্রথম পর্ব

বিখ্যাত রাশিয়ান কল্পবিজ্ঞান লেখক আলেকজান্ডার বেলায়েভের গল্প অবলম্বনে অনিল কর্মকারের চিত্রনাট্য অনুযায়ী গৌতম কর্মকারের চিত্ররূপে দুর্দান্ত বাংলা কমিকস

দুই পর্বের প্রথম পর্ব

Posted by Sumit Roy (noreply@blogger.com) on October 11, 2011 07:45 AM· permalink

সাবেক পিএম ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রীর মুখের কথা রাজনৈতিক হলেও বাস্তব নয় কি?

রোডমার্চ : পথসভায় খালেদা জিয়া- * দেব-দেবীতে বিশ্বাসী সরকার মূর্তিপূজা শুরু করে দিয়েছে * আল্লাহ নয়, দুর্গাকে বিশ্বাস করে আ’লীগ * সরকার ভারতের জন্য রাস্তা তৈরি করছে * সরকারের সব দুর্নীতিবাজ * জনগণ নয়, চারবেলা খায় মন্ত্রী-এমপিরা। ‘সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে’ বলে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া [...]

Posted by জুলফিকার on October 10, 2011 11:12 PM· permalink

আমি অযোগ্য অক্ষম সালিক!

হে আক্বা শাহ দামাদ আমি অযোগ্য অক্ষম সালিক হতে পারিনি হাক্বীক্বী গোলাম নজর দিন হে মালিক। থাকি সদা বেখেয়াল পারিনা আদেশ নিষেধ মানতে রয়েছি পরে তব দ্বারে একটু নজর পেতে। আপনি বীনে আছে কি? আমার  কোন গতি দয়ার বাধানে বাধুন একটিই মোর মিনতি। হতে পারিনি ইসলাহ হতে পারিনি মক্ববুল হর হামেশায় হয় বেয়াদবি কি দিবো [...]

Posted by ছোট্ট কবি on October 10, 2011 07:58 PM· permalink

প্রাণীর ছবি প্রকাশ্যে ঘরে রাখা বা টাঙ্গানোও শরীয়তে হারাম ও নাজায়িয।

র নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবি ঘরে রাখতে নিষেধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, وما اتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا واتقوا الله ان الله شديد العقاب. অর্থঃ “আমার হাবীব যা আদেশ করেন তা পালন কর, আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো, আল্লাহ [...]

Posted by SIPAH SALAR on October 10, 2011 07:24 PM· permalink

আমাগোর দেশে এহনও বিদ্যুৎ বিভ্রান–এর সমস্যাটা আজও ঠিক করা হল না। যত দিন যায় ততই বিদুৎ সমস্যাটা অনেক বাড়ছেই …..সাধারণ মানুষ।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা কাটছে না। এ কারণে বাংলাদেশের নেওয়া হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। অথচ প্রকল্পের পেছনে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ২১০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। শেষ পর্যন্ত জটিলতা না কাটলে প্রকল্পের পুরো টাকাই পানিতে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উভয় দেশে এখন ৪০০ কেভি ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার [...]

Posted by সাধারণ মানুষ on October 10, 2011 05:10 PM· permalink

লাশ ফেরত চান স্বজনরা

এক মিসরীয়কে হত্যার দায়ে সৌদি আরবে শিরশ্ছেদ করা আটজনের পরিবারে শোকের মাতম চলছেই। তাদের পরিবারের সদস্যরা লাশ ফেরত চান। লাশ সৌদি আরবে দাফন হওয়ার খবরে তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাদের প্রশ্ন, সন্তানের লাশ মা দেখতে পাবেন না, এটা কেমন বিচার! কবর থেকে লাশ উঠিয়ে দেশে আনার ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা। শিরশ্ছেদ করা [...]

Posted by সাধারণ মানুষ on October 10, 2011 05:01 PM· permalink

সৌদির এই ‘শিরশ্ছেদ’ নিয়ে কে কি বলেছে….. আর আপনাদের কি মন্তব্য

বিষয়টি যেহেতু ইসলাম ও মুসলিম সংশ্লিষ্ট বিষয়। যে কারণে ইসলাম বিদ্বেষীরা তাদের গরল ডালছে, এই সুযোগে। সাথে সাথে কিছু বিভ্রান্ত মুসলিমও তাদের সাথে গলা মিলাচ্ছে। আসলে বিষয়টি কোন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে! এ বিষয়ে মুসলমানদের কড়া নজর রাখা কি উচিত নয়? পাশাপাশি মুসলমানদের এ বিষয়ে কি ভূমিকা রাখা উচিত। এটাই আমার জানার ইচ্ছ….. তাই আমি [...]

Posted by সুলতান on October 10, 2011 01:59 PM· permalink

ভৌতিক গল্প :: ড্রাকুলার অতিথি

(আসন্ন ভূত চতুর্দশী ও হ্যালোউইন উপলক্ষ্যে ”কফিহাউসের আড্ডা”র পাঠকদের জন্য বিশেষ উপহার!)

মূল রচনাটি স্বত্বমুক্ত। তবে এই অনুবাদের অনুবাদস্বত্ব অনুবাদক কর্তৃক সংরক্ষিত। অনুবাদের অনুমতি ও নাম-উল্লেখ ছাড়া তা কোনো উপায়ে অন্যত্র প্রকাশ নিষিদ্ধ।

মূল রচনা: ব্রাম স্টোকার

অনুবাদ: অর্ণব দত্ত

যাত্রা শুরু করার সময়ও মিউনিখের আকাশে জ্বল জ্বল করছিল মধ্যাহ্নসূর্য; বাতাসে ভাসছিল নববসন্তের উচ্ছ্বাস। রওনা হওয়ার ঠিক আগে হের ডেলব্রুক (যে হোটেলে উঠেছিলাম, তার মালিক) নগ্নশিরেই ছুটে এলেন আমাদের গাড়ি অবধি। আমাকে শুভ যাত্রা জানালেন। তারপর গাড়ির দরজার হাতলে হাত রেখে কোচোয়ানকে বললেন, “রাত পড়ার আগেই ফিরে আসিস কিন্তু। আকাশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু উত্তুরে হাওয়ায় একটা কাঁপুনি লাগছে। মনে হচ্ছে, ঝড় উঠবে। তাই, দেরি করিসনি।” তারপর একটু হেসে বললেন, “আজকের রাতটা কি, সে খেয়াল আছে তো!”

জোহান দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলে, “Ja, mein Herr.” (“হ্যাঁ, কর্তা।”) তারপর নিজের টুপিটা চেপে ধরে গাড়ি ছুটিয়ে দিলে। শহর ছেড়ে বেরিয়ে এসে ওকে থামতে নির্দেশ করলুম। জিজ্ঞাসা করলুম:

“আজকের রাত্তিরটা কি হে জোহান?”

সে বুকে ক্রুস এঁকে ছোট্ট করে জবাব দিলে: “Walpurgis nacht.” (“ওয়ালপারজিস রাত।”) তারপর একটা সেকেলে, টার্নিপের আকার-বিশিষ্ট, জার্মান সিলভারের ঘড়ি বের করলে; সেটার দিকে তাকিয়ে খানিকটা অস্থিরভাবে কাঁধ নাচালে; বুঝলুম, অকারণে সময় নষ্ট করছি দেখে সে একটা সশ্রদ্ধ প্রতিবাদ জানালে। তাই ফিরে এসে গাড়ি হাঁকাতে বললুম। সেও সময় নষ্ট করল না। নষ্ট সময়টুকু পুষিয়ে নিতে দিল ছুট। এদিকে ঘোড়াগুলো মাঝেমধ্যেই মাথাঝাঁকানি দিয়ে উঠে খুব রহস্যজনকভাবে বাতাসে কি একটা শুঁকতে লাগল। আমিও ভয় পেয়ে আশেপাশে তাকাতে লাগলুম। রাস্তার ধারে জনবসতি সেরকম ছিল না। জায়গাটা একধরনের বায়ুতাড়িত মালভূমির মতো। যেতে যেতে দেখলুম, পাশে একটা রাস্তা এঁকেবেঁকে নেমে গিয়েছে নিচের উপত্যকার দিকে। মনে হল, সেই রাস্তায় লোক-চলাচল বিশেষ হয় না। ভারি ভাল লাগল। কোচোয়ানকে বিরক্ত করে আরেকবার তাকে থামালুম; বললুম ওই রাস্তায় একটিবার যেতে। সে নানা ওজরআপত্তি তুলে বারবার বুকে ক্রুস আঁকতে লাগল। এতে আমার কৌতুহল গেল বেড়ে। তাকে নানা প্রশ্ন করতে লাগলুম। সেও নাছোড়। বার বার ঘড়ি-দর্শন প্রতিবাদ চালিয়ে গেল।

শেষে বললুম, “আচ্ছা, জোহান, শোনো। আমি ওই রাস্তায় যাচ্ছি। তুমি যেতে না চাইলে তোমাকে জোরাজুরি করব না। কিন্তু কেন ওখানে যাবে না, সেটা তো বলবে।” এবার সে বক্স থেকে নেমে এল মাটিতে। হাতজোড় করে আমাকে সেখানে না যেতে অনুরোধ করতে লাগল। তার জার্মানের মধ্যে মোটামুটি ইংরেজি মেশানো ছিল, তাতে ওর কথা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল না। সে আমাকে একটা কিছু বলতে চাইছিল–এমন একটা কিছু যা ওর কাছে খুবই ভয়ের ব্যাপার; কিন্তু প্রতিবারই ওই “Walpurgis nacht!” ছাড়া আর কিছুই বলে উঠতে পারছিল না সে।

ওর সঙ্গে খানিক তর্ক করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু যার ভাষা জানি না, তার সঙ্গে তর্ক করা মুশকিল। ওর বরং একটু সুবিধেই ছিল। যদিও সে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলতে পারত, কিন্তু তখন এত উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল যে, নিজের ভাষা ছাড়া আর কিছুই তার মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল না। প্রত্যেকবার কথা বলতে বলতে সে ঘড়ি দেখছিল। তারপর ঘোড়াগুলোও অশান্ত হয়ে বাতাসে কি যেন শুঁকতে লাগল। তাতে সে আরও ভয় পেয়ে গেল। চারদিকে তাকাতে লাগল। তারপর হঠাৎ সামনে দিকে লাফিয়ে এসে ঘোড়ার লাগাম ধরে এগিয়ে নিয়ে তাদের প্রায় কুড়ি ফুট দূরে গিয়ে রাখল। আমি পিছন পিছন গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ও অমন করল কেন। জবাব দেওয়ার আগে সে একবার বুকে ক্রুস আঁকলে। তারপর গাড়িটা রাস্তার অন্য দিকে রাখতে রাখতে আমরা যেখানটায় দাঁড়িয়েছিলাম, সেই জায়গাটা দেখাল। তারপর চৌমাথাটা দেখিয়ে প্রথমে জার্মানে ও পরে ইংরেজিতে বলল, “তাকে কবর দিয়েছে–যে নিজেকে মেরেছিল।”

আত্মহত্যাকারী! মনে পড়ল, আত্মহত্যাকারীদের রাস্তার চৌমাথায় কবর দেওয়া হত: “ওহ্! তাই বলো, আত্মহত্যা। ব্যাপারটা দেখতে হচ্ছে!” অবশ্য মুখে যাই বলি, ঘোড়াগুলি কেন অমন করছিল, তা কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না।

কথা বলতে বলতে কুকুরের কান্নার মতো একটা ডাক শুনতে পেলাম। দূর থেকে আসছিল আওয়াজটা। কিন্তু ঘোড়াগুলো তাতে খুব অশান্ত হয়ে উঠল। জোহান অনেক কষ্টে তাদের শান্ত করল। সে নিজেও ভয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। বলল, “নেকড়ের ডাক–অথচ এদিকে এখন নেকড়ে নেই।”

“নেই?” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কিন্তু অনেক কাল আগে তো নেকড়েরা শহরের কাছেই থাকত, তাই না?”

সে জবাব দিল, “অনেক অনেক আগে। তাও বসন্তে আর গ্রীষ্মে। কিন্তু বরফের মরসুমে নয়।”

ঘোড়াগুলির গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে সে তাদের শান্ত করতে লাগল। আকাশে একটা কালো মেঘ দ্রুত এগিয়ে এল। রোদ পড়ল ঢাকা। একটুখানি ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগল। একটুখানিই। বোধহয় সতর্ক করে গেল। কারণ খানিক বাদেই আবার সূর্য মুখ দেখালেন।

জোহান দিগন্তের দিকে আঙুল তুলে বলল, “বরফের ঝড়। অনেক দিন আগে এসেছিল।” তারপর আর একবার ঘড়ি দেখল। লাগামটা শক্ত করে ধরে রইল। কারণ ঘোড়াগুলো মাটিতে খুরের আঘাত করতে করতে অস্থির হয়ে মাথা ঝাঁকাচ্ছিল। এবার সে বক্সে উঠে গেল। বলতে চাইল, যাওয়ার সময় হয়েছে।

আমার ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত লাগল। তখনই গাড়িতে চড়লুম না।

আমি রাস্তাটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললাম, “ওই রাস্তাটা কোথায় গেছে?”

সে আর একবার বুকে ক্রুস এঁকে খানিকটা বিড়বিড় করে প্রার্থনা করে বলল, “ওটা অপবিত্র।”

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “কি অপবিত্র?”

“গ্রামটা।”

“ও! ওখানে গ্রাম আছে?”

“না না। ওখানে কয়েকশো বছর কেউ থাকে না।”

আমার কৌতুহল বেড়ে গেল, “তবে যে বললে ওখানে গ্রাম আছে।”

“ছিল।”

“এখন কোথায় গ্রামটা?”

জার্মান-ইংরেজি মিশিয়ে সে আমাকে একটা লম্বা গল্প শোনাল। তার সবটা যদিও বোধগম্য হল না–কিন্তু এটুকু বুঝলুম, অনেকদিন আগে, মানে বেশ কয়েকশো বছর আগে, এখানে কিছু লোক মারা যায় এবং তাদের কবর দেওয়া হয়। কিন্তু মাটির তলা থেকে আশ্চর্য শব্দ শুনে লোকেরা কবর খুঁড়ে দেখে, সেখানে শায়িত নরনারীর দেহে হৃদয়ের স্পন্দন আর মুখে লাল রক্ত লেগে। তখন তারা ভয় পেয়ে যায়। নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য (এবং অবশ্যই নিজেদের আত্মাকেও বাঁচানোর জন্য! একথা বলে জোহান আর একবার বুকে ক্রুস আঁকল।) তারা সবাই সেই জায়গা ছেড়ে পালিয়ে এমন জায়গায় চলে যায় যেখানে জীবিতরা জীবিত আর মড়ারা মড়াই–অন্য কিছু না। শেষ কথাটা সে বেশ ভয়ে ভয়ে বললে। গল্পটা বলতে বলতে সে ভারি উত্তেজিত হয়ে পড়ল। মনে হল যেন, কল্পনাই ভর করেছে থাকে। শেষকালটায় দেখি ভয়ে তার মুখখানা সাদা হয়ে গেছে; ঘামতে ঘামতে আর কাঁপতে কাঁপতে চারপাশে এমন করে তাকাচ্ছে যেন এই প্রকাশ্য দিবালোকেই কোনো অশরীরী আতঙ্ক তার চারপাশে সে ঘুরতে দেখছে।

শেষকালে সে মরিয়া হয়ে চিৎকার করে উঠল “Walpurgis nacht!” বলেই আমাকে গাড়িতে ওঠার জন্য অঙ্গুলিনির্দেশ করল।

এতে আমার ইংরেজ-রক্ত উঠল টগবগিয়ে ফুটে। পিছিয়ে এলুম। বললুম, “তুমি ভয় পাচ্ছ, জোহান–আচ্ছা, তাহলে বাড়ি ফিরে যাও। আমি একাই ফিরব। একটু হাঁটাহাঁটি করা আমার পক্ষে ভালই।” গাড়ির দরজা খোলা ছিল। আমার ওক কাঠের লাঠিটা সিট থেকে বের করে নিলুম–ছুটিছাঁটায় হাঁটতে বেরোলে এই লাঠিটা সঙ্গে নিয়ে বের হই–তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে মিউনিখের দিকে নির্দেশ করে বললুম, “বাড়ি যাও, জোহান–ইংরেজ ওয়ালপারজিস রাতকে ডরায় না।”

ঘোড়াগুলি ততক্ষণে ভীষণই অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করতে করতেই জোহান আমাকে মিনতি করে বলতে লাগল, বোকার মতো কাজ না করতে। বেচারিকে দেখে দয়া হচ্ছিল–কুসংস্কার মাথাটি খেয়ে বসেছিল তার; আবার না হেসে ও পারছিলাম না। উত্তেজনার বশে সে ভুলেই গিয়েছিল যে, তার ভাষা আমি বুঝি না; সে ইংরেজি ছেড়ে কথ্য জার্মানেই বকরবকর করে যেতে লাগল। শেষটায় যখন আর সহ্য হল না তখন রাস্তার দিকে দেখিয়ে বললাম, “বাড়ি!” বলেই পিছন ফিরে চৌমাথায় নেমে উপত্যকার দিকে এগিয়ে চললাম।

সে হতাশ হয়ে শেষে ঘোড়া ঘোরালো মিউনিখের দিকে। আমি লাঠিতে ভর দিয়ে একবার পিছন ফিরে দেখলাম। প্রথমটা সে রাস্তা ধরে আস্তে আস্তে চলেছিল। তারপরই পাহাড়ের মাথায় একটা লম্বা রোগা লোকের আবির্ভাব ঘটল। দূর থেকে এটুকুই দেখতে পেলাম–লোকটা ঘোড়ার দিকে এগোতেই, ঘোড়াগুলো লাফিয়ে উঠে পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভয়ে চিৎকার করতে লাগল। জোহান আর তাদের ধরে রাখতে পারল না। তারা তীরবেগে ছুট দিল পথ ধরে। দেখলাম, তারা দৃষ্টির আড়ালে হারিয়ে গেল। আগন্তুকের দিকে চোখ ফিরিয়ে দেখলাম, সেও ততক্ষণে চলে গিয়েছে।

জোহান যে নিচু উপত্যকায় যেতে আপত্তি করছিল, পথ ধরে তার দিকেই চললুম নিশ্চিন্ত মনে। জোহানের আপত্তির কোনো কারণই খুঁজে পেলুম না। কয়েকঘণ্টা ঘোরাঘুরি করলুম। কত সময় বয়ে গেল, কত দূর এলুম–এসবের খেয়াল রইল না। তবে বাড়ি বা লোকজন কিছু চোখে পড়ল না। কেমন নির্জন পরিত্যক্ত গোছের জায়গা। এই ব্যাপারটা আগে খেয়াল হয়নি। রাস্তার বাঁকে এসে কয়েকটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঠের বাড়ির ধ্বংসস্তুপ দেখে বুঝলাম যে আমাকে যা মুগ্ধ করছিল, তা এই জায়গাটার পরিত্যক্ত রূপটি ছাড়া আর কিছুই না।

বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসে চারপাশটা একবার দেখে নিলুম। মনে হল, হাঁটা শুরুর আগে যতটা ঠান্ডা ছিল, তার থেকে অনেক বেশি ঠান্ডা তখন বোধ হচ্ছিল। একটা ফিসফিসানি শব্দ আমার চারপাশে মাঝেমাঝেই শোনা যাচ্ছিল। মাথার উপরেও কেমন একটা হালকা গর্জন শুনতে পাচ্ছিলাম। উপরে তাকিয়ে দেখি, বিরাট ঘন মেঘ দ্রুত উত্তর থেকে দক্ষিণে আকাশে ছেয়ে যাচ্ছে। বাতাসে ঝড়ের পূর্বাভাস। ঠান্ডা লাগছিল। ভাবলাম, বসে থাকা ঠিক হবে না। তাই আবার চলতে শুরু করলুম।

এবার যে জায়গাটায় এলুম, সেটা ভারি সুন্দর। বিশেষ দ্রষ্টব্য কিছু যদিও ছিল না, কিন্তু সব কিছুর মধ্যে একটা সৌন্দর্যের ভাব ছিল। সময়ের খেয়াল ছিল না। তারপর গোধূলির আলো ক্ষীণ হয়ে এলে মনে হল, এবার পথ খুঁজে বাড়ি ফিরি কি করে? বাতাস ঠান্ডা। মাথার উপর মেঘও ঘনীভূত হয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে গম্ভীর মেঘের গর্জনও শোনা যাচ্ছে। যে গর্জনকে ভেদ করে আবার মধ্যে মধ্যে রহস্যজনক এক চিৎকার শোনা যাচ্ছে–যেটাকে ড্রাইভার বলেছিল নেকড়ের চিৎকার। খানিক ইতস্তত করলাম। আসার পথে একটা পরিত্যক্ত গ্রাম দেখেছিলাম। সেদিকেই হাঁটা দিলাম। উপস্থিত হলাম একটা খোলা প্রান্তরে। চারদিকে তার পাহাড় দিয়ে ঘেরা। গাছে ঢাকা প্রান্তভাগ নেমে গিয়েছে সমভূমির দিকে। তবে ঢাল কম। এখানে সেখানে ঝোপঝাড় আর গর্ত। একটা রাস্তা দেখলাম এঁকেবেঁকে একটা ঘন ঝোপের দিকে এগিয়ে গেছে, তারপর তার পিছনে গিয়ে হারিয়ে গেছে।

সেদিকে তাকিয়ে আছি, এমন সময় কনকনে ঠান্ডা বাতাস লাগল গায়ে। বরফ পড়া শুরু হল। মনে হল যেন পেরিয়ে এলেম অন্তবিহীন পথ। কাছেই কোনো কাঠের স্তুপে আশ্রয় নিতে গেলুম। এদিকে আকাশ কালো হয়ে এল। মুষলধারে বরফ পড়া শুরু হল। দেখতে দেখতে আমার চারপাশে সাদা গালচে বিছিয়ে গেল, তার শেষ কোথায় দেখতে পেলুম না। পথের ধারগুলো ঠিক চিহ্ন দেওয়া ছিল না। তাই সেটাও আর দেখতে পেলুম না। খানিক বাদেই পায়ের তলায় ঘাস আর শ্যাওলার স্পর্শে বুঝলুম, পথ থেকে সরে এসেছি। বাতাসের গতি জোর হল। তার বিরুদ্ধে হাঁটাও কষ্টকর হল। সেই বাতাস আবার হিমশীতল। হেঁটেও ঠান্ডার কাঁপুনি থেকে রেহাই পেলুম না। এত জোরে বরফ পড়ছিল যে চোখ খোলা রাখাও দুষ্কর হল। মাঝে মধ্যেই আকাশ বিদীর্ণ করে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। সেই আলোয় দেখলুম আমার সামনে এক ঘন জঙ্গল–মূলত ইউ আর সাইপ্রাস গাছের বন, সবটাই বরফে ঢাকা।

শিগগিরই আশ্রয় নিলাম সেই গাছের ছায়ায়। জায়গাটা তুলনামূলকভাবে নিঃস্তব্ধ। মাথার অনেক উপরে বায়ুর গর্জন শোনা যাচ্ছিল। ঝড়ের অন্ধকার তখন মিশে গিয়েছিল রাতের অন্ধকারে। তারপর এক সময় ঝড় থেমে গেল। শুধু মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়া বইতে লাগল। এই অবস্থায় সেই নেকড়ের অদ্ভুত শব্দটা আমার চারপাশের নানা শব্দের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।

মাঝেমাঝে ভাসমান কালো মেঘের ফাঁক গলে একটু আধটু জ্যোৎস্না গলে পড়ছিল। সেই আলোয় দেখলুম, আমি সেই গভীর সাইপ্রাস আর ইউ গাছের বনের শেষভাগে এসে দাঁড়িয়েছি। বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আশ্রয় থেকে বেরিয়ে এলুম। চারপাশটা ভাল করে ঘুরে দেখলুম। মনে হল, যে সব ভগ্নস্তুপ পেরিয়ে এসেছি, তার মধ্যে একটা বাড়ি রয়েছে যেখানে আমি খানিকের জন্য আশ্রয় নিলেও নিতে পারব। যদিও সেই বাড়িটাও ভাঙাই। ঝোপের ধারে আসতেই দেখি একটি নিচু পাঁচিল সেটাকে ঘিরে আছে। তারপরে খানিকটা খোলা জায়গা। এখানে একটা সরু পথ চলে গিয়েছে একটা চৌকো বাড়ির মতো স্থাপনার দিকে। পথটা আসলে সাইপ্রাস-বীথি। বাড়ির মতো জিনিসটা দেখার পরই আবার মেঘ এসে চাঁদকে আড়াল করে দিল। আমি অন্ধকারেই পথটা পেরিয়ে এলুম। হাওয়া বোধহয় আরও ঠান্ডা হয়ে আসছিল। কাঁপতে কাঁপতে হাঁটতে লাগলুম। আশ্রয়ের আশায় কোনোক্রমে হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে গেলুম।

সেখানে কেমন একটা হঠাৎ-স্তব্ধতা অনুভূত হল। দাঁড়িয়ে পড়লুম। এদিকে ঝড় থেমে গেছে। সম্ভবত প্রকৃতির স্তব্ধতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার বুকের ধুকপুকুনিও থেমে গিয়েছিল। কিন্তু সেটা সাময়িক। হঠাৎ চাঁদের আলো ফুটে উঠল। দেখলাম, আমি দাঁড়িয়ে আছি একটা কবরখানায়। আমার সামনে ওই চৌকো বস্তুটা আসলে একটা বিরাট শ্বেতপাথরের সমাধিসৌধ। তার চারপাশের মাটিও বরফে বরফে সাদা। চাঁদের আলোর সঙ্গে বয়ে এল ঝোড়ো বাতাসের ফিসফিসানি একটা শব্দ। যেন অনেকগুলি কুকুর বা নেকড়ে একসঙ্গে চিৎকার করছিল। ভয় পেয়ে গেলুম। সারা শরীরে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। শ্বেতপাথরের উপর পড়েছিল চাঁদের আলো। এমন সময় নতুন করে ঝড় ওঠার তোড়জোড় শুরু হল। মোহমুগ্ধের মতো এগিয়ে গেল সমাধিফলকটির দিকে। ওটা কি, কেন এভাবে একা এখানে দাঁড়িয়ে–তা জানার আগ্রহ জাগল। চারদিকে ঘুরে ডোরিক তোরণটার উপর দেখি জার্মানে লেখা–

কাউন্টেস ডোলিনজেন অফ গ্রাটজ

স্টাইরিয়া-তে

তাঁকে অনুসন্ধান করা হয় ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়

১৮০১

সমাধিসৌধের উপর পাথরের চাঙড় ভেদ করে উঠেছে একটা বড়ো লোহার বর্শা বা শূল। পিছনে গিয়ে দেখি রাশিয়ান হরফে বড়ো বড়ো করে লেখা রয়েছে: “মৃতেরা ভ্রমণ করে দ্রুত।”

একটা গা-ছমছমে অনুভূতি হল। হাত পা অবশ হয়ে এল। প্রথম বার মনে হল, জোহানের কথা শুনলেই ভাল করতুম। আরও একটা ভাবনা আমার মনে উদয় হল– কথাটা মনে এল নাটকীয়ভাবে আর একটা নাড়া দিয়ে গেল মনটাকে–আজ ওয়ালপারজিস রাত্রি!

লক্ষ লক্ষ লোক মনে করে, ওয়ালপারজিস রাত হল সেই রাত, যে রাতে শয়তান ঘুরে বেড়ায় বাইরে–যে রাতে কবরের ঢাকা যায় খুলে; মৃতেরা উঠে এসে হেঁটে চলে বেড়ায়। যে রাতে জলে স্থলে আকাশে সর্বত্রই সব কিছুর উল্লাস শুরু হয়। ড্রাইভার এখানে এসেই ভয়ে পেয়েছিল। এই সেই গ্রাম যেটি ব হুশতাব্দী আগে জনশূন্য হয়ে গিয়েছিল। এখানে লোকে করেছিল আত্মহত্যা। এমন এক জায়গায় আমি একা, সম্পূর্ণ একা। তার উপর মাথার উপর দানা বাঁধছে ঝড় আর আমি কাঁপছি বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে। আমার পড়া সব দর্শন, ধর্মশিক্ষা আর সাহস একত্রিত করে দাঁড়ালাম, যাতে ভয়ে অজ্ঞান না হয়ে যাই।

তারপরই এক মহাঝড় আছড়ে পড়ল আমার উপর। মাটি কেঁপে উঠল। যেন হাজারে হাজারে পাগলা ঘোড়া ছুটে বেরিয়ে গেল। এবার আর বরফ নয়, ঝড় তার হিমশীতল ডানায় বয়ে আনল শিলাবৃষ্টি–ভয়ানক এক শিলাবৃষ্টি। সাইপ্রাসের গাছগুলো দাঁড়িয়ে রইল বটে, কিন্তু তার পাতা আর ডাল ভেদ করে পড়তে লাগল শিল। একটা গাছের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলুম। কিন্তু গাছের তলায় দাঁড়ানো নিরাপদ বোধ হল না। তখন ভরসা শুধু সেই শ্বেতপাথরের সমাধিমন্দিরের ডোরিক তোরণটি। সেই বিশাল ব্রোঞ্জের দরজায় হেলান দিয়ে শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেলুম। শিল পড়তে লাগল আমার চারপাশের পাথরে।

দরজায় হেলান দিয়েছিলুম বলে সেটা পিছন দিকে খুলে গেল। এই নির্দয় ঝড়ের হাত থেকে রেহাই পেতে তখন কবরের আশ্রয়ই সই। সেখানেই ঢুকতে যাচ্ছিলুম, এমন সময় প্রচণ্ড জোরে বিদ্যুৎ চমকে উঠল–সেই আলোয় দেখলুম সমাধিগৃহের অন্ধকারে এক সুন্দরী নারী শায়িত, তার গালদুটি সুডৌল, ঠোঁটদুটি লাল। মনে হল সে বেদির উপর কফিনে শায়িত। চমকে উঠলুম। মাথার উপর আকাশ গর্জে উঠল। যেন দুটো দৈত্যের হাত আমাকে টেনে বাইরে বের করে আনল ঝড়ের মধ্যে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিলাবৃষ্টির আঘাতে পড়ে গেলাম। কিন্তু সেই সঙ্গে কেন জানি মনে হতে লাগল যে আমি একা নই। সমাধিসৌধটার দিকে তাকালুম। সৌধের মাথার উপর শ্বেতপাথর ফুঁড়ে যে লৌহফলকটা উঠেছিল, তার উপর বাজ পড়ল। সমাধিসৌধটার পাথর ফেটে তাতে আগুন লেগে গেল। মৃত রমণীটি এক মুহুর্তের জন্য যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। তার চিৎকার ডুবে গেল ঝড়ের গর্জনে। শেষ যে শব্দটা শুনলাম, তা অনেকগুলো ভয়ংকর শব্দের মিশ্রণ। আবার কোনো দৈত্যের হাত আমাকে ধরে টেনে নিয়ে চলল। আমার উপর শিল পড়তে লাগল। চারদিক থেকে নেকড়ের গর্জন শোনা যেতে লাগল। শেষ যা দেখলাম, মনে আছে, একটা অস্পষ্ট, সাদা, চলমান পুঞ্জ। মনে হল আমার চারপাশের কবরখানা তার সব মৃতের প্রেতাত্মাদের পাঠিয়ে দিয়েছে। আর তারা যেন সেই শিলাবৃষ্টির সাদা অন্ধকারের মধ্যে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।

একটুখানি হুঁশ ফিরতেই ভয়ে কুঁকড়ে গেলুম। খানিকক্ষণের জন্য আবার জ্ঞান হারালুম, আবার একবার ফিরে এল চেতনা। পায়ে প্রচণ্ড বেদনা অনুভূত হল, নড়তে পারলুম না; মনে হল পা দুটো অসাড় হয়ে গেছে। ঘাড়ে একটা হিমশীতল স্পর্শ টের পেলুম, শীতল ভাবটা আমার শিরদাঁড়া ধরে নেমে এল। পায়ের মতো কানদুটোও অসাড় হয়ে এসেছিল যন্ত্রণায়। শুধু বুকের কাছে একটা গরম ভাব পাচ্ছিলাম, যাতে তুলনামূলকভাবে একটু আরাম পাচ্ছিলুম। পুরো ব্যাপারটাই মনে হল দুঃস্বপ্ন–শারীরিক দুঃস্বপ্ন। মনে হল, আমার বুকের উপর এমন কিছু চেপেছে, যাতে করে আমার নিঃশ্বাস নিতেই কষ্ট হচ্ছে।

এই অর্ধ্বচৈতন্যাবস্থা স্থায়ী ছিল অনেকক্ষণ। সেটা কেটে গেলে মনে হল আমি বোধহয় ঘুমাচ্ছিলাম। তারপর একটা গা-বমি ভাব এল–ঠিক সি-সিকনেসের প্রথম ধাপের মতো। নিজেকে কিছুর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রবল বাসনা দেখা দিল–কিন্তু কিসের থেকে সেটাই বুঝলুম না। এক প্রকাণ্ড স্থবিরতা গ্রাস করল আমাকে। মনে হল, সারা পৃথিবীটা হয় ঘুমাচ্ছে, নয় মরে গেছে–শুধু আমার কাছে বসে থাকা কতকগুলো জানোয়ারের নিঃশ্বাসের আওয়াজ সেই নৈঃশব্দের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। গলার কাছে একটা উষ্ণ বিচ্ছিরি শব্দ পেলুম, তারপর ব্যাপারটা টের পেলুম; সঙ্গে সঙ্গে আমার হৃদপিণ্ডটা ঠান্ডা হয়ে এল ভয়ে। একটা বিরাট জন্তু আমার উপর শুয়ে আমার গলাটা চাটছিল। ভয়ে নড়তে পারলাম না। আমার সহজাত প্রবৃত্তি আমাকে চুপটি করে পড়ে থাকতে বলল। কিন্তু মনে হল, জন্তুটা আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন টের এল। সে তার মাথা তুলল। চোখের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখলুম, আমার উপর এক দৈত্যাকার নেকড়ের দুটো বড়ো বড়ো চোখ জ্বল জ্বল করছে। তার ফাঁক হয়ে থাকা বিরাট মুখের মধ্যে চকচক করছে ধারালো সাদা দাঁত। তার গরম জান্তব ক্ষুরধার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে আমার উপর।

তারপর আবার খানিকক্ষণ কিছু মনে ছিল না। তারপর একটা নিচু গলায় গোঙানির আওয়াজ শুনে হুঁশ ফিরল। খানিকবাদে একটা কুকুরের কান্নার মতো আওয়াজ শুনলাম। বারবার নতুন করে আওয়াজটা উঠতে লাগল। তারপর অনেক দূর থেকে অনেক মানুষের গলায় একটা  “Holloa! holloa!” আওয়াজ শুনতে পেলুম। সাবধানে মাথা তুলে যেদিক থেকে আওয়াজটা আসছিল, সেদিকে তাকালুম। কিন্তু কবরখানাটা আমার দৃষ্টিপথের বাধা হতে লাগল। এদিকে নেকড়েটা অদ্ভুতভাবে ডেকেই চলল। তার লাল দৃষ্টি ঘুরে গেল সাইপ্রাসের ঝাড়ের দিকে; যেদিক থেকে আওয়াজটা আসছিল, সেই দিকে। কণ্ঠস্বরগুলো কাছাকাছি আসতেই নেকড়ের গর্জনও তীব্র হয়ে উঠল। ভয়ে চুপ করে কাঠ হয়ে পড়ে রইলুম। আমার চারপাশের অন্ধকারের সাদা আস্তরণের উপর একটা লাল আলোর আভাস দেখতে পেলুম। তারপর হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে একদল মশালধারী অশ্বারোহী বেরিয়ে এল। এইবার নেকড়েটা আমার বুকের উপর থেকে উঠে কবরখানার পথ ধরল। একজন অশ্বারোহী (তার টুপি ও লম্বা সামরিক পোষাক দেখে তাকে জওয়ান বলে চিনলুম) নিজের কারবাইন তুলে তাক করল। তার এক সঙ্গী তার হাতটা সরিয়ে দিল। শুনলাম মাথার উপর দিয়ে বুলেটটা হুস শব্দ করে বেরিয়ে গেল। আগের লোকটা বোধকরি আমার শরীরটাকে নেকড়ের শরীর বলে ভুল করেছিল। আরেকজন জানোয়ারটাকে পালাতে দেখে গুলি চালাল। তারপর ঘোড়ার টগবগ শুনলুম। অশ্বারোহীর দল এগিয়ে এল–একদল এল আমার দিকে, অপর দলটা তুষারাবৃত সাইপ্রাস বনে নেকড়েটার পিছনে ধাওয়া করল।

তারা কাছে আসতে আমি উঠতে চেষ্টা করলুম, কিন্তু শরীরে বল ছিল না। যদিও আমার চারপাশে কী চলছিল, সবটাই দেখতে- শুনতে পাচ্ছিলুম। দু-তিনজন জওয়ান তার ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নেমে আমাকে ঘিরে হাঁটু গেড়ে বসল। তাঁদের একজন আমার মাথাটা তুলে নিজের হাতটা আমার বুকের উপর রাখলেন।

তারপর চেঁচিয়ে উঠে বললেন, “সব ঠিক আছে, বন্ধুরা! উনি বেঁচে আছেন!”

আমার গলায় খানিকটা ব্র্যান্ডি ঢেলে দেওয়া হল। তাতে খানিকটা বল পেলুম। এবার চোখ খুলে তাকালুম। চারদিকটা দেখলুম। গাছের আড়ালে আলোছায়া খেলা করছিল। শুনলাম, সবাইকে ডাক দেওয়া হল। সব তাড়াতাড়ি কবরখানা থেকে বেরিয়ে এল। সকলের চোখেমুখে আতঙ্ক। যে লোকগুলো আমার কাছে বসেছিল, তারা জিজ্ঞাসা করল, “তাকে পেলে?”

জবাবে সবাই একবাক্যে বলে উঠল, “না! না! এখুনি চলে আসুন, শিগগির-শিগগির! এখানে থাকা নিরাপদ নয়, আর আজকের রাত্তিরটাও ভাল না!”

তারপর সবাই নানা ভাবে যে প্রশ্নটা করল, সেটা হল, “ওটা কী?” উত্তরটাও এল নানা ভাবে। মনে হল, সবাই একটা কিছু দেখে ভয় পেয়েছে–সেই ভয়ের দ্বারা তাড়িত হয়েই কথা বলছে।

“ওটা–ওটা–অবশ্যই!” একজন বিড়বিড় করে কী বলতে গেল, কিন্তু কোনো কথা খুঁজে পেল না।

“নেকড়ে–আবার নেকড়ে নয়!” আর একজন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল।

তৃতীয়জন সাদামাটাভাবে বলল, “পবিত্র বুলেট ছাড়া তাকে মারার চেষ্টা করা বৃথা।”

চতুর্থ জন বললে, “আজকেড় রাতে যেটুকু করতে পেরেছি তাই অনেক–লাখ টাকার কাজ করেছি!”

আর একজন বললে, “ভাঙা শ্বেতপাথরে রক্ত দেখলুম। নিশ্চয়ই বাজ পড়ে ওখানে রক্ত আসেনি। আর উনি–উনি কী নিরাপদ? ওঁর গলাটা দেখুন! বন্ধুরা দেখো, নেকড়েটা ওঁর বুকের উপর বসে ওঁর রক্তকে গরম রেখেছিল।”

অফিসার আমার গলা পরীক্ষা করে উত্তর দিলেন, “উনি ঠিক আছেন, চামড়ায় ফুটো নেই। কিন্তু এর মানে কী? ওই নেকড়েটা চিৎকার না করলে আমরা ওঁকে খুঁজেও পেতাম না।”

“ওটার কী হল?” যে লোকটি আমার মাথা ধরেছিলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন। এঁকে ততটা ভীত মনে হল না–তাঁর হাত শক্ত ছিল, কাঁপুনির কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি। তার স্লিভে দেখলাম জুনিয়র অফিসারের শেভরন।

একটা লোক তার ফ্যাকাসে মুখ নিয়ে ভয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চারদিকটা একবার দেখে নিয়ে বলল, “ওটা ঘরে ফিরে গেছে। এখানে ওর শোয়ার জন্য অনেক কবর রয়েছে। চলে এসো, বন্ধুরা–শিগগির! এই জায়গাটা অভিশপ্ত!”

অফিসারটি আমাকে বসালেন। তারপর তাঁর আদেশে কয়েকজন এসে আমাকে ধরে ধরে একটা ঘোড়ার উপর বসালো। তিনি আমার পিছনে বসে আমাকে ধরে রইলেন। এগোনোর নির্দেশ দিলেন। সাইপ্রাস বন ছাড়িয়ে আমরা সামরিক ছন্দে এগোতে শুরু করলুম।

কথা বলতে পারছিলুম না বলে চুপ করে রইলুম। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। যখন ঘুম ভাঙল, দেখি আমি দুপাশে দুজন জওয়ানের কাঁধে ভর করে দাঁড়িয়ে আছি। দিনের আলো ফুটে উঠেছে। বরফের অবশেষের উপর উত্তরের পথে রোদের আলো পড়ে পথটাকে রক্ত-রাঙা মনে হচ্ছে। অফিসারটি লোকেদের বলছেন, যা দেখেছো, সে সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে হবে না, শুধু বলবে একজন আগন্তুক ইংরেজকে খুঁজে পেয়েছো, একটা কুকুর তাকে পাহারা দিচ্ছিল।

ভয়-পাওয়ার দলের একজন বলে উঠল, “কুকুর! ওটা কুকুর নাকি? আমি জানি, নেকড়ে চিনি নে!”

তরুণ অফিসার শান্তভাবে বললেন, “আমি বলছি, ওটা কুকুর।”

দিনের আলো দেখে লোকটির হারানো সাহস ফিরে আসছিল, সে ব্যঙ্গভরে বলল, “কুকুর! দেখুন ওঁর গলাটা, ওটা কি কুকুরের কাজ, কর্তা?”

কথাটা শুনে গলায় হাত দিলুম, ছুঁতেই ব্যথায় চিৎকার করে উঠলুম। সবাই পিছন ফিরে তাকাল। কেউ কেউ ঘোড়া থেকে নেমে এল। তরুণ অফিসারটি আবার শান্ত গলায় বললেন, “আমি বলছি, কুকুর। অন্য কিছু বললে, লোকে আমাদের কথা শুনে হাসবে।”

তারপর এক জওয়ানের পিছনে ঘোড়ায় উঠে পড়লুম। এগিয়ে চললুম মিউনিখের শহরতলির পথ ধরে। এখানে একটা ঘোড়ার গাড়ি পাওয়া গেল। তাতে উঠে আমার হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হলুম। তরুণ অফিসারটি আমার সঙ্গে চললেন। একজন জওয়ান ঘোড়ায় চড়ে আমাদের অনুসরণ করল। অন্যেরা ব্যারাকে ফিরে গেল।

আমরা ফিরতেই হের ডেলব্রুক ছুটে এলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। মনে হল, উনি আমাদের পথ চেয়েই ছিলেন। আমার দুই হাত ধরে তিনি আমাকে এগিয়ে নিয়ে চললেন। অফিসারটি আমাকে স্যালুট ঠুকে বিদায় নিতে চাইলেন। ব্যাপার বুঝে তাঁকে আমার কামরায় আমন্ত্রণ জানালুম। এক গ্লাস পানীয় দিয়ে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের আমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানালুম। তিনি শুধু বললেন, হের ডেলব্রুক প্রথমেই খোঁজ-পার্টি নিয়োগ করে বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। হোটেল-মালিক এই কথায় একটু হাসলেন মাত্র। তারপর অফিসারটি ডিউটির কথা জানিয়ে বিদায় নিলেন।

আমি জিজ্ঞাসা করলুম, “কিন্তু, হের ডেলব্রুক, আপনি কেমন করেই বা আর কেনই বা আমাকে খোঁজার জন্য ওই জওয়ানদের নিয়োগ করলেন?”

তিনি কাঁধ নাচিয়ে নিজের কাজটা একটু খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করলেন, বললেন, “আমি যে রেজিমেন্টে আছি তার কম্যান্ডারের কাছে কিছু স্বেচ্ছাসেবক চেয়েছিলাম; ওঁর সহায়তা ভুলব না।”

আমি জিজ্ঞাসা করলুম, “কিন্তু আমি যে হারিয়ে গেছি, সেকথা আপনি জানলেন কী করে?”

“আরে মশাই, ঘোড়াগুলো পালিয়ে গেল। ড্রাইভার অনেক কষ্টে ভাঙা গাড়িটা নিয়ে ফিরে এল।”

“কিন্তু সেজন্য নিশ্চয়ই আপনি আমার জন্য সামরিক খোঁজ-পার্টি পাঠাননি?”

“ওহো, না!” তিনি জবাব দিলেন, “কিন্তু কোচোয়ান ফিরে আসার আগে, আপনি যে বোয়ারের অতিথি, তাঁর থেকে একটা টেলিগ্রাম পাই।” উনি পকেট থেকে একটা টেলিগ্রাম বের করে আমার হাতে দিলেন। পড়ে দেখলুম:

বিস্ট্রিজ। আমার অতিথি সম্পর্কে সাবধান–তাঁর সুরক্ষা আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। তাঁর কিছু হলে, তিনি হারিয়ে গেলে, তাঁকে খোঁজার জন্য সব কিছু করবেন। তাঁর সুরক্ষার সবরকম ব্যবস্থা করবেন। তিনি ইংরেজ, এবং সেই জন্য একটু অ্যাডভেঞ্জার-প্রিয়। বরফ, নেকড়ে আর রাত খুব বিপজ্জনক। তাঁর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে, সময় নষ্ট করবেন না। খরচপত্র নিয়ে ভাববেন না, ওটা আমি দেখব। –ড্রাকুলা।

টেলিগ্রামটা হাতে নিয়ে আমার মাথাটা কেমন ঘুরতে লাগল। হোটেল-মালিক আমাকে না ধরলে বোধহয় পড়েই যেতুম। পুরো ব্যাপারটাই অদ্ভুত আর অকল্পনীয় মনে হল। আমার এই অস্তিত্ব যেন আমার বিরুদ্ধ শক্তির এক খেলা মাত্র–কথাটা ভেবেই আমার হাত-পা অবশ্য হয়ে এল। নিশ্চয় কোনো রহস্যময় রক্ষাকবচ ঘিরে ছিল আমাকে। নয়তো তুষার আর নেকড়ের মুখ থেকে আমাকে রক্ষা করতে বহু দূরের এক দেশ থেকে একেবারে সঠিক সময় এমন বার্তা কীভাবে এল!

লেখক পরিচিতি:

ব্রাম স্টোকার (১৮৪৭-১৯১২) আইরিশ ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। জন্ম ডাবলিনে। ট্রেনিটি কলেজে শিক্ষিত। পেশায় ছিলেন সিভিল সার্ভেন্ট। দ্য ডাবলিন মেইল-এ নাট্যসমালোচনা করতেন। সম্পাদনা করতেন দ্য পেনি প্রেস পত্রিকাটি। সাহিত্য রচনা করেছেন ইংরেজি ভাষায়। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা ড্রাকুলা (১৮৯৭) উপন্যাস। এখানে অনূদিত গল্পটি ১৯১৪ সালে মরণোত্তর প্রকাশিত ড্রাকুলাজ গেস্ট অ্যান্ড আদার উইয়্যার্ড স্টোরিজ গল্পসংকলনের প্রথম গল্প।

আমার অন্যান্য রচনার জন্য দেখুন:

http://bangabharati.wordpress.com/

© অর্ণব দত্ত

Posted by অর্ণব দত্ত on October 10, 2011 10:32 AM· permalink

OUT SOURCING বিষয়ে জানতে চাই।

OUT SOURCING  বিষয়ে জানতে চাই। যারা এ বিষয়ে ভাল জানেন তারা বিস্তারিত আলোচনা করুন দয়া করে যেন সবার উপকার হয়।  কিভাবে শুরু করা উচিত। কি কি সাইট নির্ভরযোগ্য। কিভাবে সহজে টাকা দেশে আনা যায় ইত্যাদি………।

Posted by আজাব গজব on October 10, 2011 08:08 AM· permalink

ও মাই কোলকাতা

সাবর্ণ রায়চৌধুরী- এই নামটা কি চেনা চেনা ঠেকছে? চেনা ঠেকবেই তো! কোলকাতার ইতিহাস তো এই পরিবারকে ঘিরেই রয়েছে। হাংরি জেনারেশনের কবি মলয় রায়চৌধুরী তো এই পরিবারেরই সন্তান! মজার ব্যাপার হচ্ছে- এই নামে কোনো ব্যক্তি ছিলেন না! এঁদের পূর্বপুরুষ হচ্ছেন, জিয়া গঙ্গোপাধ্যায়! পরে ইনি কামদেব ব্রহ্মচারী নামে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। রাজা মানসিংহ এনার কাছে দীক্ষা নেন। তা থাক, সে সব ইতিহাসের কচকচানি!!!
আসল ব্যাপারটা হচ্ছে- জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ব্রাহ্মণ আর তাঁর গোত্র ছিল- সাবর্ণ। এবার, রায়চৌধুরী বা চৌধুরী হলো মোঘল আমলের জমিদারদের খেতাব। পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন, জিয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের উত্তরপুরুষ। এনার আবার আর একটা নাম ছিল- পাঁচু শক্তি খান!
যাই হোক, এই মোঘল নথীতে এনাদের জমিদারীটা গোত্র এবং জমিদারদের উপাধি- রায়চৌধুরী দিয়ে নথীভুক্ত হয়েছিল। তাই এঁরা সাবর্ণ রায়চৌধুরী নামেই পরিচিত ছিলেন।
১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর সুতানুটি, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম তিনটির সত্ত্ব সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের কাছ থেকে ইজারা নেয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। কত টাকায় জানেন? এক লাখ টাকায়! ইস্! তখন যদি আমাদের পূর্বপুরুষরা বুদ্ধি করে খানিকটা জমি কিনে রাখতেন, তা হলে বেচে বেচেই টাকা কামাতাম। কষ্ট করে আর চাকরী- বাকরী করতে হতো না!! কি বলেন? যাক! দুঃখ করে লাভ নেই! বরং কোলকাতা নিয়ে দু একটা জানা- অজানা কথা বলি!

আপনারা কি জানেন- খোদ কোলকাতায় যে কোন বর্ণের লোক এবং ব্রাহ্মণদের ভাত খাওয়া বারণ? কারণ?মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি। এবার মহারাজা নন্দকুমার ছিলেন – ব্রাহ্মণ। মুর্শিদাবাদী এই ব্রাহ্মণের ফাঁসি সকলে মেনে নিতে পারেন নি। কুলিবাজারের নৈৠত ( দক্ষিণ- পশ্চিম) কোণে রাজা নন্দকুমারের ফাঁসী হয়। আজ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে কারও প্রাণ এভাবে নেওয়া হয় নি, মহারাজা নন্দকুমার ছাড়া!!!!!
১৮৮৬ সালে প্রকাশিত দ্য ট্রায়াল অব মহারাজা নন্দকুমার গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, মিডলটনের পত্রালাপ দাখিল করা হলে ওয়ারেন হেস্টিংস ঘুষ নেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হতেন। ওয়ারেন হেস্টিংস, তাঁর বন্ধু ইলাইজা ইম্পের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসির আদেশ বের করেন। মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসি ওয়ারেন্ট হেস্টিংসের জীবন ও কর্মকাল এবং কোলকাতার একটি বিতর্কিত অধ্যায়।মাত্র ২৩ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা ১৫ এপ্রিল ১৭৫৬ সালে নবাবী লাভ করেন। তার নবাবীর সময়কাল ছিল মাত্র ১ বছর ২ মাস ৮ দিন অর্থাৎ ৪৩৪ দিন। এ সময়ের মধ্যে নবাব সিরাজউদ্দৌলা দু’দুবার ইংরেজদের বিরুদ্ধে কলকাতা অভিযানে স্বয়ং নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ইংরেজদের পরাজিত করেছেন। পূর্ণিয়ার যুদ্ধে শত্রুকে পরাজিত করেছেন। প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, সেনাপতি রাজা দুর্লভরাম, উমিচাঁদ, রাজা রায়বল্লভ, ইয়ার লতিফ, জগৎ শেঠ, ঘসেটি বেগম, ইংরেজ সেনাপতি ওয়াটসন, ওয়াটস, ক্লাইভ প্রমুখ সিরাজউদ্দৌলার নবাবীর প্রথম দিন থেকে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে বিশ্বাসঘাতকতা, রাজদ্রোহ ও দেশদ্রোহিতায় লিপ্ত থেকে নবাবকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছিল। তাতে একদিনের জন্য তরুণ নবাবের ব্যক্তিগত জীবনে কোনো আরাম-আয়েশ ভোগ-বিলাসের সময়-সুযোগ ছিল না।
কিন্তু পলাশীর প্রহসনের যুদ্ধে ইংরেজরা ক্ষমতায় আসার পর তাদের এদেশীয় চাকর-বাকর, বুদ্ধিজীবী ও লেখকরা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে চরিত্রহীন লম্পট অপদার্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, কিন্তু তাদের বক্তব্য ইতিহাস ও জনগণ কোনো দিন গ্রহণ করেনি।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের মূল কারণ বাংলার স্বাধীনতা হরণের চক্রান্তকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চরিত্র হনন ও অপপ্রচার। অন্ধকূপ হত্যা, যেটা আদতে ঘটেই নি, নবাব সিরাজউদ্দৌলার ওপর সেটা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন এক তরুণ দেশপ্রেমিক রাজপুরুষ; যিনি নিজ দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ইংরেজদের কাছে মীর জাফরদের মতো আত্মসমর্পণ করেননি, আপস করেননি।
বাংলার নবাব তখন ইব্রাহিম খান৷ নবাব বলতে মোঘল সম্রাটের কর আদায়কারী। তার আমন্ত্রণে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মাধ্যক্ষ জোব চার্নক ফিরে এলেন বাংলায়৷ সুতানুটি( মতান্তরে,সুতালুটি) কলিকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম ইজারা নিয়ে ফোর্ট উইলিয়াম বানাতে শুরু করলেন ব্যবসার প্রয়োজনে৷ গোড়াপত্তন হল কলিকাতা শহরের৷ দিনটি ছিল ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ আগস্ট রবিবার৷ তবে কলিকাতা অবশ্য আরো অনেক প্রাচীন৷ ১৫৯৬ সালে সম্রাট আকবরের রাজস্ব আদায়ের নকশায় কলিকাতা বা কলিকাটা দেখানো হয়েছে৷ ইংরেজরা এর নাম দিয়েছে ‘ক্যালকাটা’৷ ইংরেজ আমলে কলিকাতা ছিল রাজধানী শহর৷ এখন কলিকাতা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের রাজধানী৷ আগেই বলেছি, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ পর্বে জোব চার্ণক নামে একজন ইংরেজ তিনটি স্নিগ্ধ গ্রাম গোবিন্দপুর, সুতানুটি আর কলকাতার তীরে পৌঁছোলেন এবং নবাবের সৈন্যদল কর্তৃক লুণ্ঠিত তাঁর কর্মস্থল হুগলিতে আর ফিরে গেলেন না। তিনি চাইলেন এই গ্রামগুলিতেই শুরু হওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করবেন। এইখান থেকেই কি ভাবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ শুরু হল- তার একটা নমুনা পেশ করি। সুতানুটি, গোবিন্দপুর ও কলিকাতা গ্রাম তিনটি ছিল মুঘল সম্রাটের ছিল খাসমহলের অন্তর্গত। এই গ্রাম তিনটির জায়গিরদারি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের হাতে ছিল। ব্রিটিশ বসতি অন্যান্যদের অধীনে থাকা আরও আটত্রিশটি গ্রাম দিয়ে ঘেরা ছিল। ১৭১৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ারের কাছ থেকে এই সব গ্রামের জমিদারি সত্ব কেনার অধিকার অর্জন করলেও, তৎকালীন জমিদারদের কাছ থেকে তারা এই গ্রামগুলি ক্রয় করতে পারেনি। সাবর্ণ রায়চৌধুরীরাও ব্রিটিশদের এই তিনটি গ্রাম ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না। জানা যায়, ব্রিটিশরা মুঘল রাজদরবারে ঘুষ দিয়ে এই গ্রাম তিনটির ইজারা কেনার অনুমতি আদায়ে সমর্থ হন।

১৬৯৮ সালে সাবর্ণরা ইংরেজদের হাতে গ্রাম তিনটি তুলে দেন। ইংরেজরা বার্ষিক ১,৩০০ টাকা রাজস্বের বিনিময়ে গ্রাম তিনটির ইজারা ক্রয় করে নেন। চুক্তিপত্রটি ফারসি ভাষায় লেখা হয়েছিল। এর একটি নকল বড়িশার সাবর্ণ সংগ্রহশালায় রক্ষিত আছে। এইভাবে শুরু হল এক ইতিহাস।

প্রথমেই কাঁচা বাড়িগুলি ভেঙে পাকা বাড়ি উঠতে দেখা গেল, ব্রিটিশরা ইজারা নেওয়া গ্রামগুলিকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলল এক দুর্ভেদ্য দুর্গে। দরবারি উত্থান-পতন আর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর থেকে কলকাতা বিকশিত হতে শুরু করল দ্রুত। কিন্তু সেই সময়কার দলিল বলছে, এটা আদপেই কোনো প্রামাণ্য শহর ছিল না। না ছিল রাস্তায় আলো, না ছিল পাকা রাস্তা, না ছিল পরিশ্রুত জল বা পাকা নর্দমা। অকালমৃত্যুর হার ছিল অত্যধিক বেশি। তবু এ শহর অনেককে কাছে টানল। তার কারণ একটাই! এই শহরের অবস্থান! জলপথে, বাণিজ্য করবার সুবিধা! শেঠ আর বসাকরা আগে থেকেই এখানে সুতার ব্যাবসা করতেন।
সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগিজদের বাণিজ্যঘাঁটি ছিল সুতানুটি। পরবর্তীকালে ডাচ (ওলন্দাজ) হুগলি নদী থেকে খাল কেটে এখনকার মধ্য কলকাতাকে সুরক্ষিত করে। ইংরেজদের সুরক্ষিত করতে তৈরি হয় পুরোনো ফোর্ট উইলিয়াম ১৬৯৬-এ। ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লা এই শহর অবরোধ ও অধিকার করলে খোদ ইংল্যান্ডেও এই শহর খ্যাতিলাভ করে। ইংরেজ ঐতিহাসিকদের মতে সিরাজ প্রায় ৪৩ জন ব্রিটিশ বাসিন্দাকে একটি ছোট গুদামঘরে গুমখুন করান। এই গল্পটা একেবারেই বানানো!!!!রবার্ট ক্লাইভ পরের বছরই কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন। হুগলি নদীর জলপথে ইংরেজ যাত্রী এবং বাণিজ্যপোতের প্রসার ঘটায়। ১৮৫০-এর দশকে রেলপথ চালু হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ বৃহত্তর মাত্রা পায়। এই শহর দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যস্থল এবং পাশ্চাত্য ঘরানার ব্যবসায়িক ঔপনিবেশিক এই শহরে নির্দিষ্টভাবে ঘিঞ্জি আর অপরিকল্পিত এলাকায় দেশীয় বাসিন্দাদের জন্য আলাদা পাড়া ছিল মূল শহরের পূর্ব আর উত্তর ঘেঁষে। সুপরিকল্পিত এবং ফাঁকা জায়গায় বসতি ছিল ইউরোপীয়ানদের দক্ষিণ তথা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। স্বাধীনতার পরে এই সাহেবপাড়াগুলি দেশীয় ধনীদের বাসস্থান বা পার্ক স্ট্রিট প্রভৃতির মতো বাণিজ্যিক অঞ্চল হয়ে ওঠে। পার্ক স্ট্রিটের আগের নাম ছিল- ব্যারিয়াল গ্রাউণ্ড রোড।

লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৫৭০ সালের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন। তাঁর জন্মের তৃতীয় দিনে তাঁর মা, পদ্মাবতী মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুতে লক্ষ্মী কান্ত’র বাবা জিয়া গঙ্গোপাধ্যায় ভেঙে পড়েন, আর সংসার ত্যাগ করে তপস্বী হবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্যালেন। ছেলে লক্ষ্মীকান্ত’র ভার তিনি নিজের দীক্ষাগুরু আত্মারাম ব্রহ্মচারী’র হাতে সঁপে, বেরিয়ে পড়েন তীর্থ-পরিব্রাজক হয়ে, আর ধর্ম প্রচারক রূপে থিতু হন কাশীতে। সন্ন্যাস নেবার পর তাঁর নামকরণ হয় কামদেব ব্রহ্মচারী। ব্রিটিশ ইতিহাসকারদের নথিতে তিনি এই নামেই পরিচিত। প্রকৃতি, বুদ্ধিতত্ত্ব, অহংকার, পঞ্চভূত, ইন্দ্রিয় ও পুরুষ ইত্যাদি তত্ত্বমূলক দর্শনশাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের কারণে কামদেবের খ্যাতি ছিল। লক্ষ্মীকান্তকে স্তন্যদানের জন্য আত্মারাম ব্রহ্মচারী যাঁকে ধাত্রী নিয়োগ করেন, তিনি অব্রাহ্মণী ছিলেন । ব্যাপারটি বৈপ্লবিক ছিল নিশ্চয়ই, কেননা কামদেবের ঊর্ধতন একাদশতম পুরুষ পীতাম্বর গঙ্গোপাধ্যায়কে কুলীনত্ব দিয়েছিলেন বল্লাল সেন। তাছাড়া দক্ষিণ-রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণ-সমাজের মেলবন্ধন-কর্তা দেবীবর ঘটক তখন এতই ক্ষমতাসম্পন্ন যে, তিনি ফতোয়া দিলে, একজন ব্রাহ্মণ কুলীন থেকে অকুলীন হয়ে সমাজের আধিপত্য-কাঠামোয় নিচের স্তরে চলে যেতে পারতেন।

কামদেব ব্রহ্মচারীর ঠাকুর্দা পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন কাটোয়ার আমাটি গ্রামের নিবাসী। পরে তিনি হুগলি জেলার গোহাট্য-গোপালপুরে চলে যান, এবং বাবা পরমেশ্বরের অধ্যাপন, যাজন ও মন্ত্রদানের পারিবারিক পেশা গ্রহণ না করে, ক্ষত্রিয়বৃত্তি গ্রহণ করে হুমায়ুনের সৈন্যবাহিনীতে আফগান বাহিনীর স্হানীয় অধিপতিহিসেবে যোগ দেন। এখন জায়গাটির নাম গোঘাট। পঞ্চাননের সময়ে গোরুর হাট বসত বলে গোহট্ট। বিভিন্ন যুদ্ধে ঘোড়ায় চেপে সাহসী লড়াইতে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন, এবং সমরনায়ক হিসাবে সম্রাটের কাছ থেকে ‘শক্তি খান’ উপাধি পান। পরবর্তীকালে আফগানদের আনুগত্য কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত সহায়ক ছিল। ইতিহাসে তিনি ‘পাঁচু শক্তিখান’ নামে খ্যাত। তুর্কি ভাষায় শব্দটি হল ‘সখৎখাঁ’, অর্থাৎ দুর্ধর্ষ রাজকুমার। সৈন্যবাহিনী থেকে অবসরের পর পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় হালিশহরে বসত গড়েন। তিনি বিক্রমপুর থেকে বৈদ্য, কোন্নগর থেকে কায়স্থ, উড়িষ্যা ও তামিলনাড়ু থেকে যজুর্বেদী ব্রাহ্মণ এনে সবাইকে আলাদা-আলাদা পল্লী বা পট্টিতে থাকার ব্যবস্হা করে দেন। সেসব ওড়িষি আর তামিলদের আজ আর আলাদা করে চেনা যায় না। অন্যান্য পেশার লোকজনও এনেছিলেন তিনি, যাঁদের মধ্যে পরবর্তিকালে খ্যাতি পান মাটির কাজের লোক বা কুমোরেরা; ফলে হালিশহর (প্রকৃতপক্ষে ‘হাভেলি শহর’ ) কুমারহট্ট নাম পেয়ে যায়।

ষোল বছরের কম বয়সের যে-সমস্ত শূদ্র ছেলেদের উনি যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দী করতেন, তাদের অনেককে কায়স্থ বর্ণে উন্নীত করে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন। ওলন্দাজ পর্যটক ভান-দ্রেন ব্রুক ১৫৬০ সালে হালিশহরের প্রতিপত্তিতে বেশ অবাক হয়েছিলেন। হালিশহরের কালিকাতলা ঘাট থেকে ছিল পূর্ববঙ্গে ভূষণা যাবার জলপথ।
পাঁচু শক্তি খানের পর তাঁর ছেলে শম্ভুপতি, এবং নাতি জিয়া বা কামদেব ব্রহ্মচারী, হালিশহরকে শিক্ষা এবং বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। অষ্টাদশ শতকে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে নবদ্বীপের প্রতিপত্তির আগে, পাঁচু শক্তি খান প্রতিষ্ঠিত হালিশহর শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নিম্নবঙ্গে সর্বাধিক খ্যাতিপ্রাপ্ত ছিল। বহু টোল এবং পণ্ডিতমশায় ছিলেন সেখানে। এমনকি চৈতন্যদেব যে হালিশহরের জনৈক পণ্ডিতমশায়ের কাছে লেখাপড়া শিখেছিলেন, সে প্রসঙ্গ আছে বৈষ্ণব সাহিত্যে। সম্ভবত কামদেবের সন্ন্যাস, আর তাঁর মোগল-খেতাব প্রাপ্তির পর, লক্ষ্মীকান্ত হালিশহরে বসবাস না-করায়, বসতটি ক্রমশ গুরুত্ব হারিয়ে ফ্যালে।

পঁয়ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত জিয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের ( ১৫৩৫- ১৬২০ ) কোনও ছেলেপুলে হয়নি। তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতীর বয়স, লক্ষ্মীকান্ত’র জন্মের সময়ে ছিল কুড়ি। রজঃস্বলা হবার সাত বছর পরও পদ্মাবতীর সন্তান না হওয়ায়, আত্মীয়-স্বজনরা বিরক্ত, ক্রুদ্ধ আর হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তা সত্ত্বেও জিয়া আবার বিয়ে করেননি, কেননা পদ্মাবতী সত্যিই সুন্দরী ছিলেন। অতীব সুন্দরী ছিলেন বলেই, শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণকন্যা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ছেলের বউ করে এনেছিলেন শম্ভুপতি। শ্রোত্রিয় ব্রাহ্মণরা কুলিনের ঘরে মেয়ের বিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু কুলীনকন্যাকে বিয়ে করতে পারতেন না।কুলগুরুর পরামর্শে জিয়া ও পদ্মাবতী দুজনে তাঁদের পারিবারিক ঈশ্বরী কালীক্ষেত্রের কালীমূর্তির কাছে তিন দিন তিন রাত্রি সাষ্টাঙ্গ প্রার্থনা জানাবার পর, তৃতীয় রাতে, পদ্মাবতী, মন্দির-সংলগ্ন জলাশয়ের উপরিতলে, মন্দিরের পূর্বদিকে, ভাসমান জ্যোতির্মন্ডলীর দিকে স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পদ্মাবতী জিয়াকে জানান, তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন যে, জলাশয়টিতে আলোর বৃত্ত দেখা দেবার পর তাতে স্নান করলে, তাঁর একটি ছেলে হবে।
পরের দিন, জলাশয়টিতে স্নান করতে গিয়ে, পদ্মাবতী দেখতে পেলেন যে, জলের ভেতর থেকে এজকন মহিলার ডান বাহু তাঁকে ইশারা করছে।তিনি ওই নারীর নির্দেশ শুনতে পেলেন যে, ওই জলাশয়ের তলদেশে সতীর ডান পায়ের অংশটি আজও পড়ে আছে, আর সে-কথা যেন তাড়াতাড়ি সেবায়েতদের জানানো হয়। পদ্মাবতী ছোটোবেলায় শুনেছিলেন যে দক্ষযজ্ঞের সময়ে বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্রের দ্বারা সতীদেহের একান্নটি টুকরো কনখল থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার একটি, ডান পায়ের কড়ে আঙুল, এসে পড়েছিল, কালীক্ষেত্রের কালীমন্দির যে জায়গাটিতে, ঠিক সেখানে। পদ্মাবতীর নির্দেশে সেবায়েতরা পুকুরে নেমে একজন মহিলার অশ্মীভূত ডান পা আবিষ্কার করেছিলেন। সেটি কালী মন্দিরের লোহার সিন্দুকে চিরকালের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে কিংবদন্তি।
ঘটনাটির এক বছর পর ৯৭৭ বঙ্গাব্দে, আশ্বিন মাসের লক্ষ্মী পূর্ণিমার দিন বিকাল চারটে পনেরোয় লক্ষ্মীকান্ত’র জন্ম হয়, আর সে-কারণেই তাঁর অমন নামকরণ।

তারপর থেকে জলাধারটিতে স্নান করলে ছেলেপুলে হয়, এমন গল্প ছড়িয়ে পড়ে সুবে বাংলায়। উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সার্বভৌমের লেখা কালীঘাট ইতিবৃত্তগ্রন্থে ক্রমবর্ধমান স্নানার্থিনীদের ভিড়ের কথা বর্ণনা করা হয়েছিল। উনি গ্রন্থটিতে তাঁর নিজের বিশ্বাস এবং স্নানার্থিনীদের সন্তানপ্রাপ্তির সাফল্যের কাহিনি লিখে গেছেন। লক্ষ্মীকান্ত’র সময়ে অবশ্য কালীঘাট শব্দটির উদ্ভব হয়নি। বলা হতো-কালীক্ষেত্র কালীপীঠ। দক্ষিণে বেহালা থেকে উত্তরে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল কালীক্ষেত্র এলাকাটি। ইংরাজদের আঁকা মানচিত্র থেকে অনুমান করা যায় যে লক্ষ্মীকান্ত’র ছেলেদের নাতিনাতনিদের সময়েও আদিগঙ্গা, যা এখন অত্যন্ত নোংরা টালির নালায় রূপান্তরিত হয়েছে, তা হুগলি নদীর চেয়ে চওড়া ছিল। অর্থাৎ, কিংবদন্তিটির পবিত্রতা বহাল ছিল বহুকাল পর্যন্ত। পাঁচু শক্তিখান, শ্যামরায় এবং কালী, দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ভাবকল্পের পুজার প্রচলন করেন পারিবারিক স্তরে। চৈতন্যদেবের প্রভাবের কারণে শ্যাম রায় আর যোদ্ধা ছিলেন বলে কালী। কালীঘাটের বর্তমান বিগ্রহটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়া গঙ্গোপাধ্যায়, লক্ষ্মীকান্তর জন্মের কারণেসংলগ্ন ঘাটটি বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন লক্ষ্মীকান্তর মেজ ছেলে গৌরীর (১৬০০-১৬৬৯) নাতি কেশবরাম (১৬৫০-১৭২৬) এবং সেই সূত্রে কালীঘাট আখ্যাটির উদ্ভবমন্দিরটি তৈরি করানো আরম্ভ করেন কেশবরামের ছেলে শিবদেব (১৭১০-১৭৯৯), আর তা ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে সম্পূর্ণ করেন তাঁর উত্তরাধিকারী রাজীবলোচন খরচ হয়েছিল তিরিশ হাজার টাকাতাঁর বংশধর, বড়িশা-নিবাসী কালীকান্ত, উনিশ শতকের শেষাশেষি পর্যন্ত মন্দিরটির পুজো এবং অন্যান্য কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেনবিড়লাদের হিন্দুস্তান চ্যারিটি ট্রাস্ট মন্দিরকে সারিয়ে তোলে দেশভাগের পরপুজো দিতে উনিশ শতক থেকেই বহু লোক আসতেন বটে, কিন্তু পরিবেশ এখনকার মতন বীভৎস ছিল না, যা টের পাওয়া যায় সূর্যকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখিত কালীক্ষেত্র দীপিকা গ্রন্হটি থেকে লক্ষ্মীকান্তর প্রতি শ্রদ্ধায় কালীঘাটে দক্ষিণা কালিকা কার্তিকীঅমাবস্যার রাতে লক্ষ্মীরূপে পূজিত হনপরবর্তীকালে অব্রাহ্মণরা মহালয়ারপরবর্তী কার্তিকী অমাবস্যার রাতে কালীপূজার প্রচলন করেন

লক্ষ্মীকান্ত’র জন্মের তিন দিন পর মারা গেলেন পদ্মাবতী। সতীর মরদেহের পাশে বসে জিয়া তাঁর সদ্য-ভূমিষ্ঠ ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছিলেন যখন, তখন হঠাৎ ছাদের কড়িকাঠের ফোকর থেকে একটি টিকটিকির ডিম তাঁর সামনে পড়ে ফেটে যায়। ফাটা ডিমটি থেকে বেশ কসরৎ করে বেরিয়ে আসে টিকটিকির খুদে বাচ্চা। কিন্তু বেরোবার পর সামান্য এগিয়ে টিকটিকির ছানাটি মৃতপ্রায় পড়ে থাকে চুপচাপ। একটা ছোট্ট পিঁপড়ে এগিয়ে যায় টিকটিকিটির কাছে। সদ্য ডিম ফুটে বেরোনো টিকটিকি পাশ ফিরে গপ করে গিলে ফ্যালে পিঁপড়েটাকে। ঘটনাটিতে দৈববার্তা খুঁজে পান জিয়া, যে, ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। তালপাতার একটা শুকনো পাতায় নীচের এই কটা কথা লিখে, স্ত্রীর দাহ-সংস্কারের পর, তা শিশুটির বুকের ওপর রেখে, বেরিয়ে পড়েন বাড়ি ছেড়ে:

”কাকঃ কৃষ্ণঃ কৃতো যেন হংসশ্চ ধবলীকৃতঃ।
ময়ূরশ্চিত্রিতো যেন তেন রক্ষং ভবিষ্যতি।।”
অর্থ:-যিনি, কাককে কালো করেছেন, হাঁসকে সাদা করেছেন, ময়ূরকে চিত্রবিচিত্র করেছেন, তিনিই একে রক্ষা করবেন।

জিয়া নিজেই নিজের সন্ন্যাস নাম নেন কামদেব, নিজেকে কাম থেকে মুক্ত রাখার অভিপ্রায়ে।যেহেতু আত্মারাম ব্রহ্মচারী ছিলেন তাঁর দীক্ষাগুরু, তাই সন্ন্যাসজীবনে পরিচিত হন কামদেব ব্রহ্মচারী হিসাবে। ডেরা নেন কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটে। রেলগাড়িহীন তখনকার দিনে পায়েহেঁটে বা নৌকায় কাশী পৌঁছাতে কতদিন লেগেছিল, সেসব কথা শিবেন্দ্রনারায়ণ শাস্ত্রী তাঁর বাঙ্গালার পারিবারিক ইতিহাসগ্রন্হে বা অতুলকৃষ্ণ রায় তাঁর এ শর্ট হিসট্রি অব ক্যালক্যাটা গ্রন্থে লিখে যাননি। জিয়ার সন্ন্যাস নেবার পর, লক্ষ্মীকান্তর দায়দায়িত্ব নিলেন কালী মন্দিরের সেবায়েত আত্মারাম ব্রহ্মচারী আর তাঁর সহায়ক আনন্দ গিরি।লক্ষ্মীকান্ত নামটি আত্মারাম-এর দেয়া, যদিও আনন্দ গিরি তাঁকে লক্ষ্মীনারায়ণ বলে ডাকতেন, আর কৈশোর পর্যন্ত তিনি লক্ষ্মীনারায়ণ নামেই পরিচিত ছিলেন। আত্মারাম ব্রহ্মচারী তাঁর জন্য সংস্কৃত সাহিত্য, ন্যায় শাস্ত্র, ফারসি, আরবি ও গণিত শিক্ষার ব্যবস্হা করেন। সেই সঙ্গে শরীর গঠন, ব্যায়াম আর কুস্তি শেখাবার লোক রাখেন।
সরকার সাতগাঁ বা সপ্তগ্রাম রাজস্ব বিভাগে অনায়াসে চাকরি পেয়ে যান লক্ষ্মীকান্ত, মূলত গণিতে সড়গড় আর বিভিন্ন ভাষা বলতে-লিখতে জানার জন্য।এখন হুগলি জেলার ত্রিশবিঘা রেলস্টেশন যেখানে, তার কাছাকাছি ছিল সপ্তগ্রাম বাণিজ্য বন্দর বা সাতগাঁ, যা ক্রমে গুরুত্বহীন হবে যায় ১৬৩২ সালে সরস্বতী নদীর স্রোত শুকিয়ে যাবার দরুন। সাতগাঁ ছিল শ্রীহরি গুহ, ওরফে রাজা বিক্রমাদিত্যের জাগিরের অধীন। এই জাগির অবশ্য কর্নওয়ালিসের জমিদারি প্রথার জমিদারি নয়। শ্রীহরি গুহ এবং তাঁর দাদা জানকীবল্লভ ছিলেন গৌড় অধিপতি দাউদ খাঁ’র বিশ্বস্ত মন্ত্রী। দায়ুদ খাঁ’র কাছ থেকে তিনি বিক্রমাদিত্য উপাধি এবং পরে টোডরমলের কাছে যশোহরের জমিদারি পান। খুলনা তখন যশোহরের অন্তর্গত ছিল। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে আফগান সুলতান দাউদ খাঁ হেরে গেলে বঙ্গদেশ মোগল সাম্রাজ্যের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়। কিন্তু স্থানীয় সামন্তরা আকবরের হুকুম মানতেন না, বিশেষ করে আফগান সামন্তরা। শ্রীহরি গুহ নিজের জমিদারির সত্তর শতাংশ ছেলে প্রতাপাদিত্যকে আর তিরিশ শতাংশ ভাই বসন্ত রায়কে ভাগ করে দিয়েছিলেন। প্রতাপাদিত্য চেয়েছিলেন পুরো জমিদারি তাঁকেই দেয়া হোক। কিন্তু শ্রীহরি গুহ বসন্ত রায়ের কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন কেননা বসন্ত রায় বাংলার সুবেদার রাজা টোডরমলকে রাজস্ব নির্ধারণে সাহায্য করেছিলেন। এখানে, একটা কথা বলা দরকার! এই টোডরমলের সম্বন্ধেএকটু বলা দরকাররাজা বসন্ত রায়ের সহায়তায় টোডরমল ভারতে রাজস্ব আদায় কিভাবে আদায় করা উচিত, তার ওপরে একটি রূপরেখা তৈরী করেছিলেনতার ভিত্তিতেএখনও ভারতে এবং সারা পৃথিবীতে মোটামুটি সেই ভাবেই রাজস্ব আদায় করা হয়!আমাদের পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল- মরহুম সৈয়দ নুরুল হাসান, এরসম্বন্ধে একটি বই লিখে গেছেনদি রেভিনিউ সিষ্টেম অফ টোডরমল

আবার ফিরে আসি, মূল কথায়।ভাষা এবং গণিতে সড়গড়, কর্মক্ষম, আর প্রত্যুৎপন্নতার জোরে সহজেই বিক্রমাদিত্যের নজরে পড়েন লক্ষ্মীকান্ত। বিক্রমাদিত্যের ছেলে প্রতাপাদিত্য তখন বাবার আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষক আধিকারিক ছিলেন। বিক্রমাদিত্য লক্ষ্মীকান্তকে নিয়ে এলেন তাঁর ছেলের বিভাগে যাতে দুজনার বন্ধুত্ব থেকে প্রতাপাদিত্য আর রাজস্বের লাভ হয়। ভুঁইঞা থেকে জাগিরদার হয়ে বিক্রমাদেত্যের ঝঞ্ঝাট বেড়ে গিয়েছিল। বয়সে প্রতাপাদিত্য দশ বছরের বড় হলেও, লক্ষ্মীকান্তের সঙ্গে তাঁর নিকট বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

বিক্রমাদিত্যের ছেলে প্রতাপাদিত্য তখন বাবার আয়-ব্যয়ের হিসাবরক্ষক আধিকারিক ছিলেন। বিক্রমাদিত্য লক্ষ্মীকান্তকে নিয়ে এলেন তাঁর ছেলের বিভাগে যাতে দুজনার বন্ধুত্ব থেকে পপতাপাদিত্য আর রাজস্বের লাভ হয়। ভুঁইঞা থেকে জাগিরদার হয়ে বিক্রমাদেত্যের ঝঞ্ঝাট বেড়ে গিয়েছিল। বয়সে প্রতাপাদিত্য দশ বছরের বড় হলেও, লক্ষ্মীকান্তের সঙ্গে তাঁর নিকট বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
তার মাত্র কয়েক বছর আগেই সম্রাট আকবর সুবে বাংলার দখল নিয়েছিলেন। এবং যদিও সম্পূর্ণ বঙ্গদেশকে বাগে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে উঠতে পারেননি, বিভিন্ন ভূখন্ডের সামন্ত, যাঁরা ভুঁইঞা (ভৌমিক) নামে খ্যাত ছিলেন, মোগল দখলদারির আগে প্রায় স্বাধীন ছিলেন, এবং কেবল নাম-কা-ওয়াস্তে মোগল নিয়ন্ত্রণ মেনে নিয়েছিলেন।বিক্রমাদিত্যের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল এই সামন্তরাজদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়, আর সেই সঙ্গে তাঁদের এলাকা থেকে মোগল সৈন্যবাহিনীর জন্য বাঙালি সৈন্য এবং খরচাখরচ যোগাড় করা।সমতট এলাকাটি প্রায় সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ভুঁইঞাদের দেখাদেখি ছোটখাট সামন্তরাও সরকারি পাওনা মেটাতে অস্বীকার করতে লাগলেন। পরে, বিক্রমাদিত্যের নিজেরই ছেলে যশোহরের প্রতাপাদিত্যসহ বারোজন সামন্ত খ্যাত হন বারো ভুঁইঞা নামে। বাকি এগারোজন হলেন বিক্রমপুরের কেদার রায়, ভাওয়ালের ফজল বাহাদুর গাজি, খিদিরপুরের ইশা খাঁ, সাতৈলের রাজা রামকৃষ্ণ, চাঁদপ্রতাপের চাঁদ গাজি, ভূষণার মুকুন্দ রায়, চন্দ্রদ্বীপের বা বরিশালের কন্দর্পনারায়ণ রায়, ভুলুয়ার লক্ষ্মণমাণিক্য, পুঁটিয়ার রাজা, তাহিরপুরের রাজা এবং দিনাজপুরের রাজা। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী সমরনায়ক ছিলেন ইশা খাঁ; যাঁর রাজ্য বিস্তৃত ছিল ঢাকা জেলার অর্ধাংশ, ময়মনসিংহ, পাবনা, রংপুর জেলার কিছু অংশ থেকে ত্রিপুরার সারাইল পর্যন্ত।

লক্ষ্মীকান্ত’র দৌত্য ও পরিকল্পনায় প্রতাপাদিত্য ভুঁইঞাদের নিয়ন্ত্রণে আনলেন, যশোহরের যথেষ্ট শ্রীবৃদ্ধি করলেন, এবং প্রজাহিতকর কাজে হাত দিলেন। লক্ষ্মীকান্তের দৌত্যে বাখরগঞ্জের রাজা রামচন্দ্রের মেয়ের সঙ্গে নিজের ছেলের বিয়ে দিয়ে প্রতিপত্তি বাড়ালেন প্রতাপাদিত্য। মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁর সঙ্গে প্রতাপাদিত্যের সন্ধি করালেন লক্ষ্মীকান্ত। ক্রমে পাশ্ববর্তী রাজাদের হারিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনলেন খুলনা আর চব্বিশ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রতাপাদিত্য এবং লক্ষ্মীকান্ত নিজেরা দিল্লি গিয়ে আকবরের সঙ্গে দেখা করে পুরো বকেয়া মিটিয়ে দিয়ে এলেন। তার প্রতিদানে আকবর প্রতাপাদিত্যকে দিলেন মহারাজার সনদ এবং লক্ষ্মীকান্তকে মজুমদার উপাধি। মৌজার ভূস্বামীরা ‘মজমুয়াদার’ অভিহিত হতেন। ফারসি মজমুয়াদার বাংলায় হয়ে গেছে মজুমদার। মহারাজার খেতাব, পরিবর্তন ঘটিয়ে দিল প্রতাপাদিত্যের চরিত্রে।
মোগল সুবেদারের সঙ্গে সন্ধিভঙ্গ করলেন। লক্ষ্মীকান্ত’র পরামর্শ অগ্রাহ্য করতে লাগলেন তিনি।
সম্রাটের প্রতিনিধি হিসাবে বঙ্গদেশের তখতে শের খাঁ আসার পর, তখতের আধিকারিকদের মধ্যে জোচ্চুরি, খেয়োখেয়ি আর দৌরাত্ম্য এমন বেড়ে গেল যে সৈন্যদের আর সম্রাটের কর্মচারীদের মাইনে দেয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। ভেঙে পড়ল শাসন-ব্যবস্থা। প্রজাদের মধ্যে দেখা দিল তীব্র অসন্তোষ। সুযোগ বুঝে শের খাঁকে অগ্রাহ্য করতে লাগলেন প্রতাপাদিত্য। শের খাঁ আক্রমণ করতে পারেন আঁচ করে, পর্তুগিজ রণকুশলী জলদস্যু রোদ্দা’র সহায়তায় এক শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তুললেন প্রতাপাদিত্য। শের খাঁ তার আধখ্যাঁচড়া আধাপেটা সৈন্যবাহিনী নিয়ে আক্রমণ করলেন প্রতাপাদিত্যের সেনাদের, যার নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত, এবং হেরে নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরে গেলেন। লক্ষ্মীকান্ত, প্রতাপাদিত্যের মহারাজা খেতাব পাবার সময়ে, মোগল সম্রাটের কাছ থেকে মজুমদার খেতাব পান বলে, এসময়ে লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার হিসাবে খ্যাত হন।
বারবার সম্রাটের সেনার আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হবে না আঁচ করে প্রতাপাদিত্য তাঁর কাকা জানকীবল্লভ গুহ, যিনি রাজা বসন্ত রায় নামে খ্যাত ছিলেন, এবং সুন্দরবনের বেশ কিছুটা অঞ্চল পরিষ্কার করে বসত গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপদ মনে করলেন।

কারণ একটাই।সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি, নালার অলিগলিতে পর্তুগিজ নাবিক রোদ্দা’র ডিঙিনৌকা আর পালতোলা জাহাজের চোরাগোপ্তা আক্রমণ সামলে প্রতাপাদিত্যের কাছে পৌঁছানো সম্রাটের বাহিনীর পক্ষে সম্ভব ছিল না।
রাজা বসন্ত রায় ছিলেন ধর্মপ্রাণ বৈষ্ণব, প্রজাবৎসল, এবং তাঁর সাহায্যেই যশোহর রাজত্বের গোড়াপত্তন হয়েছিল। তাঁর সামান্য সম্পত্তির অধিকারের লোভে প্রতাপাদিত্য এবার বসন্ত রায়কে হত্যার ষড়যন্ত্র করলেন। রাজ্য শাসনের বহু ব্যাপারে বসন্ত রায়ের পরামর্শ নিতেন লক্ষ্মীকান্ত, এবং অগাধ শ্রদ্ধা করতেন তাঁকে। হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারা মাত্র চাকরিতে ইস্তফা দিলেন আতঙ্কিত লক্ষ্মীকান্ত, এবং ফিরে গেলেন হালিশহরে, স্ত্রী আর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। বসন্ত রায়কে হত্যা করার পর প্রতাপাদিত্য তাঁর ছেলেকেও খুন করতে ছেয়েছিলেন, যিনি মানকচুর বনে কয়েকদিন লুকিয়ে থেকে বেঁচে যান। লোকমুখে তাঁর নামকরণ হয় কচু রায় ।

লক্ষ্মীকান্ত কোন সালে কোন পরিবারে বিয়ে করেছিলেন, এবং তাঁর স্ত্রী বা স্ত্রীদের নাম-ধাম-পিতামাতা সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুমার রচিত বংশ পরিচয়,সতীশচন্দ্র মিত্র লিখিত যশোহর খুলনার ইতিহাস বা গোরাচাঁদ রায়চৌধুরী সম্পাদিত লক্ষ্মীকান্ত– এ চ্যাপটার ইন দি সোশাল হিস্ট্রি অব বেঙ্গল গ্রন্হে পাওয়া যায় না। এটুকু জানা যায় যে তাঁর একাধিক স্ত্রী ছিল, এবং প্রথমা স্ত্রীর নাম ভগবতীরানী। তবে তাঁর প্রথমা স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য যে বিশেষ ছিল না, তা অনুমান করা যায়, কেননা তাঁর সাত ছেলে আর চার মেয়ের মধ্যে প্রথম সন্তান রাম-এর জন্ম যে সময়ে হয়, যখন লক্ষ্মীকান্তর বয়স মাত্র কুড়ি। সবচেয়ে ছোট ছেলের জন্ম যখন হয় তখন তিনি ষাট পেরিয়ে গেছেন, এবং সুবে বাংলার একজন বিখ্যাত জাগিরদার। তাঁর ছেলেরা হলেন রাম, গৌরী, গোপাল, বীরেশ্বর, কৃষ্ণ, গোপী ও মহাদেব। সমস্ত নামই পারিবারিক দেবী-দেবতা শ্যামরায় ও কালীকেন্দ্রিক। উনিশ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত নামকরণের অমন পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় ছিল।
প্রতাপাদিত্যের সংস্পর্শে থাকলে তাঁর যে ক্ষতি হতো তা হালিশহরে বসে কিছুকালের মধ্যেই টের পেলেন লক্ষ্মীকান্ত। প্রথমে আজিম খাঁ, এবং তার কিছুকাল পরে ইব্রাহিম খাঁ’র নেতৃত্বে আকবর যে সৈন্যবাহিনী প্রতাপাদিত্যকে কাবু করার জন্য পাঠালেন, তারা সুন্দরবনের খাঁড়ি, জঙ্গল আর ম্যালেরিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে গেল। অমন আধমরা সেনাদের মেরে তাড়াতে বিশেষ বেগ পেতে হল না রোদ্দা’র সৈন্যদের। প্রতিদানে, রোদ্দার অনুরোধে, পর্তুগিজ মিশনারি যাজক ফাদার ফনসেকাকে প্রতাপাদিত্যতাঁর রাজধানি যশোহরে যে খ্রিস্টান গির্জা তৈরির অনুমতি দেন, সেইটিই বাংলারপ্রথম গির্জা এর পর বেশ কিছুকাল বাংলার ওপর সম্রাটের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ছিল না। ইশা খাঁ ও তার ছেলে মুসা খাঁ প্রথমে মোগল সেনাপতি শাহ বরদি কে, ও পরে হুসেন কুলি খাঁ’র সেনাদের নিজের এলকা থাকে মেরে তাড়ান।

শাহজাদা সেলিম, ১৬০৫ সালে নুরুদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গির নামে সম্রাটের তখতে বসার পর, বঙ্গদেশ থেকে রাজস্ব, সৈন্যখরচ, ও সেনা সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে দেখে সেনাধিপতি মান সিংহকে বিপুল বাহিনীসহ নির্দেশ দিলেন, যাতে প্রতাপাদিত্য এবং অন্যান্য ভূস্বামী যাঁরা মোগল সাম্রাজ্যকে অবজ্ঞা করে চলেছেন, তাঁদের বিদ্রোহ দমন করা যায়।
মান সিংহ বঙ্গদেশের উদ্দেশ্যে পথে ও নৌকায় বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রওনা দিলেন। পথে মৃত সৈন্যদের দাহ ও ক্লান্তি অপনোদনের জন্যে তিনি কয়েকদিন কাশীতে অবস্থান করেন।কাশিতে বাঙালি সাধু-সন্ন্যাসীদের আধিক্যে মান সিংহ সুবিধা পান। তিনি বাংলার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন; সেখানকার আয়ুর্বেদিক গাছপালা যা আহতদের জন্য প্রয়োজন হবে তার তথ্য সংগ্রহ করেন। সন্ন্যাসীদের সঙ্গে কথাবার্তার সূত্রে তিনি জনৈক জ্ঞানী সন্ন্যাসীর বিপুল জ্ঞানভান্ডার দ্বারা অভিভূত হন। তিনি অবাক হন দেখে যে সংস্কৃত, ফারসি, আরবি ও স্থানীয় অওধিভাষা জানা মানুষটি পাঁচু শক্তি খানের বংশধর। সন্ন্যাসীটি ছিলেন কামদেব ব্রহ্মচারী। যেহেতু শক্তিপূজকদের আক্রমণ করতে যাচ্ছেন, তাই তিনি কামদেব ব্রহ্মচারীর নিকট কালীমন্ত্রে দীক্ষা নেন ।
মোগল সেনাপতি মান সিংহের সঙ্গে সালকা ও মগরাঘাটে প্রতাপাদিত্যের সৈন্যদের তুমুল যুদ্ধ হয়। ইতিমধ্যে ভাওয়ালের ভুইঞা বাহাদুর গাজি মোগল পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন ও মান সিংহকে নিজের বাঙালি সেনা সরবরাহ করেছিলেন। এবার প্রতাপাদিত্য হেরে যান। তার প্রধান কারণ ভবানন্দ মজুমদার নামে একজন তালুকদারের বিশ্বাসঘাতকতায়। ভবানন্দ বর্ধমানে গিয়ে মান সিংহের সঙ্গে দেখা করেন ও কী ভাবে প্রতাপাদিত্যকে ঘিরে ফেলা যায় তার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ভবানন্দের বংশধররা পরবর্তীকালে খ্যাত হন নদীয়ার রাজা নামে। পরাজিত প্রতাপাদিত্য আত্মসমর্পন করেন। তাঁকে বন্দি করা হয়।

নবদীক্ষিত মান সিংহ প্রতাপাদিত্যের আরাধ্যা যশোরেশ্বরীকে এবং তাঁর বাঙালি পুরোহিতদের নিজের সঙ্গে নিয়ে যান, এবং বিশেষ মন্দির গড়ে প্রতিষ্ঠা করেন রাজস্থানের অম্বরে। আরো বহু বন্দীর সঙ্গে প্রতাপাদিত্যকে দিল্লি নিয়ে যাবার দায়িত্ব মান সিংহ দিয়েছিলেন ইসলাম খাঁকে । কিন্তু ইসলাম খাঁ প্রতাপাদিত্যকে জানোয়ারের মতন লোহার খাঁচায় বন্দি করে নিয়ে যান। বন্দী অবস্থায় দীর্ঘ যাত্রা সহ্য হয়নি প্রতাপাদিত্যের। পথে, ১৬১০ সালে, তিনি মারা যান এবং তাঁর দেহসংস্কার হয় কাশীতে। মান সিংহ দিল্লি পৌঁছে প্রতাপাদিত্যের মৃত্যুর সংবাদ পান। আকবরের সামনে বন্দি প্রতাপাদিত্যকে হাজির করা হয়ে ওঠেনি তাঁর, এবং সেকারণে ইসলাম খাঁর কাছে ক্রোধ ও সম্রাটের কাছে ক্ষমা চান।
যুদ্ধে সাফল্যের পর মান সিংহ মণিকর্ণিকা ঘাটে শ্রদ্ধা জানান কামদেব ব্রহ্মচারীকে। মান সিংহ কামদেবের কাছে জানতে চান যে সম্রাট তাঁর জন্য কী করতে পারেন !!!!কামদেব তাঁকে জানান যে লক্ষ্মীকান্তকে যদি মৌজাস্তরের ভূস্বামী থেকে উন্নীত করা হয় তাহলে তার ও তার সন্তান-সন্ততিদের সুবিধা হয়। নদীয়ারাজের পূর্বজ ভবানন্দ কানুনগোকে, যিনি বিশ্বাসঘাতকতার পুরস্কারস্বরূপ প্রতাপাদিত্যের এলাকার মালিকানা পেলেন, মান সিংহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন যে, লক্ষ্মীকান্তকে যেন যথেষ্ট ধনসম্পত্তি দেয়া হয়। মান সিংহ মোগল সম্রাটের কাছেও কামদেব ব্রহ্মচারীর বার্তা পৌঁছে দিলেন। মোগল সম্রাট একটি ফরমান জারি করে বাঁশবেড়িয়ার শূদ্রমণি রাজার সাহায্যে লক্ষ্মীকান্তকে হালিশহর থেকে সম্রাটের কাছে নিয়ে গেলে মোগল সম্রাট লক্ষ্মীকান্তকে “রায় মজুমদার চৌধুরী” উপাধি ও সেই সঙ্গে জাগিরদারের পতাকা, নাকাড়া এবং ঝালরদার পালকি উপহার দিলেন।রায়উপাধিটি অস্থাবর সম্পত্তির জন্য এবং চৌধুরীউপাধি স্থাবর সম্পত্তির জন্য আসলে ফারসি বয়ানের ‘চৌধারি’ বাঙলায় করে নেয়া হয়েছিল ‘চৌধুরী’। লক্ষ্মীকান্ত তাঁর নামের আগে রায় এবং নামের পর মজুমদার চৌধুরী ব্যবহার করতেন। মোগল দরবারে লক্ষ্মীকান্তকে বলা হতো ‘রায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার চৌধুরী’। মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি দেবার পর লক্ষ্মীকান্ত’র বংশধররা নিজেদের নাম থেকে মজুমদার শব্দটি ত্যাগ করেন। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় তাঁদের উপাধিটি হয়ে দাঁড়ায়- পদবী।

মান সিংহ কামদেব ব্রহ্মচারীকে গুরু-মহাত্মা সম্বোধন করতেন বলে, উত্তরভারতে তিনি মহাত্মা কামদেব ব্রহ্মচারী নামে খ্যাত হন। সেসময়ের বিভিন্ন ধর্মপুস্তকে তাঁর উল্লেখ আছে।
নূতন ব্যবস্থায় লক্ষ্মীকান্ত’র বাৎসরিক আয় দাঁড়াল বারো লক্ষ রৌপ্যমুদ্রা। মোগল সম্রাট লক্ষ্মীকান্তকে রাজা উপাধি দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু দেবীবর ঘটকের কুলীন প্রথা প্রয়োগ ও অপব্যবহারের প্রেক্ষিতে, ব্রাহ্মণের নামে রাজা শব্দটি খাপ খাবে না অনুমান করে তিনি নিতে সবিনয়ে অস্বীকার করেছিলেন। তাছাড়া প্রথমে পাঁচু শক্তি খান আর পরে লকজষ্মীকান্ত নিজে অসিযোদ্ধা হয়ে ক্ষত্রিয়বৃত্তি নিয়ে প্রতিপত্তিসম্পন্ন ব্রাহ্মণদের মধ্যে ঈর্ষা ও হিংসে করার আবেগ জাগিয়ে তুলেছিলেন।
যে জায়গির লক্ষ্মীকান্ত পেয়েছিলেন তা হল বেহালাথেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সমগ্র কালীক্ষেত্র, পরগণা মাগুরা, খাসপুর, কলকাতা, পৈকান, আনোয়ারপুর, আমিরাবাদ, হাভেলিশহর, হাতিগড় এবং লাগোয়াসুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলএই কলকাতা ছিল চব্বিশ পরগণার একটি পরগণা এবংকালীক্ষেত্রের ডিহিকলকাতা-সুতানুটি-গোবিন্দপুর থেকে আলাদা এখনকার বৌবাজার, মির্জাপুর, সিমলা আর জানবাজার ছিল ডিহি কলকাতার অন্তর্ভুক্ত।।

গোবিন্দপুরের অন্তর্গত ছিল এখনকার হেস্টিংস, ময়দান এবং ভবানীপুর। এখনকার চিৎপুর, বাগবাজার, শোভাবাজার আর হাটখোলা ছিল সুতানুটির অন্তর্গত। ক্ষমতা বিন্যাসের প্রয়োজনে, লক্ষ্মীকান্ত হালিশহরের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাছারিবাড়ি তৈরি করালেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল বড়িশাগ্রাম ও ডিহিকলকাতা।
ডিহিকলকাতার কাছারিবাড়ির সামনে সাবর্ণ চৌধুরীদের কুলদেবতা শ্যামরায়ের মন্দির ছিল। শ্যামরায় বেশিরভাগ সময় থাকতেন কালীঘাটে আর দোলের সময়ে যেতেন কাছারিবাড়ির মন্দিরে। দোলের সময়ে সামনের পুকুর লাল হয়ে যেত রঙ খেলার দরুণসেই থেকে পুকুরটির নাম লালদিঘি সাবর্ণ চৌধুরীদের এই কাছারি বাড়িতে কেরানি ছিলেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির দাদু, যাঁর নামে অ্যান্টনি বাগান লেন। আর কাছারিবাড়ির প্রধান হিসাবরক্ষক ছিলেন নবকৃষ্ণ দেবের বাবা রুক্মিনীকান্ত। বর্তমানে হালিশহরে শ্যামরায় পূজিত হন অরুণকিরণ রায়চৌধুরীর বাড়িতে। উত্তরপাড়ায় শ্যামরায় পূজিত হন বিশ্বনাথ রায়চৌধুরীর বাড়িতে। অন্যান্য দোলমঞ্চ ও প্রতিমার হদিশ পাওয়া যায় না। সিরাজদ্দৌলার পরাজয়ের পর ( সাবর্ণ চৌধুরীরা সিরাজের পক্ষে ছিলেন), সম্ভবত কোম্পানির সংগ্রাহকরা ব্রিটেনে নিয়ে গিয়ে থাকবেন।
মোগল সম্রাটের ফরমানে একটি বিস্তীর্ণ এলাকার জাগিরদারি লক্ষ্মীকান্ত পেলেন বটে, কিন্তু ভবানন্দ কানুনগো বেছে-বেছে ঘন জঙ্গল ও জলাভূমির অংশটি তাঁর ভাগ্যে বরাদ্দ করেছিলেন, যে অঞ্চলে উচ্চবর্ণের মানুষ বিশেষ যেতেন না। যে কয়টি গ্রাম এই অঞ্চলে ছিল, তাতে বাস করতেন সদগোপ, পৌন্ড্রক্ষত্রিয়, মাহিষ্য, কৈবর্ত, ব্যগ্রক্ষত্রিয়, ঝল্লক্ষত্রিয়, উগ্রক্ষত্রিয়, শৌন্ডকক্ষত্রিয় শ্রমজীবীরা। ব্রিটিশ শাসকদের প্রথম লোকগণনায় এই সমস্ত বাঙালি ক্ষত্রিয়দের শূদ্র হিসাবে বর্ণীকরণ করে দেয়া হয়েছিল। দশ বছরের মধ্যে সমতটের এই অঞ্চলে লক্ষ্মীকান্ত বন-জঙ্গল সাফ করিয়ে, জলাজমি ভরাট করিয়ে, বিভিন্ন পেশার পরিবার এনে, তাদের জমিজমা ও কাজ দিয়ে, বসবাসযোগ্য গ্রামসমূহের পত্তন করলেন। অবশ্য অ-কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবার ও বসাক, শেঠ, দত্তরা তাঁর বংশধরদের অধীন কালীক্ষেত্র অঞ্চলটিতে আশ্রয় নিতে আরম্ভ করেন মারাঠা ভাস্কর পণ্ডিতের দক্ষিণবঙ্গ আক্রমণের পর।

বৌবাজারে সোনার বেনেদের কয়েকটি পরিবারকে লক্ষ্মীকান্ত হালিশহর থেকে এনে ১৬১০ সালেই বসত গড়ে দিয়েছিলেন। নারদপুরাণ-এর গ্রন্হকার কবি কৃষ্ণদাস নিজের আত্মপরিচয় এইভাবে লিখে গেছেন: “সুবর্ণ বণিক কূলে উৎপত্তি আমার…। সাকিন কলিকাতা বহুবাজারেতে গ্রাম। দশ দশ শত নিরানব্বই সালে। মাহ জ্যৈষ্ঠ মাসে এই পুস্তক রচিলে।”
সাবর্ণ চৌধুরী অভিধাটির পাশাপাশি, ভঙ্গকুলীন হবার প্রেক্ষিতে, আরেকটি কাজ করেছিলেন লক্ষ্মীকান্ত। ১৬১০ সালে বড়িশার কাছারিবাড়ির পাশে একটি আটচালা তৈরি করে প্রতিবছর শরৎকালীন দুর্গোৎসবের সূত্রপাত করেন তিনি। সপরিবারে দুর্গা, অর্থাৎ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ, এইটিই সম্ভবত সুবে বাংলার প্রথম শরৎকালীন পুজো।এই পারিবারিক পুজোটিতেই প্রথম কার্তিক আবির্ভূত হলেনবাঙালি জমিদাররূপেতার আগে কার্তিক পূজিত হতেন বর্ম-পরা যুদ্ধেরদেবতারূপে, সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের আদলে তিনপুরুষ পর্যন্ত যেহেতু তাঁর সম্পত্তির বিভাজন হয়নি, তাই প্রজাদের অর্ঘ্যদানের জন্য শারদোৎসবটির জাঁকজমক ছিল বহুকাল পর্যন্ত। আওরঙজেবের পৌত্র আজিম-উস-শানের হুকুমে ১০ নভেম্বর ১৬৯৮ সালে যখন সাবর্ণ চৌধুরীদের বাধ্য করা হলো কলকাতা, সুতানুটি, গোবিন্দপুর গ্রাম তিনটির প্রজাস্বত্ত্ব ইস্ট ইনডিয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করতে, তখন থেকে লক্ষ্মিকান্ত’র বংশধররা আর্থিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হলেন।তারপরে তাঁরা বাধ্য হলেন, ভিন্ন জীবিকার সন্ধানে, বঙ্গদেশ ও ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়তে। হস্তান্তরের সময়েও, অতবড় বিপদের মুখে, তাঁরা কিন্তু ফারসি দলিলটিতে বঙ্গদেশকে জন্নত অর্থাৎ স্বর্গ বলতে ভোলেননি।

লক্ষ্মীকান্ত’র বংশধরদের গৌরব অবসানের আরেকটি কারণ হল যে জগৎশেঠ, রাজা মহেন্দ্র, রাজা রামনারায়ণ, রাজা রাজবল্লভ, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, দুর্লভরাম, গঙ্গারাম ঠাকুর, নকুড়চন্দ্র সরকার, গোবিন্দরাম, রঘুমিত্র, শোভারাম বসাক, শুকদেব মল্লিক, দয়ারাম বসু, হরিকৃষ্ণ ঠাকুর, দুর্গারাম দত্ত, চৈতন্য দাস, দুর্লভচরণ বসাক, চূড়ামণি বিশ্বাস, রাজারাম পালিত, নীলমণি চৌধুরী প্রমুখ হিন্দু ভূস্বামী আর বণিকরা যখন সিরাজদৌলার বিরুদ্ধে দল বেঁধে ইস্ট ইনডিয়া কোম্পানিকে সাহায্য করা আরম্ভ করেছিলেন, তখনও সাবর্ণ চৌধুরীরা নবাবের পক্ষ ত্যাগ করতে পারেন নি দেশপ্রেম তাঁদের ছিল বংশগতনাটোরের রাণী ভবাণী কিন্তু সিরাজদৌলার বিরুদ্ধে যেতে চান নিরাজা কৃষ্ণচন্দ্র ইংরেজদের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা ধার করতেন তাই সিরাজের বিরুদ্ধে যাওয়ার মূল প্ররোচনা ছিল তাঁরই। ফলে ইংরাজরা সাবর্ণ চৌধুরীদের আর দাঁড়াতে দেয়নি। ইংরাজদের নতুন ক্ষমতানকশায় তাঁরা একেবারে অপাংক্তেয় হয়ে যান।
ধীরে ধীরে, ইংরেজদের মানদণ্ড পরিণত হয় রাজদণ্ডে।

নগর কোলকাতার সাথে সাবর্ণ পরিবারের অবিচ্ছেদ্দ সম্পর্ক ছিলতাই এত কথা লিখলাম

আপনারা যদি কষ্ট করে একটু পড়েন, তা হলে, আমার এই পরিশ্রম সার্থক হয়

ঋণ:-সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের ব্লগ এবং হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কোলকাতার ইতিহাস( পি. এম. বাগচী প্রকাশন)  ও কোলকাতা বিষয়ক বিভিন্ন সাইট।
(
সমাপ্ত)

Posted by GHANADA on October 10, 2011 05:41 AM· permalink

সংবাদ প্রতিদিন : ১০ অক্টোবর ২০১১

মেডিকেল কলেজের গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা
সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ: উপজেলা চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করছেন!
দুর্নীতির অভিযোগে চাপের মুখে সরকার
সিলেট অভিমুখে খালেদা জিয়ার রোডমার্চ আজ
রাজধানীতে জামায়াতের মিছিল : রোডমার্চ সফলের আহ্বান ও নেতা কর্মীদের মুক্তি দাবি
সাঈদীর মুক্তির জন্য কুনুতে নাজেলা পড়ুন -ইসলাহুল উম্মাহ
বিদ্যুতকেন্দ্র বেড়েছে, উৎপাদন বাড়েনি
মহাখালী ও জুরাইনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে ২১ লাখ টাকা ছিনতাই
আইভীকেই সমর্থন দেয়ার সিদ্ধান্ত : শামীমকে শান্ত করার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
নাসিম ওসমানের হুঙ্কার : না’গঞ্জে আমরা একচ্ছত্র শক্তি
প্রথম আলোকে দেখে নেয়ার হুমকি নাসিম ওসমানের
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার অভিযোগের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে মতিউর!
প্রথম আলো ও তার সম্পাদক জঙ্গিদের অর্থ জোগানদাতা
দেশের মিডিয়া জাতিকে আতঙ্কগ্রস্ত করছে : খাদ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেরেকী : ১২ দল
পুঁজিবাজারে পতনের কালো মেঘ
বেসরকারি ব্যাংকের সেবা পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ
সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস : লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিক্রি ৯৫ শতাংশ কম
পাসপোর্ট অফিসে ২০০ দালাল সক্রিয়
পিতার গোপন বিয়ে মেনে নিতে পারেনি অভিমানী মেয়ে রিদিতা
ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে তিন যুবককে হত্যা অধিকারের রিপোর্ট
নেতার মুরগী, তাই ট্রেনের ভিআইপি কেবিনে!
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী যুবককে পুড়িয়ে হত্যা১০০০ বাংলাদেশী সৌদি কারাগারে
ওমানে আটক ৮০০ বাংলাদেশী
লন্ডনে আফগান যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ নেতৃত্বে অ্যাসাঞ্জ ও জেমিমা খান
আমেরিকান সমাজের লুকানো ক্ষত উন্মোচন
মৃত্যুর দুয়ারে দাউদ হায়দার
১০ হাজার টাকার নোটবুক ‘দোয়েল’ আসছে কাল

স্থানীয় উদ্যোগে কক্সবাজারের রামু উপজেলার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল রোববার থেকে শুরু করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল


আরো কিছু লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 10, 2011 02:30 AM· permalink

যারা দুর্গাকে,মুর্র্তিকে,হিন্দুদেরকে মুহব্বত, ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সম্মান করবে তারা আল্লাহ পাক-এর নিকট অপছন্দনীয় ও অসন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

হিন্দু সম্প্রদায় তারা তাদের দুর্গাকে তাদের দেবতার অবতার হিসেবে মেনে থাকে। অথচ এই হিন্দু সম্প্রদায়  কাফির-মুশরিকের অন্তর্ভুক্ত।   আল্লাহ পাক এদের সম্পর্কে কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,  “নিশ্চয়ই যারা কাফির এবং কুফরী অবস্থায় মারা গেছে, তারা যদি যমীন পরিপূর্ণ স্বর্ণ তার ফিদিয়া বা কাফ্ফারা বাবদ দেয় (আমার থেকে বাঁচার জন্যে), তা কখনো গ্রহণ করা হবেনা। তাদের [...]

Posted by NOJOAN on October 09, 2011 07:54 PM· permalink

কাফেররা মুসলমানের শত্রু তার প্রমাণ(৪)

ফিলিপাইনের একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় ২ মুসল্লী নিহত; 2010/05/09 রেডিও তেহরানের বরাত দিয়ে আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় ২ মুসল্লী নিহত ও অপর ১২ জন আহত হয়েছে। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের একটি মসজিদে গ্রেনেড হামলায় ২ মুসল্লী নিহত ও অপর ১২ জন আহত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা [...]

Posted by nirvik sanapoti on October 09, 2011 06:44 PM· permalink

মরক্কোর তকিউল্লাহ্ এর পা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পা

ব্রাহিম তকিউল্লাহর পায়ের দিকে কারও নজর পড়ে না। নজর পড়ে তাঁর উচ্চতার দিকে। কারণ তিনি আট ফুটেরও বেশি লম্বা। অথচ তকিউলল্লাহর আশা পায়ের জন্যই তিনি বিখ্যাত হবেন। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে ঘুরে বেড়ানোর সময় লোকজন তাঁর দিকে অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। আর জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনি কি পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা মানুষ।’ আসলে তিনি তা নন। তবে তাঁর পা [...]

Posted by সকাল-বিকাল on October 09, 2011 05:48 PM· permalink

যুক্তরাষ্ট্র মন্দা, বেকারত্ব, কর্পোরেট আগ্রাসন এবং সামাজিক বৈষম্য চরমে -শুধু ওয়াল স্ট্রিট নয়, সবকিছু দখল করো

যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেটবিরোধী ‘অকুপাই ওয়ালস্ট্রিট’ আন্দোলন ২৩তম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা এখন দাবি করছে, শুধু ওয়ালস্ট্রিট নয় যুক্তরাষ্ট্রের সবকিছুর দখল নিতে হবে। বদলে ফেলতে হবে সবকিছু। রোববার বোস্টন, সানফ্রান্সিসকো, শিকাগো ও হিউস্টনেও বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটার ও ফেসবুকেও আন্দোলনের উত্তাপ ছড়াচ্ছে তরুণরা। এদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক লেবার ইউনিয়নের নেতারা। আন্দোলনের পরামর্শক [...]

Posted by মুহিউদ্দীন on October 09, 2011 05:31 PM· permalink

জীবনে তৃপ্তি পেয়ে আত্মহত্যা করল এক ভারতীয় দম্পতি!

ভারতীয় একটি দৈনিক পত্রিকা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গে প্রকাশিত এ খবরটি পড়ে কিছুটা অবাক হলাম। মানুষ কিরকম নির্ভোধ হলে এমন কাজ করতে পারে? খবরটি পড়ে দেখুন…মজা পাবেন.. এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য দিন…

Posted by জুলফিকার on October 09, 2011 03:01 PM· permalink

এমন নি:শব্দ ক্রন্দনে আমি তৃপ্তি পাই….!

আমি প্রশান্ত আত্নার ক্বাছিদা শরীফ লেখক হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার ক্বাছিদা শরীফ পাঠক হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার লেখক-গবেষক হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার আনজুমান আমীল হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার বন্দ্ধু হতে চাই,আমি প্রশান্ত আত্নার আশিক হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার মাশুক হতে চাই, আমি প্রশান্ত আত্নার সহযোগী হতে চাই, আসলে এ সবই [...]

Posted by নি:শব্দ ক্রন্দন on October 09, 2011 10:09 AM· permalink

সৌদিতে প্রকাশ্যে আট বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত শুক্রবার আসরের নামাজের পর স্থানীয় আইন অনুযায়ী রিয়াদের আল হাকাম প্যালেসের কাছে জাস্টিস স্কয়ারে জনসমক্ষে তাঁদের শিরশ্ছেদ করা হয়। ২০০৭ সালের এপ্রিলে এক সশস্ত্র ডাকাতি এবং এ সময় এক মিসরীয় নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার দায়ে তাঁদের শিরশ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে [...]

Posted by সূচনা on October 09, 2011 06:12 AM· permalink

সংবাদ প্রতিদিন : ০৯ অক্টোবর ২০১১


আট  বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ
ক্ষমা করেনি নিহতের পরিবার
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পাচ্ছে যুবলীগ ক্যাডার দুলাল!
কিশোরগঞ্জে ঘোষণা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা
দেশে কালো টাকা জিডিপির ৮১%
তিন বছরে ২ হাজার গার্মেন্ট বন্ধ

সরকারকে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
শেয়ারবাজারে বাড়ছে বিদেশী বিনিয়োগ
পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে সাড়া মিলছে না
বাজারে হঠাৎ করে তীব্র ডলার সঙ্কট
কাল প্রথম কর্মসূচি সিলেট অভিমুখে : খালেদা জিয়ার রোডমার্চ ঘিরে তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন হাওয়া
চূড়ান্ত আন্দোলনে বিএনপি, সতর্ক আ’লীগ
রোডমার্চে বাড়তি নিরাপত্তা দেবে না প্রসাশন
সোহেল তাজের গণমঞ্চে ১২ সচিব
দেশ বেদখল হয়ে আছে : আনু মুহাম্মদ
বরিশালে শ্রমিক লীগ নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিককে কুপিয়ে গুরুতর জখম
টোকিওতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করায় দুই আ’লীগ কর্মী গ্রেফতার
১৪৪ ধারা জারি করে বাবুকে স্মরণ করতে দেয়া হয়নি : বর্তমান সরকারের কাছে হত্যার বিচার চেয়ে লাভ নেই : বাবুর স্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সামরিক মহড়া আজ শুরু
করিমগঞ্জে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা : বিভিন্ন স্থানে আরও ১০ জন খুন
রাজধানীতে নারীর বস্তাবন্দী ও যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার: শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু
অপহরণ বা নিখোঁজ সংবাদ
আই অ্যাম এ ডিসকো ড্যান্সার
সন্তান নিলে পুরস্কার!
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

বাঘায় চাদার দাবীতে ভটভটি চালককে মারপিট করায় পুলিশের সোর্সকে গাছের সঙ্গে বেধে জনতার গণপিটুনি

আরো কিছু লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 09, 2011 02:16 AM· permalink

প্রাণীর ছবিযুক্ত আসবাব পত্র,বই-কিতাব, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করাও হারাম ও নাজায়িয।

শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবিযুক্ত আসবাব পত্র,বই-কিতাব, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করাও হারাম ও নাজায়িয। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, تعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الاثم والعدوان. অর্থাৎ, “তোমরা নেকী ও পরহিযগারীতে সাহায্য করো। গুনাহ ও নাফরমানীতে সাহায্য করো না।” (সূরা মায়িদা-২) تصویر یروں کا خریدنا   بیچنا ناجائز ہے خواہ وہ چھوٹی ہو [...]

Posted by nirvik sanapoti on October 09, 2011 02:10 AM· permalink

Collectde : ভুল থেকে শেখা (পর্ব-১)

শেয়ার বাজার হচ্ছে সম্ভবতঃ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা যেখানে লাভের চেয়ে লস করা অনেক সহজ। শেয়ার বাজারে সবাই লাভ করতে আসে, লাভ করে গুটি কয়েকজন, বাকিরা পুঁজি হারিয়ে শেয়ার বাজার থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যান। শেয়ার ব্যবসা আমার পেশা নয়, শখের বশে করি। কিন্তু শেয়ার ব্যবসাই যাদের রুটি রুজি তারা যদি লাভ না করে বরং পুঁজি হারিয়ে বসেন তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছু হতে পারে না। একটা কথা প্রচলিত আছে " শেয়ারবাজারে লস না দিয়ে কেউ লাভ করতে শেখে না। এই কথাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শেয়ারবাজারে ঢোকার আগে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে শিখে পড়ে আসেন এ রকম লোক হাজারে দু এক জন পাওয়া যেতে পারে। বাকিরা সবাই আসেন আলাদিনের চেরাগ দেখে যেখানে ঘষা দিলেই দৈত্য এসে অট্টহাসি দিয়ে বলবে " হুকুম করুন মালিক" , আর তখনই আপনি বলবেন ২০ লাখ টাকা দিয়ে শেয়ার কিনেছি, এটাকে ৩ মাসে ৪০ লাখ বানিয়ে দে। দৈত্য মাথা চুলকে বলবে " মালিক, আপনার শেয়ার তো সবগুলাই পচা, এগুলা থেকে তো ৪০ লাখ বানানো সম্ভব না, তবে আপনি বললে ২০ লাখকে ১০ লাখ বানিয়ে দিতে পারি। " দৈত্য যে সব কিছু পারে না, এটাতো আপনার জানা ছিল না। কি আর করা? আলাদিনের চেরাগ ঘষার চিন্তা বাদ দিয়ে আপনি চিন্তা করতে বসলেন। কি করা যায়? বাবার পেনশনের ৫ লাখ টাকা , বউয়ের গহনা বন্ধক রেখে ২.৫ লাখ , নিজের জমানো ২.৫ লাখ, মোট ১০ লাখ আর লোন ১০ লাখ সর্বমোট ২০ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেছি। ১ বছর হয়ে গেছে লোনের সুদ দেড় লাখে এসে ঠেকেছে। আর ২০ লাখ টাকার শেয়ারের দাম এখন ১২ লাখে এসে ঠেকেছে। লোনের সুদ সমন্বয় করলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা থাকে, কোন একদিন সব শেয়ারের দাম ৫০ হাজার টাকা কমে গেলেই ফোর্স সেল। খালি হাতে ফিরতে হবে। এখন আর ভিক্ষা চাই না, কুত্তা সামলাও অবস্থা। যদি কোনভাবে পুঁজি তোলা যায় তবে জীবনে আর শেয়ারবাজারের নাম তো নেবই না, চৌদ্দ গুষ্ঠির কাউকে এই ব্যবসায় আসতে দেবো না। আমাদের বেশীরভাগই এমন চিন্তা করি, নিজের ভুলগুলো ধরতে পারিনা। কিছু ভুল আছে যেগুলো শোধরানো যাবে না, যেগুলো শোধরানো যাবে আসুন সে ভুল গুলো খুঁজে বের করি, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুনভাবে শুরু করি। আমি নিশ্চিত আপনার ভুলগুলো শোধরাতে পারলে আপনি লসের ধারা থেকে বের হয়ে লাভের মুখ দেখতে থাকবেন এবং শেয়ারবাজারে একজন ভালো বিনিয়োগকারী হিসেবে টিকে থাকবেন। জটিল বিষয় পরিহার করে খুব সহজ ভাষায় লিখতে চেষ্টা করছি।

কি রেডি তো? আসুন ভুলগুলো খুঁজে বের করি এবং শুধরে ফেলি।


একঃ আপনার মানি ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা কেমন?
-------------------------------------------------------------

বাজারের আপ ডাউন থেকে লাভ বের করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মানি ম্যানেজমেন্ট। কয়েকটি প্রশ্ন করুন নিজেকেঃ

(১) আপনি কি আপনার সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছেন?
(২) কোন একটি শেয়ার কেনার পর দাম কমে গেলো । এটাকে ব্যাক আপ দেবার ক্ষমতা কি আপনার আছে?
(৩) কোন একটি শেয়ার হঠাৎ বাড়তে শুরু করলো , এটা থেকে ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ওই শেয়ার ধরার ক্ষমতা কি আপনার আছে না সব টাকা খাটানো?
(৪) কোন শেয়ারের দাম একদিনে অনেক বেশি পড়ে গেলো, অনেক বেশি ভলিউমে ট্রেড হল, আপনি কি ওখানে এভারেজ করে আপনার গড় কমিয়ে এনেছেন?

আপনার উত্তর মিলিয়ে নিনঃ

১ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ এবং ২ও ৩ নং প্রশ্নের উত্তর না হলে আপনি দশের মধ্যে শূন্য পেয়েছেন। আসুন এবার পাশ করার কৌশল শিখে ফেলি।

যে কোন ব্যবসায় ঝুঁকি আছে। যেখানে ঝুঁকি বেশি সেখানে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। ঝুঁকি ততটুকু নেওয়া উচিত যেটা মোকাবেলা করা যাবে। যেটা সাধ্যের বাইরে চলে যাবে সেই ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। তাই ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য কিছু টাকা ক্যাশ রাখতে হয়। উঠতি বাজারে অন্ততঃ ২৫% টাকা হাতে রাখা ভালো যাতে আপনার পোর্টফোলিও প্রয়োজনে এডজাস্ট করতে পারেন। পড়তি বাজারে ৭৫% টাকা ক্যাশ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমরা ৯৯% লোক এই ভুলটা করা থাকি। আমাদের ধারণা যত বেশি বিনিয়োগ তত বেশি লাভ, আমি বলবো যত বেশি বিনিয়োগ তত বেশি ঝুঁকি, তত বেশি লোকসানের সম্ভাবনা। উঠতি বাজারে আপনি দেখবেন ভালো শেয়ারের চেয়ে খারাপ শেয়ার লাফালাফি বেশি করছে, একইভাবে পড়তি বাজারে খারাপ শেয়ারগুলোই দ্রুত পড়ছে। তাই মানি ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে এই একটি বেসিক নিয়ম যদি আপনি মেনে চলেন আপনার ঝুঁকির মাত্রা কমে আসবে।

একটা উদাহরন দেওয়া যাকঃ আপনার বিনিয়োগ ১০ লাখ টাকা। কোন একটি আপট্রেন্ডে আপনার ২ লাখ টাকা লাভ হল। বাজার ডাউন ট্রেন্ড শুরু করলো। দাম আরো বাড়ার আশায় আপনি শেয়ার ধরে রাখলেন। বাজার পড়তে পড়তে আপনার ২ লাখ টাকা লাভ ও চলে গেলো আপনার পুঁজি থেকে আরো এক লাখ টাকা কমে গেলো। বাজার যখন আপট্রেন্ড শেষ করে ডাউন ট্রেন্ড এর ইঙ্গিত দিবে তখন আপনি আপনার শেয়ার বিক্রি করে দিলে পতনের শেষে আবার যখন বাজার ঘুরে দাঁড়াবে তখন আপনার বিনিয়োগ সক্ষমতা থাকতো ১২ লাখ টাকা, পড়তি বাজারে আপনি ৩ লক্ষ টাকা সুরক্ষা করতে পারলেন যা পরের আপট্রেন্ডে আপনাকে আরো লাভ দিতে পারে।

আমিতো আপট্রেন্ড ডাউন ট্রেন্ড এর মাথামুন্ডু কিছু ধরতে পারছি নাঃ
---------------------------------------------------------------------------------

আপনি ধরতে পারছেন না এটা ঠিক নয়, আপনার অবচেতন মন লসের আশঙ্কায় আপনাকে ভুলিয়ে রেখেছে। বাজার পতনের সময় ও বাজার আর পড়বে না মর্মে আপনি কিছু যুক্তি তুলে আপনার মতে অনড় আছেন। বাজার উঠতে উঠতে যখন প্রায় ম্যাচিউর হয়ে গেছে তখনো আপনার অবচেতন মন আপনাকে বলছে দাম আরো বাড়বে, কেন বাড়বে তার কোন যুক্তি কি আপনার কাছে আছে? নেই, শুধু আছে লোভের তাড়না। আপনি দেখবেন পতনের সময় যত ভালো নিউজই আসুক না কেন তা পতন ঠেকাতে পারছে না, আবার উঠতি বাজারে ছোট্ট একটি সংবাদ বাজারকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এর কারণ কি আপনার জানা আছে? ওই সংবাদ কি বাজারকে উঠাচ্ছে নামাচ্ছে নাকি এই সংবাদকে বাজার উঠানামায় কেউ ব্যবহার করছে? আপনি কি খেয়াল করেছেন সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ গত বছর কোন লভ্যাংশ না দিলেও ডিক্লারেশন এর দিন ঐ শেয়ারের দাম কেন আপার সার্কিট স্পর্শ করেছিল? আবার এ বছরের শুরুতে এনবিএল সবার আগে ৯৫% বোনাস শেয়ার ঘোষণা করার পরও কেন ওই শেয়ারের দাম কমেছিলো? এই দুইটি প্রশ্নের উত্তর হল প্রথম শেয়ারের ঘোষণার সময় বাজার পাগলা ঘোড়ার মত দৌড়াচ্ছিল আর দ্বিতীয়টির সময় বাজার দ্রুত নামছিলো। একটু খেয়াল করলে আপনি ধরতে পারবেন। খুব সহজ ভাষায় যদি বলি বাজারের সাধারণ নিম্নসীমা হল ৫৩০০ আর উর্ধ্বসীমা ৬৭০০। নিম্নসীমার কাছাকাছি দেখবেন কোন একদিন হঠাৎ খুব বেশি ইনডেক্স বেড়েছে, একইসাথে টার্নওভার ও বেড়েছে আর ঐ দিনের ক্লোজ আগের দিনের উর্ধ্বসীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। টিএ তে একে আমরা বলি রেজিস্ট্যান্স ব্রেক। একইভাবে বাজার যখন উর্ধ্বসীমার কাছাকাছি পৌঁছাবে তখন কোন একদিন দেখা যাবে বাজার হঠাৎ বেশ পড়ে গেছে যা আগের দিনের ক্লোজ এর চেয়েও বেশি এবং আগের দিনের চেয়ে টার্ণওভার বেশ কমে গেছে। আর বেশি টার্ণওভার এর সাথে ইনডেক্স এর বেশি পতন (ভলিউম ব্রেক আউট) হলে তা নিশ্চিত পতনের শুরু ধরা যায়।

বড় বড় পন্ডিতরা তো বলছেন শেয়ারবাজারে এখনি বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়, আর আপনি কি প্যাঁচাল পাড়তেছেন?
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

বড় বড় পন্ডিতরা তাদের অবস্থান থেকে নিজ নিজ বক্তব্য দেন। আইসিবির চেয়ারম্যান কয়েকদিন আগে বললেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের এখনই উপযুক্ত সময়। কিন্তু আইসিবি কি এখন পুরো টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছে? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সূচক ৬০০০-৬৫০০ এর মধ্যে থাকা উচিত। এই অতিকথনের বাজারে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সূচক কি উনার কথা ফলো করেছে? এই বক্তব্যের সারমর্ম হল বাজার যেন ৬০০০ এর নিচে না যায় সেজন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, আবার সূচক যখন ৬৫০০ এর উপরে যাবে তখন সতর্ক হবেন। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন প্রধানমন্ত্রীর এই লিমিটের নিচে যেহেতু সূচক নেমেছে , একসময় ৬৫০০ এর উপরেও যাবে। আর এখন যেমন দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সূচক পড়া থামাতে পারছেন না, তখনো পারবেন না।


সব পন্ডিতে বলে শেয়ার হোল্ড করেন, আর আপনি মহাপন্ডিত বলছেন ছেড়ে দিতে, আপনি কি কোনো গ্যাম্বলার এর এজেন্ট?
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

আমরা যারা ছোট বিনিয়োগকারী আমাদের জন্য ১০% এর বেশি লস কিন্তু অনেক লস। বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য তা কোন লসই না। ধরুন মালেক স্পিন এর শেয়ার আপনি কিনবেন ভেবেছেন। এখন এটার দাম ৬০ টাকার কাছা কাছি, আপনার বাই টার্গেট ৫০ টাকা, আপনি দেখলেন ৫২ টাকার নিচে আর নামছে না, ৫২-৫৪ রেঞ্জে ট্রেড হচ্ছে। আপনি ঐ রেঞ্জে বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু একজন বড় বিনিয়োগকারী যিনি ৫ কোটি টাকার মালেক স্পিন কেনার জন্য বসে আছেন তিনি তো ৬৫ লেভেল থেকে কেনা শুরু করেছেন, এটা কমতে কমতে ৫৫ টাকায় যাওয়া পর্যন্ত তিনি কিনতে থাকবেন আবার ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা উঠা পর্যন্ত কিনতে থাকবেন। এতে তার এভারেজ প্রাইস হবে ৬০ টাকার কাছাকাছি। ৬৫ তে কেনার পর দাম ৫৫ তে গেলে আপনার লস হচ্ছে ১০ টাকা, আবার ৬৫ তে উঠার পর আপনার লস কভার হচ্ছে, এখন যে কয় টাকা উঠবে সে কয় টাকা আপনার লাভ। আপনি ৫৫ তে কিনে ৬৫ তে বিক্রি করে দিলেইতো এই শেয়ার তার দাম বাড়তে শুরু করার মুহুর্তেই আপনার পোর্টফোলিওতে ২০% লাভ ঢুকে যাচ্ছে। কি বোঝা গেলো? এখন বলুন আমি কি গ্যাম্বলার এর এজেন্ট না আপনাদের স্যাভিয়র?

দাম কমলে এভারেজ করবো না তো ঐ লস আপনি পুষিয়ে দেবেন?
--------------------------------------------------------------------------------

আপনি এভারেজ করে আরো যে লস করবেন এভারেজ না করে আগে বিক্রি করে দিলে কম লসে বের হয়ে আসতে পারতেন। ধরুন সন্ধানী ইন্স্যুরেন্স এর ১ লট শেয়ার রেকর্ড ডে এর পরে আপনি ২৭০ টাকায় কিনেছেন। এটার দাম ২ দিন বাড়ে, ৩ দিন কমে। ২৬০ টাকায় চলে আসলো। ২৫৮-২৬২ লেভেলে বেশ কয়েকদিন বেচা কেনা হচ্ছে। হটাৎ একদিন দেখলেন ২৬০ থেকে এটা ২৪০ টাকায় চলে এসেছে, ঐ দিন টার্ণওভার গত ৩/৪ দিনের এভারেজ টার্ণওভারের চেয়ে অনেক বেশি। এই শেয়ারের উপর যে খাস গজব নাযিল হবে তার আলামত দেখার পরও আপনি এভারেজ করবেন? তাহলে করতে থাকেন আর লস খেতে থাকেন। আমিতো ভাই ঐ শেয়ারের উপর যেদিন গজব নাযিল হয়েছে সেদিনই বেচে দিয়েছি, আমি ১০% লস দিয়ে বের হয়েছি। আপনার খবর কি? এই প্রশ্নের উত্তর কি হতে পারে তা আমি আগেই জানি। আ-না মারিজুন খাতিমুন। মানে আমি মারা গেছি।

শুধু একটা কথা মনে রাখবেন কোন দিন আগের দিনের চেয়ে অনেক বেশি ভলিউমে ট্রেড আর দাম আগের দিনের সর্বোচ্চ দামের চেয়েও কমে গেলে বুঝবেন ওই শেয়ারের উপর খাস গজব নাযিল হয়েছে । ( ডাউন সাইড ব্রেক আউট)

দাম পড়লে ব্যাক আপ দেওয়ার কথা বলেন, আবার বেশি পড়ে গেলে এভারেজ না করার কথা বলেন, আপনার কথা তো আমার মাথায় ঢুকতেছে না, আপনি কি টেকনিক্যাল এনালিস্ট নাকি জিঞ্জিরার নকল তালা বানানোর টেকনিশিয়ান?
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

যা খুশি ভাবতে পারেন। কোন শেয়ারের ডাউন সাইড ব্রেক আউট হয়ে গেলে আপনার উচিত হবে দ্রুত ঐ শেয়ার খালি করে ফেলা। পেছনে ফিরে তাকানোর দরকার নেই। প্রতি ২০ টার মধ্যে হয়তো ১ টা আবার ঘুরে আসতে পারে, বাকি ১৯ টাই একই আচরণ করবে। ব্যাক আপ দেওয়ার কথা বলছি, এটাও এভারেজ করার মতই , কথা সত্য। তবে পার্থক্য আছে। কিছু শেয়ার ক্যাশ রাখলে হঠাৎ কোন মওকা পাওয়া গেলে তা যেমন ধরা যায়, তেমনি আপনার যেই শেয়ারের পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো সেটাতে বাকি টাকা ইনভেস্ট করে দুর্বল পারফরম করা শেয়ার বেচে দিয়ে আবার ক্যাশ করে রাখতে পারেন। কনফার্ম আপট্রেন্ডে সব শেয়ারের দাম একদিনে নাও বাড়তে পারে। যদি কোন শেয়ারের দাম আগের কেনা দাম থেকে কিছুটা কমে পাওয়া যায় তাহলে ওই শেয়ারে কিছুটা খাটানো যায়। এটাকে ঠিক এভারেজ বলা যায় না।


মানি ম্যানেজমেন্ট এর এটা একেবারে বেসিক। আমি শুধু বেসিক নিয়েই আলোচনা করবো। এতটুকু করতে পারলেই আপনি আগের চেয়ে অনেক দক্ষ বিনিয়োগকারী হয়ে উঠবেন। আমার কথা আপনার মনে ধরলো না? তাইলে বাদ দেন। আপনার মত করে ট্রেড করেন আর সামনের বছর মূলধণের অর্ধেক হারিয়ে তারপর আমার লেখাটা খুঁজে বের করেন।

(চলবে...)
পরবর্তী পর্ব- পজিশন সাইজিং।

Writer : Taj U Ahmed

Posted by Pir Shaheb (noreply@blogger.com) on October 08, 2011 09:04 PM· permalink

Collected : ভুল থেকে শেখা (পর্ব-২)


পজিশন সাইজিং

=========

মসজিদে নামাজপড়তে গিয়ে জুতা হারিয়ে আসার ঘটনা আমাদের দেশে বিরল নয়। আমাদের কেউ কেউ হয়তো এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে থাকতেপারি। জগত সংসারের সমস্ত কিছুভুলে যখন আমরা সৃষ্টিকর্তার ধ্যানে মশগুল হই, তখনই এই অকস্মাৎ ঘটনা ঘটে বিনা মেঘে বজ্রাঘাতের মত। হায়রে চোর!!! নামাজও পড়তে দিবি না ঠিকমত? এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি যিনি হয়েছেন নামাজে দাঁড়ানোর পর তার মনে যদি এই চিন্তা উঁকি দেয় তাহলে তো আরনামাজই হলনা ঠিকমত। তাহলে উপায়? উপায় অবশ্যই আছে। কেউ কেউ জুতা হারানোর ভয়েজুতা হাতে নিয়েই মসজিদে ঢুকে যান, কেউবা আবারজুতায় নিজের নাম লিখে রাখেন বা চিহ্ন দিয়ে রাখেন বা অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। আমি একটা উপায়বলে দিতে পারি (হাস্যকর শোনাতে পারে) , জুতা রাখার যে বক্স আছে সেখানে ২ বক্সে যদি ২ টা জুতা রাখা যায় তাহলে কেমন হয়? চোরের কি অত সময় আছে ২ বক্স থেকে ২ টা জুতা খুঁজে চুরি করবে?

কি মনে ধরলোআইডিয়াটা?

ব্যবসা মানেইঝুঁকি। আর শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ? সেখানে তোঝুঁকি আরো বেশি। তাই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্যআমাদের কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। আমার সব মূলধন যদি এক শেয়ারে খাটাই তাহলে আমি খুব বেশি লাভবান হতে পারি, আবার খুব বেশি লোকসানের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারি। ঝুঁকি কমানোর একটা কৌশল হল পজিশন সাইজিং। অর্থাৎ আপনি যে সবশেয়ারে টাকা খাটাবেন (পজিশন নেবেন)  তার আকার (সাইজ) নির্ধারণ করে দেওয়া।তাহলে আমরা বলতে পারি শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ের আকার নির্ধারণের পদ্ধতিই হচ্ছে পজিশন সাইজিং। পজিশনসাইজিং এর ব্যাখ্যায় আমি খুবসহজভাবে লেখার চেষ্টা করবো। কোন সংজ্ঞা, সূত্র, তত্ব -কোন কিছুতে যাবোনা। বিষয়টা হৃদয়ঙ্গম করাই হলমূলকথা, আমরাতো আর মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে যাচ্ছি না।


পজিশন সাইজিংএর সারকথা হল "সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখতে নেই"। সহজ উপায় হল আপনার মূলধনকে কয়েকটি সমান ভাগে ভাগকরে ঝুঁকিকে ভাগ করে দেওয়া। যেমন আপনার মূলধন যদি ৩০ লক্ষ টাকা হয় তাহলে তাকে (৪* ৭.৫ লাখ) বা (৫* ৬ লাখ) বা (৬*৫ লাখ) অথবা যুক্তিসঙ্গত ভাগে ভাগ করেদেওয়া। এভাবে মূলধণ ভাগ করে দেওয়ার অর্থ হল আমরা আমাদের ঝুঁকিকে ভাগ করে দিলাম, কোন একটি শেয়ারের দাম হঠাৎ অনেক বেশি পড়ে গেলে তা যেন পুরো মূলধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।

একটা শেয়ার আমরাতখনই কিনি যখন এটা থেকে লাভের সম্ভাবনা দেখা যায়। প্রত্যেক ব্যবসায়ই একটা প্রত্যাশিত লাভ সবাই আশা করেন, বাস্তবে তা থেকে কিছু কম বা বেশি হতে পারে। একইভাবে প্রত্যেক শেয়ারেরইএকটি প্রত্যাশিত মূল্য আছে যাথেকে হয়তো সামান্য কম বা বেশি হতে পারে। শেয়ার কেনার সময় আমাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হয়, তা হলঃ এই শেয়ারের দাম কত পর্যন্ত কমতে পারে। সেভাবেই আমরা আমাদের ঝুঁকিমিনিমাইজ করে থাকি। ধরে নিচ্ছি, আমার ৩০ লাখ টাকার মধ্যে আমি ৫ টি সেক্টরে ৬লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করবো। একটি সেক্টরে (যেমন প্রকৌশল খাতে) আমি ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবো এবং এই ৬ লাখ টাকা আমি ১ টি শেয়ারে বিনিয়োগ করবো।ধরে নিচ্ছি আফতাব অটোমোবাইল এখন ক্রয়যোগ্য অবস্থায় আছে। সর্বশেষ (২৯/০৯/২০১১) ক্লোজ প্রাইস ২৪০ টাকা এবং আমি ৪টি পৃথক পজিশনে ( অর্থাৎ ৪ বারে) এই শেয়ার ক্রয় করবো। মার্কেট লট হচ্ছে ৫০ টি।  প্রতি লটের দাম হচ্ছে (২৪০*৫০) বা১২০০০ টাকা, তাহলে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে আমি (৬০০০০০/১২০০০) বা ৫০ লট কিনতে পারি।তাহলে আমার প্রত্যেক পজিশনের আকারহচ্ছে ১২.৫ লট, অর্থাৎ আমি প্রতিবারে ১২ বা ১৩ লট করেক্রয় করবো। একবারে কেনার চেয়ে কয়েকবারেকিনলে আমার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমছে। এবার আসুন এই শেয়ার থেকে আমরা কতটুকু লস দিতে রাজি আছি তাদেখি। এই শেয়ারের সর্বশেষসাপোর্ট লেভেল ২৩২ , এখন আমি যদি ২৩২ কে স্টপ লস পয়েন্টধরি তাহলে আমার লস হচ্ছে ৩.৩৩% + ১% কমিশন=৪.৩৩% । এটা হচ্ছে আমার রিস্ক এমাউন্ট, যদি এই শেয়ার তার সাপোর্ট ব্রেক করে তাহলে আমি শুধু রিস্ক এমাউন্ট ই লস করছি। এর বেশি না। এভাবে পজিশন সাইজকরে আমরা আমাদের ঝুঁকি কমাতে পারছি। সংক্ষেপে বিষয়টা আবার দেখিঃ

১। মোট মূলধনকেকয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে আমরা ঝুঁকি ভাগ করে দিলাম
২। প্রত্যেকভাগ একেকটি সেক্টরে ভাগ করে ঝুঁকিকে আরো বিভাজিত করলাম
৩। প্রত্যেকসেক্টরে শেয়ার কেনার সময় কয়েকবারে কিনে ঝুঁকি আরো বিভাজিত করলাম।
৪। পূর্ববর্তীসাপোর্ট লেভেলকে স্টপ লস পয়েন্ট ধরে, সাপোর্ট লেভেল ক্রস করলেই এই শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে কেবল রিস্ক এমাউন্টই লস করলাম।


উপরের যেউদাহরণটা দিলাম তা হচ্ছে টেকনিক্যাল স্টপ লস এর মাধ্যমে পজিশন সাইজিং এর একটিউদাহরণ। এটা খুব সহজ এবং সরল ধারণা।

পজিশন সাইজিংকি এতই গুরুত্বপূর্ন???

হ্যাঁ।প্রত্যাশিত মাত্রার ঝুঁকি নিয়ে পজিশন সাইজ করে আপনি আপনার ভীতির (Fear) মাত্রা কমাচ্ছেন, ভুলের মাত্রা কমাচ্ছেন, বাজারেরগতিপ্রকৃতি ভালোভাবে বুঝতে পারছেন এবং আপনারলেনদেন আচরণে (Tradebehaviour) গুণগত পরিবর্তন আনতে পারছেন। কি ধরণের গুনগতপরিবর্তন? আপনার মধ্যে লুকিয়ে ছিলো পুঁজি হারানোর ভয় এবং লাভ হারানোরশংকা, এখন আপনি প্রত্যাশিত মাত্রার লস মেনে নিয়ে ট্রেড করে নিজেকেশঙ্কামুক্ত রাখতে পারবেন। আপনার কেনা দাম থেকে শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে আগের সাপোর্টের উপরে নতুন স্টপলস পয়েন্ট ধরবেন। (স্টপ লস বিষয়ে আরেকটি বিস্তারিত লেখাপ্রকাশ করার ইচ্ছা আছে)। যথার্থ পজিশন সাইজ আপনাকে কোয়ালিটি ট্রেডার হিসেবে গড়ে তুলবে, আপনার ভীতি কমে আসবে, আপনার আস্থাবাড়বে।

যথার্থ পজিশনসাইজ কিভাবে করবো???

এটাব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। আপনি যদি ক্যাশ একাউন্টে বিনিয়োগ করে থাকেন তাহলে এক রকম, মার্জিন একাউন্টে করে থাকলে আরেক রকম, তবে মোদ্দা কথা হল আপনার কত টুকু ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা আছে  (Tolerance of risk) তার উপর ভিত্তি করে পজিশন সাইজ করবেন। উদাহরণস্বরুপঃ আপনি যদিমার্জিন একাউন্টে ট্রেড করেন এবংআপনার বিনিয়োগ যদি ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ সহ মোট ৩০ লক্ষ টাকা হয় তাহলে আপনার ঝুঁকির মাত্রা হচ্ছে (স্টপ লস + কমিশন+ ঋণের সুদ) অর্থাৎ প্রায় ৬%, আবার আপনার শেয়ারের দাম  ৪০% পড়ে গেলে আপনি মার্জিন কলের শিকার হবেন, আর ৫০% পড়ে গেলে আপনি ফোর্স সেল এর শিকার হবেন। এক্ষেত্রে আপনার ৬% এর বেশি তে স্টপ লস এ যাবার কোন সুযোগনেই।

বিয়ার মার্কেটএর পজিশন সাইজ কেমন হতে পারে???

টমাসবুলকাউস্কি (ThomasBullkowski) এ ব্যাপারেএকটা ধারণা দিয়েছেন এ রকমঃ বাজার ১৯%পর্যন্ত ফল করলে কিছু না করে অপেক্ষা করা, ২০-২৯% ফল করলে ৫০% মূলধন তুলে ফেলা অর্থাৎ পজিশন সাইজ অর্ধেক করে ফেলা, ৩০-৩৯% ফল করলে পজিশন আরো অর্ধেক কমিয়ে ফেলা ( ২৫% পজিশন রাখা), ৪০% এর বেশি পড়লে আরো অর্ধেক কমিয়ে ফেলা (১২.৫% পজিশন রাখা)। আমাদের বাজারপরিস্থিতিতে পজিশন সাইজ এমন হতেপারেঃ ১০% ফল করলে ৫০% পজিশন ক্লোজ, ২০% ফল করলে  আরো ২৫% পজিশন ক্লোজ (মোত ৭৫% ক্লোজ), ২০% এর বেশি ফল করলে সব পজিশন ক্লোজ।

আমারপোর্টফোলিও পজিশন সাইজিং কেমন হবে???

উইলিয়াম জে ও'নেইল (William J O'Neil) বলেছেন এ রকমঃ ১০,০০০ ডলারের কম হলে ২/৩ টি, ৫০,০০০ ডলারপর্যন্ত ৪/৫ টি, ৫০,০০০ ডলারের উপরে হলে ৬/৮ টি, আমাদের প্রেক্ষাপটে এমন হতে পারেঃ ১০ লক্ষ টাকার নিচে ৪/৫ টি, ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৬/৮ টি, ৫০ লক্ষ টাকার উপরে সর্বোচ্চ ১০ টি।তবে এটি কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নয়, আপনি যত দক্ষ ট্রেডার হবেন আপনার পোর্টফোলিও ও ততডাইভাইর্সিফাইড হবে। কেবলমাত্র হিসাব নিকাশ বা নিয়মিতট্রেন্ড দেখার বা বুঝার জন্য পোর্টফোলিও সাইজ আপনার সীমার মধ্যে রাখতে পারেন। আমি দেখেছি কেউ কেউ কেবল ১ টা শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন পুরো মূলধন( সব ডিম এক ঝুড়িতে!!!) আবার কেউ কেউ ৪০ টাতে বিনিয়োগ করেছেন (ডিমের চেয়ে ঝুড়ি বেশি!!!), প্রথমটাতে ঝুঁকি বেশি, দ্বিতীয় টাতে অতি ডাইভার্সিফাইড, আন-ম্যানেজএবল।


আশা করি পজিশনসাইজিং এর কৌশল আপনার কাজে লাগবে।

(চলবে............)

পরবর্তী পর্বঃস্টপ লস।
Writer : Taj U Ahmed

Posted by Pir Shaheb (noreply@blogger.com) on October 08, 2011 09:02 PM· permalink

Collected ভুল থেকে শেখা (পর্ব-৩) :স্টপ লস

স্টপ লস
=====


গাড়ি চলেনা, চলেনা , চলেনারে, গাড়িচলে না.........
চড়িয়া মানবগাড়ি, যাইতেছিলামবন্ধুর বাড়ি...............

সিডি প্লেয়ারেগান চলছে।আমি একবন্ধুর সাথেযাচ্ছিলাম রাঙ্গামাটি। ৯০ মডেলের একটাকরোলা গাড়ি।বন্ধুর ড্রাইভিংএর হাতভালো। গানশুনতে শুনতেযাচ্ছি। রাঙ্গামাটিতেএকটু অবকাশযাপন। বেতবুনিয়াভূ-উপগ্রহকেন্দ্র থেকেখাড়া রাস্তাশুরু হল,কিছু আপওয়ার্ডস্লোপ, আবারকিছু ডাউনওয়ার্ডস্লোপ, মাঝেমধ্যেকিছুটা সমতলরাস্তা। ভালোইচলছিল। হঠাৎএকটা খাড়ারাস্তা উঠতেগিয়ে গাড়িরস্টার্ট বন্ধহয়ে গেল।গাড়ি পিছনেরদিকে নামতেশুরু করলো।বন্ধুটি তাড়াতাড়িহ্যান্ডব্রেক টেনে গাড়ি থামালো। তখনোগান চলছে" কখন গাড়ি ব্রেক ফেল করেঘটায় কোনদুর্ঘটনা.................." জিজ্ঞেসকরলামঃ কিহইছে? সেবললোঃ কার্বুরেটরেঠিকমত তেলযাচ্ছে না।আশেপাশে কোনগ্যারেজও নেই।গাড়ির সামনেরডালা খুলেকি কিযেন চেককরলো, এরপর আবারযাত্রা শুরুকরলাম। পরেরখাড়া রাস্তাটা আরোবেশি খাড়াএবং বেশদীর্ঘ। আস্তেআস্তে যাচ্ছি।খাড়া রাস্তারপ্রায় চুড়ারকাছাকাছি গিয়েআবারো একইঅবস্থা। এবারহ্যান্ডব্রেক টানতে টানতে গাড়ি বেশখানিকটা নিচেরদিকে নেমেগেলো। মনেমনে বেশভয় পেলাম।বন্ধুটি বললোঃকি রে,ভয় লাগছেনাকি? আমিবললামঃ আরেকিসের ভয়?মুখেই বলছিকিসের ভয়,কপালে বিন্দুবিন্দু ঘামজমেছে। বন্ধুটিবললোঃ ভয়পাইস না।ম্যায় হুঁনা।আমি মৃদুহাসলাম। যাহোকগল্প আরবাড়াচ্ছি না।কলির সন্ধ্যানামে বাংলায়একটা বাগধারাআছে যারমানে হলকষ্টের শুরু।সেদিনের সেইসন্ধ্যা আমারজীবনের স্মরণীয়সন্ধ্যা বৈকি!!!

এবার এইগল্পের উপরকিছু ক্যুইজঃ

১। হ্যান্ডব্রেকটেনে গাড়িনা থামালেকি হত?
২। দ্বিতীয়আপওয়ার্ড স্লোপেউঠার সময়হ্যান্ডব্রেক টানতে টানতে আগের চেয়েবেশি পেছনেচলে গেলকেন?
৩। বন্ধুর"ম্যায় হুঁ না" অভয়বাণী কিআমার ভয়দূর করতেপেরেছিলো?
৪। লংড্রাইভে যাওয়ারআগে গাড়িকি চেককরে নেওয়াদরকার ছিলো?
৫। বন্ধুটিযদি আনাড়ীড্রাইভার হততাহলে কিহতে পারতো?

এই ক্যুইজগুলোরমধ্যে ঝুঁকিব্যবস্থাপনার কিছু বিষয় লুকিয়ে আছে।লক্ষ্য করুন,ঝুঁকি মোকাবেলারজন্য বন্ধুটিহ্যান্ডব্রেক ব্যবহার করেছে। এটা ব্যবহারনা করলেহয় আরোপেছনে যেতেহত কিংবাগাড়ি খাদেপড়ে দুর্ঘটনাঘটতে পারতো।এই গল্পেরঝুঁকি ব্যবস্থাপনারসাথে শেয়ারব্যবসার ঝুঁকিব্যবস্থাপনার কিছুটা মিল আছে। গাড়িআরো নিচেরদিকে যাওয়ারোধ করতেবা দুর্ঘটনাএড়াতে যেমনহ্যান্ডব্রেক টানা হয়েছিল, তেমনি শেয়ারব্যবসারঝুঁকি মোকাবেলারজন্য বাশেয়ারের দামআরো কমেযাবার আগেইতাকে রক্ষাকরার একটাকৌশল আমরাপ্রয়োগ করি,এই কৌশলকেগল্পের ভাষায়আমরা বলতেপারি Pull Handbreak কৌশল.শেয়ারবাজারে এই কৌশলকে আমরা বলি"স্টপ লস"

স্টপলস এর কৌশল কতটা জরুরীতা বুঝারজন্য আমরাসাপ্রতিক সময়েরশেয়ারের উঠানামাকে বিবেচনাকরবো। গত২৫ শেমে থেকে২৫ শেজুলাই, ২০১১পর্যন্ত আমরাএকটা উঠতিবাজার যেমনপেয়েছিলাম তেমনি ২৬ শে জুলাইথেকে ২২সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রমাগত পড়তি বাজারপেয়েছি। এখনদেখুন এইস্টপ লসকৌশল যারাপ্রয়োগ করেছেএবং যারাপ্রয়োগ করেনিতাদের তুলনামূলকলাভ বাক্ষতির একটাহিসাব করি।ধরে নিচ্ছি,গত২৬/০৭/২০১১ তারিখেআপনি কাশেমড্রাইসেল এরশেয়ার কিনেছেন১০০ টাকায়,পরেরদিন ১০৩টাকা পর্যন্তদাম উঠলো,তার পরদিন  ১০৩ টাকায় ক্লোজহল। ম্যাচিউরডে তেওপেন হল১০৩ টাকায়,১০৪ টাকাপর্যন্ত উঠেআবার ৯৭টাকা পর্যন্তনামলো এবং৯৮ টাকায়ক্লোজ হল।ম্যাচিউর ডেতে দামবেশি নাউঠায় আপনিকোন সিদ্ধান্তনেননি, কিন্তুদিনশেষে ৯৮টাকায় ক্লোজহওয়ায় আপনার% লসহল। পরেরদিন ১০০টাকায় ওপেনহল, ৯৬টাকা পর্যন্তনেমে ৯৬. টাকায়ক্লোজ হল।এই দামেবিক্রি করলেআপনার %লস হয়,পরের দিন৯৬ টাকায়ওপেন হয়েদাম ক্রমাগতকমতে থাকল।৯৫ টাকায়বিক্রি করেআপনি %লস নিলেন। আর যদিবিক্রি নাকরতেন তাহলেপরবর্তী দেড়মাসে আপনারলস হত২০%৯৫ টাকায়বিক্রি করেআপনি %লোকসান নিলেওআপনার বাকিমুলধন সুরক্ষিতথাকলো। এইশেয়ারটির দামযখন সর্বনিম্ন৮০ টাকায়আসলো তখনআপনার পারচেজপাওয়ার বেড়েযাচ্ছে। খাড়ারাস্তায় হ্যান্ডব্রেকনা টেনে২০ গজনিচে নেমেযাওয়ার চেয়েহ্যান্ডব্রেক টেনে গজের মধ্যেথেমে যাওয়াভালো নয়কি?

কোন শেয়ারেরদাম কমেযাওয়ার ক্ষেত্রেযেমন আমরাআরো বেশিলসের ঝুঁকিথেকে বিনিয়োগকেসুরক্ষার জন্যকিছু লসমেনে নেই,তেমনি কোনশেয়ারের দামবাড়ার ক্ষেত্রেওএই স্টপলস কৌশলপ্রয়োগ করেলাভকে সুরক্ষাকরা যায়।এটাকে অনেকেই"ট্রেইলিং স্টপ " বলে থাকেন। অর্থাৎআপনার কেনাকোন শেয়ারেলাভ হলেসেই লাভযেন আপনারহাতছাড়া নাহয়ে যায়সেজন্যই এইকৌশল প্রয়োগকরা হয়

স্টপ লসকৌশল কিভাবেপ্রয়োগ করবো?

যারা চার্টভালো বুঝেননা তাদেরজন্য পরামর্শহল, আপনারকেনা দামথেকে %দাম কমেগেলে সেলকরে দিন।ম্যাচিউর ডেতে যদি% এরবেশি লসহয়ে যায়তাহলে দ্রুতবিক্রি করাইহবে বুদ্ধিমানেরকাজ, আপনারকেনা কোনশেয়ারের দামম্যাচিউর ডেতে বাতার পরকেনা দেমারকাছাকাছি আছে,হঠাৎ দেখলেন-%দাম পড়েগেছে, তাহলেকোন চিন্তানা করেওই শেয়ারখালি করেফেলতে হবে,এক্ষেত্রে কোন ফিক্সড প্রাইস নাদিয়ে সরাসরিমার্কেট প্রাইসেসেল অর্ডারদিয়ে দেবেন।ট্রেইলিং স্টপএর ক্ষেত্রেওআগের দিনেরক্লোজ প্রাইসথেকে %কমে গেলেসেল দিয়েদেবেন। যেমনধরা যাকআপনি গত//২০১১ তারিখে ৬০ টাকাদিয়ে কাশেমড্রাইসেল কিনেছেন,২০//২০১১ তারিখেএর দামউঠলো ১৩০টাকা, এখনযদি পরেরদিন এইশেয়ারের দাম.টাকা কমেযায় তাহলেমার্কেট প্রাইসেসেল করেদিতে হবে,আপনি যদি১২০ টাকারমধ্যেও বিক্রিকরতে পারেনতাহলে আপনারলাভ সুরক্ষিতথাকলো, সর্বোচ্চদামে বিক্রিকরা বাসর্বনিম দামেকেনা সবসময়সম্ভব নয়,হয়তো ১০০ট্রেড এরমধ্যে / টা হতে পারে

যারা চার্টদেখেন তাদেরজন্যঃ পুর্ববর্তীসাপোর্ট লাইনঅথবা %এর মধ্যেযেটি কমসেটিকে স্টপলস পয়েন্টধরে দামএর নিচেচলে গেলেইস্টপ লসকৌশল প্রয়োগকরবেন

তাহলে কিশুধু কিনবোআর লসদিয়েই যাবো?
না। শেয়ারবাজার আপনারআমার ধারণায়চলে না।আমরা জেনেবুঝে বাএনালাইসিস করে কোন শেয়ার কেনারপরও তারদাম কমেযেতে পারে।তাই যেশেয়ারের দামকেনার পরকমে যাচ্ছেসেই শেয়ারেঅধিক লসএড়ানোর জন্যইস্টপ লস।আবার যেইশেয়ারে আপনারলাভ আছেসেই লাভধরে রাখারজন্যই ট্রেইলিংস্টপ

লসের কথাশুনলে মাথাঠিক থাকেনা, তারচেয়েএমন কিছুবলুন যাতেস্টপ লসপ্রয়োগ করতেনা হয়?
এমন কিছুআমার জানানেই। কেনারসময় সাবধানীহতে হবে।দাম পড়েগেলে লসকমানোর জন্যস্টপ লস,দাম বাড়ারপর লাভনা হারানোরজন্য ট্রেইলিংস্টপ

কিভাবে কিনলে লসের ঝূঁকি কমবে?

ক্যান্ডেলস্টিক দেখুন। যখনদেখবেন আগেরHigh থেকে পরের  High উপরে (Higher High) এবং আগের Low থেকেপরের  Low উপরে (Higher Low) হচ্ছে তখন কিনলেদাম বাড়ারসম্ভাবনা থাকে।আমি শেয়ারকেনার সময়এই একটিনিয়মই ভালোকরে দেখি।আর যদিদেখেন আগেরHigh থেকে পরের  High নিচে (Lower High) এবং আগের Low থেকে পরের  Low নিচে(Lower Low) হচ্ছে তখন যতনামী দামিআর হেভিওয়েট শেয়ারইহোক নাকেন  তা থেকে ১০০ হাতদূরে থাকবেন।আপনার কেনাকোন শেয়ারেযদি Lower High এবং  Lower Low দেখেনতাহলে  সেল করে দিতে হবে

সারসংক্ষেপঃ
১। কোনশেয়ারের দামআপনার কেনাদাম থেকেবা আগেরদিনের ক্লোজপ্রাইসের থেকে% কমেগেলে স্টপলস প্রয়োগকরতে হবে।পুর্ববর্তী সাপোর্ট লাইন  অথবা %এর মধ্যেযেটি কমসেটিকে স্টপলস পয়েন্টধরে দামএর নিচেচলে গেলেইস্টপ লসকৌশল প্রয়োগকরতে হবে

২। কেনারসময় Higher High  এবং Higher Low ক্যান্ডেলস্টিক দেখলেকিনবেন,  Lower High এবং  Lower Low দেখলে কেনা যাবে না,আগের কেনাকোন শেয়ারেLower High এবং  Lower Low দেখা গেলেসেল করেদিতে হবে


আশা করিখাড়া রাস্তায়গাড়ি বন্ধহয়ে গেলেএবার আরহ্যান্ডব্রেক টানতে ভুল করবেন না!!!

(চলবে..................)

পরবর্তী পর্বঃ ভলিউম স্প্রেড
Writer : Taj U Ahmed

Posted by Pir Shaheb (noreply@blogger.com) on October 08, 2011 08:59 PM· permalink

শুভ বিজয়া


সবাইকে জানাই আমার শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা ।

Posted by Anil m (acmandal@gmail.com) on October 08, 2011 02:51 PM· permalink

DIGITAL BANGLADESH ANALOGUE HELL

এ ধরনের আরো লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 08, 2011 01:39 PM· permalink

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মসজিদে পুজা! হাসিনার বাংলাদেশে ব্যালে ড্যান্স!!

মসজিদে পুজো! মুসলমানতো দূরের কথা, অমুসলিম হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, ইহুদী, শিখ, বাহাই ইত্যাদি ইত্যাদি ধর্মের কোন অনুসারীর পক্ষেও এটা কল্পনা করা অসম্ভব যে মসজিদে হিন্দু ধর্মীয় পুজো সম্ভব। তবে এই অকল্পনীয় কাজটি ইতোমধ্যেই বাস্তবে সম্পন্ন করে ভারত সরকার দেখিয়ে দিয়েছে ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে যার যার ধর্ম পালন নয়, বরং সকল ধর্মের মাঝেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতির অনুপ্রবেশ, অনুকরণ, অনুসরণই শেষ কথা। গত ৬ অক্টোবর হিন্দুধর্মীয় দূর্গাপুজার বিজয়া দশমীতে ভারতের শিলচরে মসজিদকে পুজোমন্ডপ বানিয়ে রীতিমতো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে বিভৎস্য ব্রাহ্মণ্যবাদ।

বিজয়া দশমীতে শিলচরের সদরঘাট থেকে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য শিলচর দূরদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। পত্রিকা রিপোর্টে জানা যায়, অতীতে সরাসরি বলতে কিছু সময় পর পর রেকর্ডকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলেও এবার সত্যিকারের লাইভ অনুষ্ঠান দেখাতে সদরঘাটের সবচেয়ে উচু স্থান তথা মসজিদের মিনারকেই বেছে নেয়া হয়। মসজিদে মাইকোওয়েভ লিংক, মিনারে ডিস এন্টেনা, ক্যামেরাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম জুড়ে দেয়া হয়, এমনকি বিদ্যুতের সাপ্লাই পর্যন্ত নেয়া হয় মসজিদ থেকেই, দূরদর্শনের কাজের তদারকিতে এক পায়ে খাড়া ছিলেন মসজিদের কেয়ারটেকারসহ কয়েকজন । আর এ পুরো প্রক্রিয়াটির প্রস্তাব পত্রিকার ভাষ্যমতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সানন্দে লুফে নিয়েছে। পত্রিকা মতে, মসজিদ কমিটির সভাপতি নূরুল আলম বড়ভূইয়া বলেন, “এতে আপত্তির কি আছে। বরং আমরা এতে শরীক হতে পেরে খুশি। কারন আমাদের মিলে মিশে থাকতে হবে”। শুধু দূরদর্শনের সম্প্রচারই নয়, বরং মসজিদের ছাদে বসেই ধুমধামের সাথে প্রতিমা বিসর্জন প্রত্যক্ষ করেন অনেক দর্শক। দূরদর্শন “এলজি শুভ বিজয়া” নামের এই অনুষ্ঠানে কেবল প্রতিমা বিসর্জনই সম্প্রচারিত হয় নি বরং গান ও হিন্দু ধর্মীয় আলোচনাও সম্প্রচারিত হয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, পুরো প্রক্রিয়াটিতে মুসলমানেরা স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলন, নাকি বাধ্য হয়েছিল?

একজন মুসলমান, বিশেষকরে যিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামায়াতের সাথে আদায় করেন, কিংবা মসজিদের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত তাদের কারো পক্ষে মসজিদকে পুজোর কাজে ব্যবহার করতে দেয়ার ধৃষ্টতা দেখানোর কথা নয় বরং যাদের অন্তরে জোনাকি পোকার মতোও এতটুকু ঈমান নীবু নীবু করে জ্বলছে, তাদের কারো পক্ষেই মসজিদের এমন অবমাননা সহ্য করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই এটি পরিস্কার যে স্বতস্ফূর্তভাবে নয়, বরং অস্ত্র কিংবা হুমকির মুখে বিপন্নপ্রায় মুসলমানেরা বাধ্য হয়েছে মসজিদকে পুজোর কাজের জন্য ছেড়ে দিতে। নুরুল আলমের অন্তত একটি কথার মাঝে তার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, “আমাদের মিলে মিশে থাকতে হবে” তার এমন কথায় ভারতের মুসলমানদের অসহায়ত্ব অস্ফুটস্বরে ধ্বনিত হয়। বিশেষকরে বাবরী মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে পুরো ভারত জুড়ে মুসলমানদেরকে যেভাবে নির্বিচারে প্রাণ দিতে হয়েছে, তাতে নতুন করে ভারত সরকারের ইসলামবিদ্বেষী তৎপরতায় বাধা দেয়ার হিম্মত ভারতীয় মুসলমানদের থাকার কথা নয়।

ভারতের মুসলমানরা যে কতটা অসহায়, তার আরেকটি প্রমাণ হাইলাকান্দি মসজিদ। বিগত কয়েক বছর ধরে হাইলাকান্দিতে মসজিদের মেহরাবে হিন্দু নেতারা জোর করে ঢুকে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে আসছেন। গত ৩ অক্টোবর আবারো তিলক কেটে, ধুতি পাঞ্জাবী পরে মন্ত্রী গৌতম রায় ঢুকে পড়েন মসজিদের মেহরাবে (ইমামের আসনে)। তার সাথে সাথে মেহরাবের যায়গা দখল করেন জেলা প্রশাসক ভূবন চন্দ্র বরা, অশোক দত্তগুপ্ত, গৌতম গুপ্ত, প্রবীর চন্দ্র পালসহ আরো অনেকে। প্রতিবাদে অধিকাংশ মুসল্লী মসজিদ থেকে বের হয়ে যান।

শুধু এখানেই থেমে নেই ভারতের ইসলাম বিদ্বেষী অপতৎপরতা। দেবী বিসর্জনের সময় নতুনবাজার মসজিদে ঢিল ছুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানোর জন্য উস্কানী দেয় ভারত সরকার। মাত্র এক সপ্তাহের মাঝে ভারতের শিলচরে প্রকাশ্য এ সকল ঘটনা প্রমাণ করে, ভারত সরকার মুসলমানদের উপর চরম কোন আঘাত হানার জন্য অজুহাত খুঁজে চলেছে, আর সেটি বুঝতে পেরেই হয়তো মুসলমানরা মুখবুজে সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছে।

এই যদি হয় একটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নমুনা, এই যদি হয় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, তবে সহজেই অনুমান করা যায় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কতটা বিভীষিকাময়। অথচ সে অন্ধকার মৃত্যুকূপের দিকে বাংলাদেশকেও হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার ইসলাম বিদ্বেষী সরকার। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ইতোমধ্যেই মসজিদের ঈমামদেরকে অনৈতিকতায় অভ্যস্ত করার প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু হয়েছে, ঈমাম প্রশিক্ষণের নামে ঈমামদের বাধ্য করা হচ্ছে উদ্যম নৃত্য দর্শনে, এমনকি নাচগানের জন্য মাইকে আজান বন্ধ করার ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছে ইতোমধ্যে। হিজাব পড়া নারীদের রাস্তাঘাতে হেনস্তা করা হয়েছে, কোন কোন মেডিকেল কলেজে নার্সদের হিজাব পড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষাবাদী শিক্ষকেরা নেকাব খুলতে বাধ্য করছে, আবার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পর্দানশীল মেয়েদের জেলহাজতে পুরে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আর এভাবেই সমাজের আস্থার মিনারগুলো ভয়ংকর ঝাকুনি দিয়ে ধ্বংস করে দিতে চায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কারন, ইসলাম বিদ্বেষী আওয়ামী সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন, ইসলামই তার প্রধান প্রতিপক্ষ। তাই ইসলামী হুকুম আহকামের পরিবর্তে ইসলাম বিরোধী সংস্কৃতিতেই তিনি আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই তিনি হিন্দুদের দূর্গাদেবীকে মা বলে সম্বোধন করে তার কাছে সমৃদ্ধির বর চেয়েছেন, এর আগেও তিনি ভারতে গিয়ে মাথায় সিঁদুর ও তিলক ধারণ করেছিলেন। আর ইসলাম নির্মূলে ইসলামের স্বপক্ষের শক্তিগুলোর মুলোৎপাটনে যুদ্ধাপরাধের বিচার নামে ভাঙ্গারেকর্ড বাজিয়ে চলেছেন। যার সুমধুর আহ্বানে সহস্রাধিক অমুসলিম আশ্রয় নিয়েছেন ইসলামের সুশীতল ছায়ায়, তাকে মিথ্যে অপবাদে দিনের পর দিন বন্দী করে রাখা হয়েছে। অথচ, আল্লামা সাঈদী মুক্ত থাকলে, অন্তত দু’শতাধিক তাফসীর মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমানকে শানীত করতে পারতেন। আর এ কারনেই আল্লামা সাঈদীকি নিয়ে ইসলাম বিরোধী আওয়ামী সরকারের যত ভয়।

অথচ হিন্দুধর্ম প্রচারে, হিন্দুদের আচার অনুষ্ঠান পালনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকা বাড়ানো হচ্ছে। মাত্র এক বছরে দুই হাজার অতিরিক্ত পুঁজোমন্ডপে পুজোর ব্যবস্থা করেছে সরকার। আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে ইসলাম বিদ্বেষী সরকারের প্ররোচনায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দিতে প্রতিনিয়ত হিন্দুধর্মাবলম্বীরা উস্কানী দিতে শুরু করেছে। রাসূলকে (সাঃ) নিয়ে কটাক্ষ, ইসলামের মৌলিক ইবাদত কোরবানী নিয়ে কটাক্ষসহ বিভিন্ন ইসলামী বিধান নিয়ে কটাক্ষকরা মাত্র তিনটি বছরে রীতিমতো হিন্দু সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এমনকি বিজয়া দশমীর দিনে মুন্সিগঞ্জে পূজার কনসার্টে খুন করা হয় মুসলমান যুবককে, আহত করা হয় আরো ৪ জনকে। অথচ এতোদিন হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই হয়ে রয়েছে বাংলাদেশে, সকলেই সমান সুযোগ সুবিধা লাভ করেছে, বরং রাষ্ট্রীয় বিভিন্নপদে সাংখ্যানুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশী হিন্দু নাগরিকেরা অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অথচ আজ মুসলমানদেরকে প্রতি পদে পদে হেয় করে, হিন্দুদেরকে মুসলমানদের উপরে শেষ্ঠত্বের আসনে বসানোর মাধ্যমে সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ভারতের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দেশে পরিণত করতে চাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে পানি ঘোরা করে ভারতীয় প্রভূদের বাংলাদেশের মাটিতে মামদোবাজি করার সুযোগ করে দেয়ার অপতৎপরতায় লিপ্ত হাসিনা সরকার।

কিন্তু  ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা হাসিনার দশ টাকা সের চালের ছলনায় লোটাস ইটারদের মতো আর ঘুমিয়ে থাকবে না। মুসলমানদের কাছে শরীরের চেয়ে আত্মা বড়, পেটের চেয়ে ঈমানই শ্রেয়। তাই, ধর্মনিরপেক্ষতা নামের মাকাল ফলের সৌন্দর্যে কিছুতেই আর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমানকে সম্মোহিতকরে অচেতন করে রাখা যাবে না। ধর্মনিরপেক্ষ ভারত সরকার ইতোমধ্যেই ধর্মনিরপেক্ষ মাকাল ফলটি উন্মোচন করেছে, গা-গুলানো অখাদ্য বেরিয়ে এসেছে মাকাল ফলের খোলস ভেঙ্গে। এবার সময় এসেছে বাংলাদেশের ধর্মনিরেপক্ষতার ধ্বজাধারীদের মুখোশ উন্মোচনের। সময় এসেছে ভারত সরকারের ব্যাগভর্তি টাকা আর কূটবুদ্ধিপরামর্শে আতাঁতের নির্বাচনে জনতার ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভুতের মতো জেঁকে বসা ইসলাম বিদ্বেষী আওয়ামী সরকারকে নর্দমায় ছুড়ে ফেলার। মনে রাখা দরকার, ধর্মনিরপেক্ষতার মাঝে ইসলাম টিকতে পারে না, হাসিনার কারাগারে মুসলমান বাঁচতে পারে না।

এ ধরনের আরো লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 08, 2011 08:24 AM· permalink

শুভ বিজয়াদশমী

থিম পুজোর শুচিবায়ুতায় মা তার ছেলেপুলেদের নিয়ে ভালোয় ভালোয় এসে আলোয় আলোয় ফিরে গেলেন ।
থিম থিম করে পাগলু  হয়ে পুজোয় চমক হল ।  দেব-দেবীদের চক্ষু চড়কগাছ।  হিংসায় উন্মত্ত ধরায় শান্তির বাণী বরষাতে এসে সব প্ল্যান ভন্ডুল ।  পিচঢালা ঝকঝকে  রাস্তায় প্যান্ডেলের খুঁটি পোঁতা হল । হোতারা গর্ত খুঁড়েই খালাস  । মা চলে যাবার পর সেই গর্ত গুলোর কি হবে তা নিয়ে কেউ ভাববেন না একটিবারও ।   একই পাড়ায় চারটে দলের আলাদা আলাদা পুজো হল । দলবাজির মা, রকবাজির মা, রঙবাজির মা, দাদাগিরির মা । আফটার অল ভাগের মা  বলে কথা । গঙ্গা পাবেন অবিশ্যি । কিন্তু গঙ্গার কি হবে ? একেই তো বুঁজে আছে পর্যাপ্ত প্লাস্টিকে ।  ক্লিন কোলকাতা, গ্রিন কোলকাতা থিম ততক্ষণে বিসর্জন । মহানগরের ড্রেনগুলি আবার ভর্তি হল । ঠাকুর দেখলেন প্রচুর দর্শনার্থী । জলের বোতল, কোল্ড ড্রিংক্সের বোতল, কফির কাপ, আইসক্রিমের কাপ, আরো কতকিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে তারা রেখে চললেন এই মহানগরের রাস্তাঘাটে । তেরঙ্গা, গুটখা, শিখরময় হল এই মহানগর ।   চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙে মাইক্রোফোনের স্পীকারে গান বাজতেই থাকল উচ্চৈ:স্বরে  । হোতারা বললেন ‘বাজাতে রহো’। সদ্যোজাতের কর্ণপটহে তালা  সেই শব্দে ।  আলোর রোশনাই কোজাগরীর চাঁদের জোছনাকে আড়ালে রাখল। বিদ্যুত বিদ্যুত বিদ্যুত ! কত চাই এসময় ? জয়েন্ট পরীক্ষার আগের দিন না হয় অন্ধকারে ডুববে বঙ্গ তাই বলে পুজোতে আঁধার আমার ভালো লাগবে কি ? রমরমিয়ে ব্যবসা চলল ট্রান্সফ্যাটের । আবার ওজন বাড়ল বাঙালীর । পুজোতো রোজরোজ হবেনা । তাই বলে কি রসনা অতৃপ্ত থাকবে ? চক্ষুশুদ্ধি হল প্যান্ডেল হপিং করে । জিনস-কুর্তা, কুর্তি-কেপরি, স্কার্ট-লাচ্ছায়  লাস্যময়ী, হাস্যময়ীরা মাতালেন ম্যাডক্স স্কোয়ার,  তিনকোণা,  দেশপ্রিয়,  বাদামতলা, মুদিয়ালি । চিনে জোঁকের মত মানুষ ভীড় করলেন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে । ততক্ষণে মা উধাও সেই প্যান্ডেল থেকে । পড়ে থাকল মৃন্ময়ী মূর্তি । চিন্ময়ী মায়ের বিরহী আত্মাটুকু পাড়ি  দিল   দয়িত ভোলেবাবার কাছে । ভীড়ভাট্টা থেকে রক্ষা পাবে বলে ।  কোলকাতার ভূষণ হল   দূষণ । মাননীয় নেতারা বিজয়া টিজয়া সেরে টেরে সিদ্ধান্ত নেবেন । মহানগরকে দূষণ মুক্ত করার জন্য অনেক মিটিং হবে ।ততক্ষণে শারদসম্মান এওয়ার্ড সেরিমনি শেষ ।
আকাশতলে, অনিলে জলে, দিকে দিগন্তলে,  বনে বনান্তরে বাজতে থাকল   ‘বলো দুগ্গা মাইকি জয়! আসছে বছর আবার হবে ! ‘
নাড়ু মুখে, পান হাতে, সিঁদুর খেলে  মা মুচকি হেসে বললেন ‘ আবার আসিব ফিরে ধানসিঁডিটির তীরে এই বাংলায় ‘
সিংহমশাইয়ের পিঠে চেপে মা,  মায়ের দু জোড়া ছেলেপুলে , একাই একশো উগ্রপন্থী মহিষাসুর আর এক গন্ডা নির্বিবাদী পশুপাখি  বাক্স প্যাঁটরা প্যাক করে রেডি হয়ে ঝুলঝুল করে দেখছে তখন ।   কোথায় পাব বলরাম-যুগল? কোথায় পাব বাঞ্ছারামের পান্তুয়া? হায়রে সেনমশাইয়ের  মিষ্টি দৈ ! যাদবের দিলখুশ আর কেসি দাসের রসোমালাই  ।
মা বললেন ‘ চলো চলো চলো সবে , কৈলাসে গিয়ে হবে , চমরীর দুধে  মিষ্টিমালাই , বানাবো সকলে খাবে ‘
বড়মেয়ে বলল ‘শুধু যাওয়া আসা, শুধু পয়সা খসা’
ছোটমেয়ে বললে ‘ চল রাস্তায় নামি ট্রামলাইন ‘
বড়ছেলেটা বলে বসল ‘আহা কতদিন শুনতে পাবনা এ সব, বড্ড মিস করব রে ! ‘
মা কোলের ছেলেকে বললেন ‘ কি রে তুই কিছু বল্‌ ‘
অমনি ছোটছেলে বললে ‘ আমাকে আমার মত থাকতে দাও মা, কিচ্ছু ভাল্লাগছেনা ‘
পাড়ার ছেলেমেয়েরা দৌড়ে এসে খবর দিল ‘আই এসডি কল এসেছে মাগো, একটিবার চলো । বোধহয় কৈলাস থেকে শিবুদা ফোন করেছে’
ওনারা তো চলে গেলেন আমাদের ডুবাইলিরে ভাসাইলিরে করে ।  এবার লে ছক্কা! ভাঙারাস্তা, খোঁড়া গর্ত, তেরঙা-গুটখার স্যাশেতে, পলি বোতলে, সুরাশীতলে, ছয়লাপ মহানগরের অলিগলি, ব্যস্ত রাস্তা।  সাতমণ তেল পুড়েছে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে । লাস্যময়ী শ্রীরাধিকাদের উদরপূর্তি হয়েছে ব্যাপক। তেলেজলে, অম্বলে শ্রীরাধিকারা নতুন জুতোর ফোস্কা নিয়ে দিন কয়েকের মধ্যেই আপিস ছুটলেন ।  পেত্থমদিন কি আর কাজ হবে? বড়বাবুর বিজয়ার ট্রিট, ছোটবাবুর শালীর সাথে প্যান্ডেল হপিং, মেজোবাবুর গার্লফ্রেন্ডের ক্রিসপি গসিপ নিয়ে চলবে সারাদিন ।  তারপর পাশের কিউবিকলে ফেসবুক খুলে কুশল বিনিময়, আরো আরো শঙ্খিনী, দামিনী, চাপিনীদের উঁকিঝুঁকি, বোল্ড ড্রেসের গল্প,  পাড়ার  রতনের হ্যাংলার মত বাংলু খেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা। মায়ের ব্যাটেলিয়ন ততক্ষণে কৈলাস ছুঁই ছুঁই । এদিকে সময় চলিয়া যায় , নদীর স্রোতের প্রায় । বড়বাবু গোমড়া মুখে  ফাইলের তাগাড় নিয়ে বসেই র‌ইলেন । পুজোর পর যেন “মন লাগেনা কাজে”   …………..

Posted by ইন্দিরা মুখার্জি on October 08, 2011 05:05 AM· permalink

সংবাদ প্রতিদিন : ০৮ অক্টোবর ২০১১

২০০১ এর নির্বাচনে পরাজয়ের শোধ নিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জুলুম চলছে


ন্যায় বিচারের স্বার্থে নির্দোষ ব্যাক্তিকে ফাঁসি না দেয়ার আহ্বান হুমায়ুন আহমেদের মায়ের

শিলচরে মসজিদের ছাঁদ থেকে পুঁজোর সরাসরি সম্প্রচার
গৌতমের মসজিদে প্রবেশ নিয়ে তুমুল হট্টগোল
নতুন বাজারে দূর্গা বিসর্জনের সময় মসজিদে ঢিল, উত্তেজনা
জুমার নামাজে মসজিদগুলোয় নজরদারী
সীমান্তের ৮ কি.মিতে অভিযান চালাতে বিজিবি’র অনুমতি নিতে হবে
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হচ্ছে কাল
পরীক্ষামূলক ট্রানজিটের ভারতীয় ২২শ’ টন পণ্য নিয়ে ৪ জাহাজ আশুগঞ্জে : আজ থেকে মালামাল যাবে ত্রিপুরায়
পদ্মা সেতুর ‘দুর্নীতি’: অভিযোগ সুরাহা না হলে টাকা দেবে না বিশ্বব্যাংক :অর্থমন্ত্রী
সবজির দাম আকশ ছোঁয়া, কাঁচামরিচের কেজি আবারো ২০০ টাকা

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি দিশাহারা সাধারণ মানুষ
মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে : অর্থনীতিবিদদের অভিমত
অর্থনীতি কঠিন সময়ে ॥ সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি
মূল্যস্ফীতির লাগাম কার হাতে
নানা কারণে ১০০০০০ পদে নিয়োগ বন্ধ
সংকটে সমুদ্রসম্পদ

সিলেট থেকে সরকার পতনের ডাক দেবেন খালেদা
এরশাদ কেন চাইছেন-
দেশে ফিরলেন জয়নুল আবদিন ফারুক
মগবাজারে জামায়াতের মিছিল থেকে আটক ৭
চিকিত্সক, শিল্পপতি, এনজিও কর্মকর্তা চাঁদাবাজির শিকার
বাংলাদেশ বিমান প্রথমবারের মতো সরাসরি প্রস্তুতকারী কোম্পানী থেকে কিনছে উড়োজাহাজ
২৩৮ এজেন্সির বাড়িভাড়া বাকি, পানি-বিদ্যুৎহীন পাহাড়ি হোটেলে হজযাত্রীরা
নাটোরের আলোচিত বাবু হত্যার এক বছর আজ : তদন্তে অগ্রগতি নেই
অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ
ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক বেতনের টাকা ছিনতাই
রাজধানীতে পিতাকে খুন করে লাশ মেঝেতে পুতে রাখে পুত্র
নওগাঁয় দুই জনকে কুপিয়ে হত্যা
সিলেটের তিন ইন্টার্নী ডাক্তার অপহৃত
প্রতিমা বিসর্জনে গিয়ে নিহত ৩
দিনাজপুরে দুর্গা বিসর্জনের দিন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পূর্ণ করার দাবি দুই বাংলাদেশির তিন সমীকরণ ও মৌলিক ধ্রুব সংখ্যা আবিষ্কার
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে নতুন কর্মসংস্থান ১ লাখ ৩ হাজার বেকারত্বের হার ৯ শতাংশ
শিশুকন্যাকে কবর থেকে জীবিত উদ্ধার

আরো কিছু লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 07, 2011 07:27 PM· permalink

সংবাদ প্রতিদিন : ০৭ অক্টোবর ২০১১

চলে গেলেন ‘আইগড’!
মূল্যস্ফীতি বর্তমানে এক নম্বর সমস্যা : ডেইলি স্টার আয়োজিত সংলাপে বক্তারা   
তারল্য সংকটে একাধিক ব্যাংক বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব
শিল্প খাতে বকেয়া ঋণ বাড়ছে
বেসামাল অর্থনীতি
ভারতের ট্রানজিট ফি নিয়ে দীপু মনির মিথ্যাচার : কোনো ধরনের ফি না দিয়েই ট্রানজিট নিচ্ছে ভারত বিদ্যুেকন্দ্রের চুক্তির আড়ালে পণ্য পরিবহন চলছে বাংলাদেশী ব্যবহারকারীদের সমান ঘাট ফি দিচ্ছে

দুর্নীতির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক সব সাহায্য বন্ধ রাখবে
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির সিলেটের বাসার মালামাল ক্রোক
‘কালো আইনে’ যুদ্ধাপরাধের বিচার করা থেকে বিরত থাকুন :জামায়াত
সুরঞ্জিতের ‘মরা গাছে’ ফুল ফোটাবেন মির্জা ফখরুল
খালেদার নিরাপত্তায় সতর্ক বিএনপি
বিএনপির রোডমার্চে অংশ নেবেন কর্নেল অলি
এখনই ফাইনাল খেলতে গেলে খালেদাকে আত্মঘাতী গোল খেতে হবে : ওবায়দুল কাদের
আজ সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন যয়নুল আবদীন ফারুক
যে নির্মম নির্যাতনের শিকার এম ইউ আহমেদ
সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা কর্নেল অলির
গাড়িবহরে হামলা এ্যানী সহ আহত ২০
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ডিভির ৩ ইনস্পেক্টর সাময়িক বরখাস্ত
চট্টগ্রামে বেড়েছে গুপ্তহত্যা সামাল দিতে হিমশিম পুলিশ : ৪ মাসে ২০ খুন
লেসারগান ব্যবহার করতেন সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়া জবানবন্দিতে তথ্য
টাঙ্গাইলে একরাতে ১২ মানবকঙ্কাল চুরি
ক্যামেরা কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দিতে মরিয়া পারসোনা
আব্দুর রাজ্জাককে কলজে কেটে ভালোবাসা দিতে ৩ জন লন্ডন যাচ্ছেন
বেনাপোলে দুই বিএসএফ সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বিজিবি
প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হল শারদীয় দুর্গোত্সব
পুজোমষ্ডপে হামলা ভাংচুর সংঘর্ষ, ১ মুসলমান যুবক নিহত
চট্টগ্রামে মন্ডপে গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন ছুরিকাহত
শাহজাদপুরে বিসর্জনের সময় প্রতিমার নিচে পড়ে দু’জনের মৃত্যু
দুর্গা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ৫০০১ আলেমসহ বিভিন্ন সংগঠন
বাংলাদেশসহ ২৩ দেশে বুধবার সুনামি সতর্কতার মহড়া
হনুমানের থাপ্পড়ে যুবকের মৃত্যু
মমতার মন পেতে আরো ইলিশ যাবে কলকাতায়

আরো কিছু লেখা

Posted by শাহরিয়ার on October 07, 2011 12:56 AM· permalink

অসমের বাঙালির রাজনীতিঃ বহমান বয়ান স্রোতে খানিক অবগাহন ০১


               
          দেশজুড়ে চারদিকে যখন অরাজনৈতিকতার জোয়ার, মানুষ ব্যাপক এবং বিশাল গণআন্দোলনে যোগ দিতে দিতে জানান দিচ্ছেন যে তারা রাজনীতি করছেন না, তখন একটি কাগজ ‘অসমের বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনা’ এরকম একটা বিষয় বেছে নেয়াতে মনেই হয় তারা স্রোতের বিরুদ্ধে পা ফেলতে চাইছেন। কিন্তু স্রোতের বিরুদ্ধেও একটা স্রোত রয়েছে--- বলিউড পরিচালকেরাও প্রায়ই উচ্চারণ করে থাকেন ‘জরা হটকে’। বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও কিন্তু এই ‘জরা হটকের’ বড় জটিল জাল ছড়ানো রয়েছে । একে ‘রাজনীতি’, তায় ‘এই জাল’—কথা বলতে বেশ ভয় করেই বটে। তথাপি স্রোতেতো লাশ ভেসে যায়, বিরুদ্ধে দাঁড়ালে অন্তত বোঝা যায় প্রাণটি টিকে আছে। তাই পরিকল্পকেরা ধন্যবাদার্হ । 
          মুস্কিল হচ্ছে, অসমের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই নিয়ে কথা বলতে গেলে খড়কুটো যত সাহায্য করে, তৈরি নৌকো ততটা মোটেও নয়। অর্থাৎ, চর্চা এতো অল্প যে দু’মলাটের বাঁধা বইয়ে পূর্বসূরি পণ্ডিতদের বাড়ানো হাতের সন্ধান খুব অল্প মেলে। অবশ্যি জ্ঞানার্জনে বই পত্তরই একমাত্র সাহায্য করে—এই বিশ্বাস এই লেখকের বহু আগেই উড়ে গেছে । তার বাস্তব কারণ বোধ করি এই যে অসমের অসমিয়া ভিন্ন বাঙালি বা অন্যান্য জনগোষ্ঠী নিয়ে বইয়ের সংখ্যা যেমন অপ্রতুল, যেগুলো আছে সেগুলোও কোনো বই বাজারে সাজানো গুছানো করে পাওয়া বড় কঠিন কাজ। শিলচর গুয়াহাটির মতো নগরে যদিও বা কিছু সুবিধে রয়েছে, অন্যান্য শহরে বা গাঁয়ে তাও নেই বিশেষ। সুতরাং আমার বিশ্বাস সেই মাও-ৎসে-তুঙে। জনগণের কাছে যাও, জনগণের থেকে শেখো, জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দাও। এই না করে যত আলাপই করি না কেন, সবই শেষ বিচারে প্রলাপ হতে বাধ্য।
         সুজিৎ চৌধুরী সম্ভবত এই সমস্যাগুলো খুব করে অনুভব করতেন, তাই তিনি একটা কথা বারে বারে লিখতেন, “শূন্য স্লেটে দাগ কেটে’ যাবার কথা। ‘স্লেট’ শব্দটা এর জন্যে কি ব্যবহার করতেন , ইচ্ছে করলেই মুছে নতুন দাগ দেয়া যাবে বলে? হবেও বা! আমিও ওই দাগ কেটে যাবার বেশি কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না, তা হবে তাঁর মত বিদগ্ধ জনের থেকে অনেক খাটো। তর্ক উঠতেই পারে, তিনি বা তাঁর মতো অনেকে, যেমন অমলেন্দু গুহ বা আরো অনেকে যাদের নামের তালিকা খুব একটা খাটো হবে না, যেটুকু দাগ কেটে গেছেন আমরা কি ওখান থেকে শুরু করব? না তাঁর সমান্তরালে? এইখানে, আমি কিছু শিবের গীত গাইব। কথা যখন স্রোত নিয়েই শুরু হচ্ছিল, সেতো সরল রেখাতে এগোয় না। আমাদের জ্ঞান সরল রেখাতে এগোয়—এই বিশ্বাস হচ্ছে আমাদের সব বিশ্বাসের বাড়া । ষোড়শকোনের একটা বইয়ের মধ্যে তাঁকে আবার স্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলা যায় এটা আমার কাছে কেমন ঈশ্বরের বিশ্বাসের মতোই অসম্ভব এক বিশ্বাস বলেই মনে হয়। সুতরাং ফাঁক এবং ফাঁকি আমাতেও থাকবেই। এবারে, নাস্তিক মন্দিরে পা ফেলতে বাধ্য হলেই যেমন দুরু দুরু বুকে বড় সতর্ক হয়ে যায়, আমার কাছেও বিদ্বজ্জন সমাবেশ তেমনি বড় এক আতঙ্কের বিষয়, তা কোনো সেমিনারেই কথা বলাই হোক , কিম্বা লিটিল মেগে গদ্য লেখা। এই কথাটা আমি আত্মরক্ষার্থে লিখছি মাত্র, কারো বিশ্বাসের সম্মানহানি করা আমার উদ্দেশ্য নয় মোটেও। কেন, কথাটা খুলে বলি। আজকাল ‘ডিকন্সট্রাকশনে’র কথা হচ্ছে, ‘লেখকের মৃত্যু’ ঘোষিত হয়ে গেছে। আমার কথাগুলোতে সেরকম কিছু কিছু ইঙ্গিত আপনারা পেয়ে থাকবেন। আমি ওই সব ফরাসি পণ্ডিতদের ভক্তও নই। কারণ ওদেশে ঢেউ উঠল তো এখানে এই দেশে হাওয়া বইল—এও একরম অপ্রাকৃতিক এবং একরৈখিক জ্ঞানের ধারণা। আলোও শেষ বিচারে সেরকম আচরণ করে না, জল কিম্বা হাওয়াতো মোটেও নয়। এরা, দেখতেই দেখা যায় বড় বিশৃঙ্খল, কিন্তু শেষে গিয়ে ওদেরকেও একটা শৃঙ্খলা না মেনে নিলে কাজ চলে না। কথা হচ্ছে, আপনি কখন, কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন আর কোন দিকে তাকাচ্ছেন। সেই ‘আপনি’ হতে পারেন ব্যক্তি কিম্বা সমাজ, অঞ্চল, জাতি, ধর্মীয় সম্প্রদায়, বর্ণ, প্রদেশ, রাষ্ট্র, লিঙ্গ ইত্যাদি যা কিছু অগুনতি পরিচিতি আপনি ধারণ করেন তার সম্মিলিত প্রতিনিধিও। মানুষ যখন কথা বলে, কিম্বা কাজ করে তখন সে কেবল একা করে না, তার সঙ্গে করে তার সমগ্র সমাজের স্মৃতি-সত্তা-স্বপ্ন, সে যখন খুবই ব্যক্তিকেন্দ্রিক তখনো।
        
     এবারে আমি মোটামোটি আমার কথা বলবার মতো জায়গাতে এসে গেছি। আমিও যে মাওয়ের নির্দেশে জনগণের থেকে শিখে এসে বলছি তা নয়। তবে জনগণের একটা বিশাল অংশ আজকাল কথা বলেন দৈনিক কাগজে । আরেকটা বিশাল অংশ সেখানে বলেনও না । প্রতাপের নিচে ঢাকা পড়ে যাওয়া সেই নীরবতাগুলোও কান পাতলে খানিকটা শোনা যায় বটে, কিন্তু না শোনা অংশটাই বেশি। এই সীমাবদ্ধতার কথা শুরুতেই জানিয়ে নিই। বস্তুত, অসমে বাংলা সংবাদপত্র এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যমের প্রচার প্রসার সাম্প্রতিক কালে  বাঙালির রাজনৈতিক ভাবনার জগতে এক নতুন মাত্রা নিয়ে এসছে। কেবল এই নিয়েই একটা নিবন্ধ দাঁড় করানো যায়।
প্রসঙ্গঃ  অসমের  দুই  উপত্যকা  এবং  বাঙালি
             একটা সময় ছিল যখন, বাঙালিকে নিয়ে বৌদ্ধিক চর্চাতে বরাক উপত্যকার অনেকটা একাধিপত্য ছিল। মনে করা হতো যে অসমিয়া উগ্র-জাতীয়তাবাদের চাপে এবং তাপে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। একটা সহানুভূতির হাওয়া বইত। কিন্তু এখন একাধিক বাংলা দৈনিক এবং সাময়িকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা যখন তাঁর বৌদ্ধিক অস্তিত্বের জানান দিতে শুরু করেছে তখন সেই সহানুভূতি নিজের প্রতিষ্ঠা রক্ষার দায়ে তার চেহারা বদল করতে শুরু করেছে । সেটা এতোটাই যে জনপ্রিয় সাংবাদিক এবং সম্পাদক সুকুমার বাগচিকে গেল ১০ এপ্রিল,১১ র দৈনিক যুগশঙ্খে উত্তর সম্পাদকীয়তে কলম ধরতে হয়। তাঁর লেখার শিরোনাম ছিল , “প্রসঙ্গঃ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালি—সাধু উদ্দেশ্যই যথেষ্ট নয়, সহানুভূতির সঙ্গে সত্য নিষ্ঠাও কাম্য” সেখানে তিনিও নাম না করে তাঁর পরিচিত এক লেখকের একটি লেখার সূত্র ধরে আলোচনাকে টেনেছেন। সেই অনামা লেখকের সঙ্গে দুটো বিষয়ে তাঁর দ্বিমতের কথা তিনি জানিয়েছেন শুরুতেই, “ উক্ত নিবন্ধ রচয়িতার একটি সিদ্ধান্ত নিম্নরূপ: ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অধিকাংশ বাঙালিই বাড়ির বাইরে ...বাংলায় কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন আর সেই কারণেই নাকি বরাক উপত্যকার বাঙালিদের সঙ্গে প্রথমোক্তদের দূরত্ব প্রায় চরমে পৌঁছে গেছে।তাঁর আরো বক্তব্য এই যে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বাঙালিদের উদাসীনতা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে বাঙালিরাও নাকি বাঙালিদের সঙ্গে অসমিয়া ভাষাতেই কথাবার্তা বলেন। দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে উক্ত লেখক ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালিদের ব্যঙ্গবাণে বিদ্ধ করেছেন তা হলো বরাক উপত্যকায় ভাষা শহীদের রক্তস্নাত উনিশে মে । তাঁর আপত্তির কারণ কলকাতার বাঙালিরা যথাযথ মর্যাদায় এই দিনটি পালন করে থাকেন, বরাকের ১৯মের আত্মত্যাগের কথা পশ্চিম বঙ্গ, বাংলাদেশ, ঝাড়খণ্ড ও ত্রিপুরার বাঙালিরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করলেও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙ্গালিরা দিনটি উদযাপন করেন না।” স্বভাবতই শ্রীবাগচি, এর পর ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে নানা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অসমীয়া বাঙালি পাশাপাশি বাস করেন। নানা সময়ে পারস্পারিক তিক্ততার সৃষ্টি হলেও সদ্ভাবের অভাবটাও যে নেই সেই কথার সঙ্গে বিদেশি বাছাইয়ের নামে, ডি-ভোটার করিয়ে হেনস্তা ইত্যাদির উল্লেখ করেও লিখেছেন বাড়ির বাইরে এরা বাংলাতে কথা বলেন না বা বাংলা চর্চা করেন না এ ডাহা মিথ্যে প্রচার। তিনি, এই উপত্যকাতে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের ক্রম-সম্প্রসারণের এক লম্বা তালিকা দিয়েছেন। আমাদের তার পুনরুল্লেখ করবার দরকার দেখি না । ১৯মে পালিত হয় না, এই তথ্যটাও সত্য নয় বলেই তিনি লিখেছেন।
           তর্কটা এখানেই ফুরিয়ে গেলে কোনো কথা ছিল না। দিন কতক পরে অধ্যাপক লেখক জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত দৈনিক সকালবেলাতে লিখলেন আরেকটি উত্তর-সম্পাদকীয়। শিরোনামঃ “ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ”। তাঁর শুরুটিই ছিল এরকম—“একটা পরিস্থিতির কথা ভাবা যাক। ধরা যাক, দু-হাজার কুড়ি সাল নাগাদ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে বাংলা ভাষা চিরতরে হারিয়ে গেল। অর্থাৎ এই ভূখণ্ডে একজন বাঙালিও আর রইলেন না । তখন কী হবে ? উদাসীন বলবেন, যা হবার তা হবে। অন্তত 'গেল' 'গেল' এই রবটা আর থাকবে না। যা যাবেই তা কি ধরে রাখবার জিনিস ? অন্যদল বলবেন, এমনটা যে হবে তা অনেকদিন আগেই জানতাম -- ভবিষ্যদ্বাণী তো করেই রেখেছিলাম। তিন নম্বর সম্ভাবনা হল, বরাক বা পশ্চিমবঙ্গের গবেষককুল আকুল হয়ে উঠবেন এর কারণ অনুসন্ধানী গবেষণাপত্র তৈরি করতে। জ্ঞানরাজ্যের ফলন বেশ ভালোই হবে । জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো সরগরম হবে। যাঁরা এখনকার ভবিষ্যদ্বক্তা, তাঁদের চাহিদা তখন তুঙ্গে। কারণ তাঁরাই তো এমন একটা পরিস্থিতির প্রধান ব্যাখ্যাতা এবং উপাদান সংগ্রাহকের ভূমিকা গ্রহণ করবেন !” স্পষ্টতই এটা বোঝা গেল, ব্যক্তি যখন কথা বলেন তিনি এখন একা বলেন না। এখানে একটি ভাষিক সম্প্রদায় কথা বলছে । জ্যোতির্ময়েই পাচ্ছি, “অথচ দৈনিক সংবাদপত্র বা অন্যান্য সাময়িক পত্রাদিতে আমরা কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে বেশ কিছু সুষম (balanced) লেখা পড়েছি। সেগুলোতে সমস্যার উত্স ও সমাধানসূচক কিছু সম্ভাবনাময় প্রস্তাব সম্পর্কেও জেনেছি । এর মধ্যে নিজেরও কয়েকটা নিবন্ধ রয়েছে । এছাড়া ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাংলা ভাষাচর্চার ইতিবাচক নানা দিকের খবরও সংবাদপত্রে পেয়েছি । সেগুলো কেন যে নেতিবাচক সমালোচকদের চোখ এড়িয়ে যায় তা বুঝি না । তাই না জেনেশুনে কিছু বিরূপ উক্তি বা হা-হুতাশ যখন করতে দেখি তখন লেখাগুলোকে মনে হয় বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অথবা গড্ডলিকাপ্রবাহে ভাসমান প্রলাপ। ” তদুপরি স্থান পালটালে বয়ান      ( narrative) পাল্টায় তাও দেখা গেল, তাতেই বরাক ব্রহ্মপুত্র পশ্চিম বাংলা-কথাগুলো আসছে।  আমরা যে ‘জ্ঞানবিশ্বের প্রতাপে’র আতঙ্কের কথা বলছিলাম, জ্যোতির্ময়ের ইঙ্গিতও অনেকটাই সেদিকেই।“জ্ঞানরাজ্যের ফলন বেশ ভালোই হবে । জাতীয়-আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলো সরগরম হবে।”
       
         জ্যোতির্ময় বেশ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গেই লিখছেন, “আত্মীকরণ মানে কিন্তু আপোষ নয়, আত্ম-বিনষ্টিও নয়। অন্যকে জানার মাধ্যমেই আত্ম-বিস্তার ঘটে -- বাঙালি এ-ভাবেই জগতের আনন্দযজ্ঞে নিমন্ত্রণ পেয়েছিল। নিজেকে কূপমণ্ডূক করে রেখে নয়। অসম সাহিত্য সভার সাম্প্রতিক ক্রিয়াকর্মের দিকে চোখ রাখতে অনুরোধ করছি । শুভকাজ যত ছোটই হোক, যত ত্রুটিই থাকুক আয়োজনে -- তার প্রভাব ও ব্যাপ্তি সুদূরপ্রসারী। এখানে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রাবন্ধিকেরা সাহিত্য সভার কাজকর্মগুলোকে যদি সমর্থন করতে পারেন তবে আখেরে বাংলা ভাষারই লাভ। বলা বাহুল্য, এতে অসমিয়া বা বাঙালি জাতিসত্তার কোনও রকম হানি হচ্ছে না। এছাড়া অসম ও বাংলাকে কেন্দ্রে রেখে সাহিত্য অকাদেমি যে কাজগুলো করছেন সে-সম্পর্কে সদর্থক বিশ্লেষণেও লেখকেরা এগিয়ে আসতে পারেন। গুয়াহাটির 'সাতসরী' সাময়িক পত্রিকাটি অসমিয়া ও বাঙালিদের সম্পর্ক নিয়ে যে দুটি অসাধারণ সংখ্যা করেছিল বা স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে অসমিয়া ছাত্র-ছাত্রীরা যে বাংলা সাহিত্য পড়েন (অনেক কলেজে বাংলার অধ্যাপকেরাই সেগুলো পড়ান), সে-সম্পর্কে দু-কলম প্রশংসাসূচক মন্তব্য যদি এই প্রাবন্ধিকেরা লিখতে পারেন তবে আশা করি তাঁদের মনে হবে না যে, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ ঘোর অন্ধকারে।”
             ১৯শমে পালন করা না করা নিয়ে তিনি লিখছেন, “আমি আগেও বলেছি, যা দূরতর ইতিহাস, সে-সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র চেতনা বর্তমান প্রজন্মের নেই। তবু এখানে নিয়ম করে উনিশে মে বা একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। অথচ ভালো করেই জানি, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় যাঁরা শহিদ হয়েছেন (সংখ্যাটা এগারোর চেয়ে বেশি হলেও), তাঁদের জন্য উপত্যকার বাইরে বাংলা ভাষার শুভচিন্তকেরা কখনও কোনও সভা আয়োজন করেননি। করে থাকলে আমাকে পরিসংখ্যান জানাবেন, আমি মন্তব্য তুলে নেব। বর্তমান সময়ে বাঙালিরা পরস্পর অসমিয়াতে কথা বলেন -- এই অভিযোগও অবান্তর। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সাধারণ ভাবেই ইংরেজিতে নয়, অসমিয়াতে কথা বলাই এখানকার রীতি। যস্মিন দেশে যদাচারঃ। এতে বোঝায় না যে এখানকার বাঙালিদের জন্যই বাংলা ভাষার নাভিশ্বাস উঠেছে। ” আমরা কেবল ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলব না । কিন্তু যদি ‘বাঙালি’ পরিচিতিটাকেই ধরতে হয় তবে ভাষা এবং তাকে নিয়ে চিন্তাটাই হিসেবের কেন্দ্রে আসে বটে । আর সেখানেই যে দুই উপত্যকার ভেদরেখাটি দেখা দিচ্ছে তা এ অব্দি এসে স্পষ্ট হয়ে আসছে । বাকি প্রদেশগুলো বা স্বাধীন দেশ বাংলাদেশের কথা না হয় উহ্যই রইল।
          সুকুমার বাগচি বা জ্যোতির্ময় সেনগুপ্ত ঠিক কোন লেখক বুদ্ধিজীবিদের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন সৌজন্যবশত স্পষ্ট করেন নি। কিন্তু আমাদের কাছে এমন কিছু রচনার সন্ধান রয়েছে । ২০১০এর উনিশে মে তারিখে জয়দীপ বিশ্বাস দৈনিক যুগশঙ্খে এক উত্তর সম্পাদকীয় লিখেছেন, “উনিশ নিয়ে অন্য কথা” । সুকুমার বাগচির উদ্দিষ্ট লেখকের মতো, জয়দীপও লিখেছেন, “বরাক উপত্যকা নিয়ে যে উপত্যকা বিভাজন, তখন তা বোঝানো হতো অসমিয়া বাঙালি বিভাজনের উপমা হিসেবে। কিন্তু ইদানীং আমার মনে হয়, অসমের বাঙালিরাও এই উপত্যকা বিভাজনের মধ্যে চলে এসছেন।” আমরা জয়দীপের লেখাটিকে একটি বিশ্লেষণের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেব, কারণ এতে গোটা অসমের বাঙ্গালির ভাবনাকে ধরবার এবং দুই উপত্যকার সম্পর্কসূত্র নির্ণয়ের প্রয়াস আছে। তাই এর উল্লেখ ঘুরে ফিরেই আসবে ।
           নিবন্ধের পূর্বভাগে জয়দীপ ছেলেবেলার লামডিঙের বাঙালি পরিবেশ, সেই পরিবেশ নষ্ট করতে অসম আন্দোলনের ভূমিকার স্মৃতিচারণ করেছেন। নেলির গণহত্যার কথাটাও লিখেছেন। ১৯৭৯-৮০র অসমেই স্বাধীনতার পর সবচাইতে বেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস  হয়েছে এবং এই নিয়ে জ্যোতির্ময়ের মতো তিনিও ইতিহাসের মৌনতা নিয়ে আক্ষেপ জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবাদী অবস্থানে তিনি কেবল পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, লামডিঙের সিপিএম বিধায়ক বীরেশ মিশ্রের কথাই জেনেছেন, উল্লেখ করেছেন। তাতে অসুবিধে কিছু নেই। কেননা , তিনি স্মৃতিচারণ করছিলেন, ইতিহাস লিখছিলেন না এই স্বীকৃতি রয়েইছে। সুতরাং ১৯৮৬র ভাষা আন্দোলনের , “সময়েও লামডিঙে বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অন্যত্রও কোনো উত্তাপই সঞ্চারিত হয়নি।” এরকম সরলোক্তিও করেছেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে বড় হওয়া একজন সুসন্তান যখন কোনো এরকম সরলোক্তি করেন, তখন বোঝা যায় এর পরের চিহ্নায়নরেখাটি কোন খাতে বইবে। আমরা শুধু উল্লেখ করে চলে যেতে চাই যে, মাত্র চার বছর আগে নেলি গোহপুর হয়ে গেছে আর এক বছর আগে সেই অসম আন্দোলনের নেতৃত্ব সরকারে বসেছে । আতঙ্ক, গ্রাসকরে রাখাটাই স্বাভাবিক তখন। কিন্তু, রাজ্যের সমস্ত জানজাতীয় সংগঠনগুলো তখন আটসুর নেতৃত্বে সেবা সার্কুলারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। গুয়াহাটি, হাফলঙে বড় বড় সম্মেলনও হয়ে গেছিল এই নিয়ে। ২১ জুলাইর পর মূলত তাদের দেয়া চরমপত্রের ফলেই ১৫ আগষ্ট সেই সার্কুলার স্তগিত করেছিল সরকার। তখন ওদের পাশে চাপা স্বরে হলেও আমসু এবং বাঙালি যুবছাত্র ফেডারেশনও ছিল। বিধানসভাতে ইউ এম এফ